১৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০৩:৫০ পিএম
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

একজন চিকিৎসকের একটা ডিগ্রির সাথে কতো অজস্র অশ্রুজল থাকে আমরা জানি না। দিন শেষে ডিগ্রির দু’চারটি অক্ষর নেমপ্লেটে শোভা বাড়ায়, অথচ এই অক্ষরগুলো অর্জনে ফিকে হয়ে যায় কতোগুলো বছর। ফিকে হয়ে যায় সামাজিকতার রসম, জীবনের বালুকাবেলায় উত্তাল ঢেউয়ের মতো বার বার আছড়ে পড়ে আবেগের বান। অশ্রুজলে অসংখ্যবার অস্পষ্ট হয় প্রিয়মুখগুলো, তবুও এগিয়ে যেতে হয় একজন চিকিৎসককে; ভালোবাসার হাজার আহবান উপেক্ষা করে তাকে ছুটে যেতে হয় মানবতার সেবায় নিজেকে যোগ্য করার প্রত্যয়ে... এ পথ বড় বন্ধুর।

এ বছর এমনই কন্টকাকীর্ণ পথ পাড়ি দিয়ে সফলতার সোপান স্পর্শ করলেন ডাক্তার সাইফ খান মার্ক। অভিনন্দন মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. সাইফ খান মার্ককে। অভিনন্দন তার স্বজনদেরকেও! ভালোবাসার এ আবাহন জারি থাক হাজারো বছর। অনেক কিছু হারিয়েও ফের ফিরে পান জীবনের স্নিগ্ধতা।

এফসিপিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণের পর ডা. সাইফ খান মার্কের অনুভুতি:

২০১৯ সালের ১ ফেব্রুয়ারী, এফসিপিএস প্রস্তুতির যাত্রা শুরু। যদিও ইচ্ছে ছিল জানুয়ারি থেকেই, তবে সবকিছু গুছিয়ে নিয়ে আসতে একমাস সময় লেগে যায়। শুরুতে ভেবেছিলাম ডেভিডসন বইটি যথেষ্ট হবে, কিন্তু দেখলাম এর বাইরেও অনেক কিছু আছে। এ তো পড়া নয়, বিশাল সমুদ্র! যতই পড়ি, ততই ভুলি। শুরুর দিকের সেই দিনগুলো ছিল হতাশার, তবু্ও বুকে আশা বেধে আবার পথ চলা। তিনমাস পর পড়া কিছুটা সাইজ সেইপে আসলো। যখন হতাশ হতাম, এই সুখের দিনটার কথা চিন্তা করতাম, আর সাহস দিতাম। চিন্তা করতে করতে, কোন ফাকে চোখের কোণে পানি চলে আসতো, টেরই পেতাম না!

যেকোন সাফল্য এমনি আসে না। নিজের বাদেও, পিছনের অনেক মানুষের অবদান থাকে। আমার পরিবার, কাছের মানুষের কাছে আমি চিরঋণী।

আমার বাবা-মা দুজনেই খুব ইমোশনাল প্রকৃতির। ছেলের এই পরীক্ষা দুজনকেই প্রায় অসুস্থ করে দিয়েছিল। গত এক সপ্তাহ তারা ছিল নির্ঘুম। যেদিন যেদিন পরীক্ষা ছিল,তারা সারারাত জেগে দুআ পড়তো। লিখিত পরীক্ষা ছিল ১ তারিখ, ৩১ ডিসেম্বর সবাই আনন্দে বাজি ফুটাচ্ছে। আমরা সালাতুর তাসবিহ নামায আদায় করে, আল্লাহর কাছে রাত ১২ টায় মুনাজাত ধরলাম। আমার বিশ্বাস ছিল, মা-বাবার দুআ কখনো অপূর্ণ থাকে না।

আপনি মানসিক অশান্তি নিয়ে কখনোই নির্বিঘ্নে লেখাপড়া করতে পারবেন না। আমার অর্ধাঙ্গিনী এই সময়ে আমাকে যে মানসিক সাপোর্ট দিয়েছে, সেটা কোন কিছু দিয়েই পূরণ হবে না। বাবার দায়িত্ব পূরণ করতে পারিনি, আজারগুনের সকল দায়িত্ব সে একাই পালন করেছে। আমার আরেক বাবা মাও সেক্ষেত্রে অনেক কষ্ট করেছে।

আমার আজারগুনকে সময় দিতে পারিনি, তারপরও যখন সে আমাকে পেতো আকড়ে ধরতো, কাউকে আমার কাছে আসতে দিত না। তার এরকম বাবা-প্রিয়তার জন্য শেষের কয়দিন তার সাথে দেখাও করতে পারিনি। আমার লিখিত পরীক্ষার আগের দিন আমার এই ফেরেশতা আল্লাহ আল্লাহ বলে আমার মাথা, হাত বুলিয়ে দিয়েছে, সেদিনই আমি আল্লাহর ইশারা বুঝে গিয়েছি।

আমার ছোট ভাই শেষের তিন মাস এফসিপিএস পার্ট ১ এর জন্য আমার সাথে ছিল লাইব্রেরিতে। আমরা প্রতিদিন রাত ১১ টা পর্যন্ত সেখানে থাকতাম। একজন হতাশ হয়ে গেলে, আরেকজন সাহস জুগাতাম। আমার ছোট বোন (ইশমামের বউ) ক্লিনিক্যাল পরীক্ষার আগের দিন পরীক্ষা যন্ত্রপাতি সব ঘুছিয়ে দিল।

আমি তো পরীক্ষা দিচ্ছিলাম না, যেন আমার চাচা-ফুপুরা দিচ্ছিল। আমার মা-ফুপুরা পরীক্ষার দিনগুলোতে রোজা রেখে সারাদিন আল্লাহর কাছে চাইতে থাকো।

তাদের সকলের অবদানে গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা ২০ মিনিটে জানতে পারি আমি অবশেষে একজন এফসিপিএস (মেডিসিন)। বিসিপিএসের একজন ফেলো, আমার স্বপ্ন।আপনাদের কাছে দুআ চাই,আমার এ লব্ধ জ্ঞান যেন মানুষের কাজে আসে,আমাকে দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়, আমিন।

Add
মেডিভয়েসকে একান্ত সাক্ষাৎকারে নিপসম পরিচালক

মেধাবীরা পাবলিক হেলথে আসলে স্বাস্থ্যসেবায় গুণগত পরিবর্তন আসবে   

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না