২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৬ ১০:৪৭ এএম

এমবিবিএস পাশ না করেই তিনি ডাক্তার!

এমবিবিএস পাশ না করেই তিনি ডাক্তার!

স্পেশাল রিপোর্ট :: প্যাডে লেখা নাম তার ডাঃ হারুন অর রশিদ। কিন্তু পাস করেননি এমবিবিএস। সে দাবিও তার নেই। তবুও ডিগ্রী লাগিয়েছেন-”এমপিএইচ (এনসিডি) সিসি ঢাকা, বিএসপিটি (ডিইউ) নিটর (ঢাকা পঙ্গু হাসপাতাল), পিজিটি (নিউরো ফিজিও) বিএসএমএমইউ (পিজি হাসপাতাল ঢাকা), স্পেশাল ট্রেনিং ইন ব্যাক পেইন এন্ড মাসকুলো স্কেলিটাল সিস্টেম, পঙ্গু,বাত-হাড়জোড় ব্যাথা, প্যারালাইসিস ও স্পোটস ইানজুরি বিশেষজ্ঞ”।

এ ব্যাপারে ডাঃ হারুন অর রশিদের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আসলে এসব ডিগ্রী নিতে এমবিবিএস পাশ করতে হয় না। আমি যেসব ডিগ্রী লাগিয়েছি সেগুলো এমবিবিএস পাশ সমমান। আপনার কোন রেজি: নম্বর নেই কেন ? এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি বিএমএ সংগঠনের সদস্য নই, আমি বিপিএ’র সদস্য। তাই আমার কোন রেজিষ্ট্রেশন নম্বর নেই।

সেই ডাঃ মোঃ হারুন আর রশিদ ৪টি স্থানে চেম্বার খুলে রোগী দেখেন নিয়মিত। এগুলো আছে- নীলফামারীর জেলা সদরের ভবানীগঞ্জ, ডোমার সদর, ডিমলা মেডিকেল মোড় ও পঞ্চগড়ের দেবিগঞ্জ উপজেলা সদরে। 

সম্প্রতি জনৈক মোঃ মোজাম্মেল হক ৬০ বছর বয়সী এক রোগীকে দেয়া প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী দেখা যায়, একটি প্রেসক্রিপশনে একই দিনে ১৪ (চৌদ্দ) প্রকারের ওষুধ লিখেছেন কথিত ডাক্তার হারুন আর রশিদ। লম্বা ঔষধের তালিকার এই প্রেসক্রিপশন দেখে মনে হয় যেন রোগীর জন্য নয়, কোম্পানীর সম্মান রাখতেই এত ঔষধ লেখা হয়েছে।

ওষুধগুলি হচ্ছে- (১) ট্যাব-সিনারন প্লাস ১৫ মি.গ্রা, (২) ট্যাব-পেনোডিন এস আর ৬০০ মি.গ্রা, (৩) ট্যাব-প্রোপানল ১০ মি.গ্রা, (৪) ট্যাব-লসিটা ১০মি.গ্রা, (৫) ট্যাব-করটি প্লাস, (৬) ক্যাপ-পিপিআই ৪০ মি.গ্রা, (৭) ট্যাব-বেকলো ১০ মি.গ্রা, (৮) ট্যাব-মেলপেরেড ৪ মি.গ্রা, (৮) ট্যাব-টিপিসি, (১০) ট্যাব-এক্স-ট্রাকল ডি, (১১) ট্যাব-হেক্সিনর ৫ মি.গ্রা, (১২) ট্যাব- ডি-ডোপা, (১৩) ১টি ওর-সেলাইন+১টি গ্লুকোজ+লবণ খেতে হবে এবং (১৪) ইনফিউশন- প্রোলিভ/এমাইনোমেক্স, মিনিটে ২০ ফোটা করে।

সাধারণত: বিশেষজ্ঞ ডাক্তারগণ রোগী দেখে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করে ৩ থকে ৪ ধরনের বেশী ওষুধ লিখতে চান না কিংবা লিখেন না। অথচ কথিত ডাক্তার হারুন আর রশিদ ঐ রোগীর সিবিসি, ইএসআর, এইচএল ও আরবিসি পরীক্ষা করিয়ে ওষুধ লেখেন ১৪ প্রকারের। 

একই প্রেসক্রিপশনে এত ওষুধ লিখেছেন এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কিছু কিছু ক্ষেত্রে ২০ থেকে ২২ প্রকারের ওষুধ দেয়া যেতে পারে, এটা হলো রোগীর রোগকে কন্ট্রোল করার জন্য। সুতরাং আমি যা লিখেছি তার ব্যাখা আমার কাছে আছে।

প্রশ্ন করা হয় বিশেষজ্ঞ ডাক্তারা তো এত ওষুধ লেখেন না?

উত্তরে কথিত ডাক্তার হারুন অর রশিদ বলেন, তাদের প্রেসক্রিপশনে কয়জন রোগী ভালো হয়- বলতে পারেন? দেখবেন আমাদের চিকিৎসায় বেশী রোগী ভালো হয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত