১৮ জানুয়ারী, ২০২০ ১০:০৪ এএম

বাংলাদেশের ভিসা পাচ্ছেন কাশ্মীরের মেডিকেল শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশের ভিসা পাচ্ছেন কাশ্মীরের মেডিকেল শিক্ষার্থীরা
কাশ্মীরী মেডিকেল শিক্ষার্থী। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কাশ্মীরের মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জরুরি ভিত্তিতে ভিসা ইস্যুর নির্দেশনা দিয়েছে ঢাকা। ঢাকার গ্রিন সিগন্যালের পর শুক্রবার থেকে ভিসা ইস্যু শুরু হয়েছে বলে দৈনিক মানবজমিনের খবরে বলা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্র জানিয়েছে, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে ‘কাশ্মীরিরা বাংলাদেশের ভিসা পাচ্ছে না’ শিরোনামে প্রকাশিত খবরের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারের তরফে সংশ্লিষ্ট মিশনগুলোতে জরুরি ওই নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। 

গত ১২ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্র মন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ সংক্রান্ত রিপোর্ট মিথ্যা বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। 

তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, মেডিকেল শিক্ষার্থীদের বাংলাদেশ ভিসা দিচ্ছে না মর্মে যে সংবাদ প্রচার করা হচ্ছে তা পুরোপুরি সত্য নয়। ভর্তি প্রক্রিয়ার কিছু কাজ বাকি থাকার কারণে ভিসা ইস্যুতে জটিলতা তৈরি হয়েছিল।

তারা বলেন, কারও ভিসা আবেদন প্রত্যাখ্যাত হয়নি, বরং ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার অপেক্ষায় আবেদনগুলো ঝুলে ছিল। সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে ‘ভর্তি কার্যক্রম অসম্পূর্ণ রেখেই’ ভিসা প্রদানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা। 

কী কাজ অসম্পূর্ণ রেখে ভিসা প্রদানের নির্দেশনা দিলো ঢাকা জানতে চাইলে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আবেদনকারী শিক্ষার্থীদের জমাকৃত কাগজপত্র যাচাই এবং তারা যে সিস্টেমে ‘হাইয়ার সেকেন্ডারি’ পড়েছেন বাংলাদেশের এইচএসসিতে পড়ানো বিষয়গুলোর সঙ্গে তার কোন ভিন্নতা আছে কি-না? সেটির মূল্যায়ন এবং সদন, মার্ক যথাযথ হওয়ার পরই ভিসা ইস্যু হয়। কিন্তু সংবাদপত্রে খবর প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতের এবার আগে ভিসা, পরে সনদের যথার্থতা যাচাইয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

এটি নেপাল, ভূটান, আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, পাকিস্তানসহ বাংলাদেশে মেডিকেল পড়তে আসা বিদেশি সব শিক্ষার্থীদের বেলায় প্রযোজ্য হবে জানিয়ে এক কর্মকর্তা বলেন, অন্যরাও ভিসা জটিলতায় ছিলেন, কিন্তু খবর হয়েছে স্পর্শকাতর কাশ্মীরী শিক্ষার্থীদের নিয়ে! সেখানে দিল্লিকেও টেনে আনা হয়েছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। 

কর্মকর্তাদের দাবি বাংলাদেশে পড়ুয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের বিষয়ে যে কোনো সিদ্ধান্ত নিতে স্বরাষ্ট্র, পররাষ্ট্র, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন হয়। এতেও কিছুটা সময়ক্ষেপণ হয়। কর্মকর্তারা আশা করছেন, নির্দেশনার ফলে এখন আর মেডিকেল পড়তে আসা শিক্ষার্থীদের ভিসাপ্রাপ্তিতে কোনো ঝামেলা হবে না।   

যা ছিল ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে রিপোর্টে  

ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম নর্থইস্টনাউ—‘কাশ্মীরী মেডিকেল স্টুডেন্টস রাশিং অল অভার ফর বাংলাদেশ ভিসা’ শিরোনামে সর্ব প্রথম রিপোর্ট প্রকাশ করে। অনলাইনে প্রকাশিত রিপোর্টটির বরাতে অন্যান্য সংবাদ মাধ্যমেও খবরটি প্রচার হয়। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে প্রবেশের ভিসা পেতে ব্যর্থ হয়ে প্রায় সাড়ে তিনশ কাশ্মীরী মেডিকেল শিক্ষার্থী এক মাস ধরে দিল্লি, কলকাতা, গোয়াহাটি ও আগরতলায় আটকে আছেন। ভারতের অন্যান্য রাজ্যের শিক্ষার্থীরা কোনো সমস্যা ছাড়াই ভিসা পাচ্ছে বলেও উল্লেখ করেন রিপোটটির লেখক কলকাতার সাংবাদিক সুবীর ভৌমিক। 

বাংলাদেশের মেডিকেলে পড়াশোনার জন্য শিক্ষার্থীদের পাঠায় এমন প্রতিষ্ঠানের একাধিক ব্যবস্থাপকের নাম প্রকাশ না করে উদ্বৃত করে রিপোর্টে বলা হয়—তাদের অভিযোগ ভিসা পেতে দীর্ঘ বিলম্বের কারণে তারাও সমস্যায় পড়েছেন। ওই কোর্সের জন্য অর্থ পরিশোধকারী অভিভাবকরা এখন পরিশোধিত অর্থ ফেরত চাইছেন। 

এক ব্যবস্থাপক বাংলাদেশের ভিসা প্রদান বিলম্বের পেছনে দিল্লির হাত থাকতে পারে এমন অভিযোগও করেন। তিনি আরও বলেন, ভারতের অন্যান্য রাজ্যের ছাত্রদের ভিসা দেয়া হলেও কাশ্মীরি শিক্ষার্থীদের ভিসা দেয়া হচ্ছে না। তবে ওই রিপোর্টেই আরেকটি এডুকেশনাল কনসালটেন্সির ব্যবস্থাপক বলেন—তার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ২০ জনের মতো কাশ্মীরি শিক্ষার্থীও ভিসা পেয়েছে। তারা বাংলাদেশে পৌঁছেও গেছেন।

এদিকে ওই রিপোর্টের পরিপ্রেক্ষিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় প্রচারিত তাৎক্ষণিক এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছিল, বাংলাদেশে আগমনেচ্ছু বিদেশি শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে সরকার অত্যন্ত যত্নবান। ভারতসহ পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে যেসব শিক্ষার্থী বাংলাদেশে সরকারি ও বেসরকারি চিকিৎসা মহাবিদ্যালয়সমূহে অধ্যয়নের জন্য এসে থাকেন তাদের ভর্তি, ভিসা সহজিকরণ এবং নিরাপত্তায় সরকার সর্বোতভাবে সহযোগিতা প্রদান করে। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি