অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন

অধ্যাপক ডা. আবুল হাসনাৎ মিল্টন

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও চেয়ারম্যান, ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি এন্ড রাইটস (এফডিএসআর)।


১৯ জানুয়ারী, ২০২০ ১০:৫৩ এএম

অপচিকিৎসা রোধে এসব চটি বই নিষিদ্ধ করা হোক

অপচিকিৎসা রোধে এসব চটি বই নিষিদ্ধ করা হোক

রাতে ঘুমোতে যাবার আগে ফেসবুকের ইনবক্সে ‘ড্রাগ ইনডেক্স’ নামের একটা বইয়ের প্রচ্ছদের ডিজাইন দেখে চমকে উঠলাম। সেই সাথে প্রচ্ছদের ডানে ও বামে ড্রাগ ইনডেক্স বইটি কেন পড়বেন এবং কারা পড়বেন তা লেখা আছে।

বইটি কেন পড়বেন, তার কারণ হিসেবে লেখা আছে- রোগ, চিকিৎসা ও ওষুধ সংক্রান্ত বাংলা ও ইংরেজি ভাষায় লিখিত বাংলাদেশে প্রথম বই “ড্রাগ ইনডেক্স”, রোগ অনুযায়ী বিভিন্ন ধরণের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ, ১২০টি ওষুধের সকল তথ্য, ৬০টিরও বেশী রোগের চিকিৎসা পদ্ধতি, হিউম্যান বডি সিস্টেম অনুযায়ী রোগ ও ওষুধ, প্রাথমিক চিকিৎসা, ৯৫০টি ওষুধের প্রেগন্যান্সি ক্যাটাগরি।

ড্রাগ ইনডেক্স বইটি কারা পড়বেন সেই তালিকায় লেখা আছে- ডাক্তার, ইন্টার্ণ ডাক্তার, এমবিবিএস ছাত্রছাত্রী, ডিএমএফ ডাক্তার, মেডিকেল এসিসটেন্ট, গ্রাজুয়েট ফার্মাসিস্ট, ডিপ্লোমা ফার্মাসিস্ট, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, নার্স, আরএমপি ডাক্তার, পিসি ডাক্তার।

এমনিতেই দেশে এখন ডাক্তারের অভাব নাই। কয়েক সপ্তাহের নামমাত্র প্রশিক্ষণ নিয়ে হাতুড়ে ডাক্তার থেকে শুরু করে ডিপ্লোমা টেকনোলজিস্ট, প্যারামেডিক্স, এমন কী ওষুধের দোকানদারও নামের আগে ‘ডাক্তার’ লাগিয়ে দেশের আনাচে-কানাচে চিকিৎসার নামে অপচিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন ওষুধ, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক ও স্টেরোয়েডের অপপ্রয়োগ করে অধিকাংশ সময়ে রোগীর জীবন বিপন্ন করে তুলছে। অনেক সময়ে দেখা যায়, হাতুড়ে ডাক্তারদের ভুল চিকিৎসার শিকার হয়ে এরা যখন এমবিবিএস ডাক্তার বা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের কাছে কিংবা হাসপাতালে আসেন, ততক্ষণে ডাক্তারের আর কিছু করার থাকে না। এহেন পরিস্থিতিতে ‘ড্রাগ ইনডেক্স’ এর মত চটি জাতীয় বই আগুনে ঘি ঢালার মতই। এই বই পড়ে বিভিন্ন পর্যায়ের ডাক্তাররা আরো উৎসাহ নিয়ে তাদের অপচিকিৎসা চালিয়ে যাবে, যা অসংখ্য মানুষকে মৃত্যুঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবে।

চটি বইটির লেখক মো: আল-আমীন। মানুষের চিকিৎসা করা যদি এতই সহজ হতো, তাহলে কেন পাঁচ বছর পড়াশুনা করে এবং এক বছর ইন্টার্ণশীপ করে কেন একজন ডাক্তার হবেন? আর চিকিৎসার নামে যত্রতত্র নামের আগে ‘ডাক্তার’ লিখে ভুয়া ডাক্তারেরা যে প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষের জীবনকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছে, তার দায় কে নেবে?

অচিরেই জনগণের চিকিৎসা সেবার উপর ক্ষতিকর প্রভাব সৃষ্টিকারী এই বইটি নিষিদ্ধ করা হোক। চিকিৎসার নামে জনগণকে প্রতারিত করা বন্ধ হোক। ভুয়া ডাক্তারদের হাত থেকে রোগীর জীবন বাঁচান।

প্রিয় চিকিৎসক, আপনিও মেডিভয়েস অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত মতামত, দেশ-বিদেশে চিকিৎসকদের বিভিন্ন সাফল্য, পুরস্কার, মেডিকেল ক্যাম্পাস, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শসহ লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-[email protected]-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।
Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত