১০ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:৫৮ পিএম

অবমুক্তির এক মাসেও পদায়িত হননি শতাধিক চিকিৎসক, তুলতে পারছেন না বেতন 

অবমুক্তির এক মাসেও পদায়িত হননি শতাধিক চিকিৎসক, তুলতে পারছেন না বেতন 

মো. মনির উদ্দিন: ৩৯তম বিসিএসে ক্যাডার পদে বিভিন্ন উপজেলায় পদায়নের পর এসব কর্মক্ষেত্র থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়ে যাওয়া চিকিৎসকদের অনেকেই এখনো কোথাও পদায়িত হননি। সুনির্দিষ্ট কোনো কর্মক্ষেত্রে সংযুক্ত না থাকায় বেতনও পাচ্ছেন না তারা। প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা অনুযায়ী স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার এক মাস পরও এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত না আসায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যে সময় পার করছেন তারা। তবে এ বিষয়ে আশার বাণী শুনিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। তারা বলেছে, অবমুক্ত হওয়া চিকিৎসকদের পদায়নের প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো সম্পন্ন হয়ে যাবে। এ সময়ের মধ্যে বেতনও পেয়ে যাবেন তারা। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩৭তম বিসিএসের একজন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমরা এক মাস ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছি। কোথায় পদায়ন হবে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি। আগে এক জায়গায় পদায়ন হয়েছিল। এখন নতুন করে কোথায় পদায়ন হবে এবং কাঙ্ক্ষিত যেসব জায়গা ছিল সেগুলোতে পদও খালি নেই। কোথাও সংযুক্ত না থাকায় অবমুক্ত হওয়া সকল চিকিৎসকের বেতনও বন্ধ রয়েছে।’

এ ব্যাপারে কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘অবমুক্ত হওয়ার পর ৩৯তম বিসিএসের প্রজ্ঞাপনের পরিপ্রেক্ষিতে গত মাসের ১২ তারিখ জানানো হয়েছে। সেখানে লেখা ছিল আমাদেরকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর রিপোর্ট করতে হবে। সে অনুযায়ী সবাই আবেদন করেছেন। কিন্তু এক মাস যাবৎ আমরা এ অবস্থায় আছি।’

কর্মক্ষেত্র সুনির্দিষ্ট না থাকায় গত ডিসেম্বর মাসের বেতন পাননি উল্লেখ করে তারা বলেন, ‘আগামী মাসে পাবো কিনা, তাও নিশ্চিত নয়। কারণ বিধি অনুযায়ী পদায়নস্থল থেকে বেতন তুলতে হয়। কিন্তু আমাদের তো এখন কোনো কর্মস্থল নাই।’ 

পূর্বের কর্মস্থলে আপনাদের বেতন হয়েছে কিনা, এ বিষয়ে খোঁজ নিয়েছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে চিকিৎসকরা বলেন, ‘বেতন বিল নিজেদেরই করে দিতে হয়। আমরা ১২ ডিসেম্বর চলে আসায় বেশিরভাগ চিকিৎসকেরই বেতন বন্ধ আছে। আর এক-দুইজন হয় তো তুলতে পারবে যদি আগেই ড্র করে আসে। কিন্তু এটা মূলত বিশেষ নিয়মে বদলির এক মাস আগে কেউ করে থাকলে অগ্রিম পেতে পারে। তবে এটা নিশ্চিত কিছু না। নিয়ম অনুযায়ী সবার বেতন বন্ধ। আমরা তো সবাই অধিদপ্তরে ন্যাস্ত, আমাদের পদায়িত কর্মস্থল নেই।’

কোনো বিসিএসের অর্ডার এভাবে না হওয়ায় ইতিপূর্বে কোনো ক্যাডারই এ অবস্থার মুখোমুখি হয়নি বলেও জানান ভুক্তভোগী চিকিৎসকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একই বিসিএসের আরও একজন কর্মকর্তা মেডিভয়েস বলেন, ‘আমরা কয়েকশ’ চিকিৎসক নিরুপায় হয়ে পড়েছি। প্রায় এক মাস হয়ে গেলো আমাদের বেতন হয় না এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে গেলেই বলা হচ্ছে, এক সপ্তাহ পর (পদায়ন) হবে। এখন আমাদের আসলে কী করা উচিত বুঝতে পারছি না। কেউ কেউ মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি সমাধান করে নিয়েছেন। ২/১ জনের রুটিন আদেশ বের হচ্ছে—তাতে দুই-চারজন হয় তো থাকছেন। কিন্তু সবার জন্য কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি।’

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলাল হোসাইন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘পদায়ন হচ্ছে, এ প্রক্রিয়াটা প্রায় শেষের দিকে।’ 

তাদের বেতন বন্ধ থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘শুধু ডিসেম্বর মাস তো, জানুয়ারি চলছে। হয়ে যাবে। আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সব সম্পন্ন হয়ে যাবে। এটি আর প্রলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা নাই।’

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকেই সবার পদায়নের আদেশ হবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সারাদেশে আমরা খোঁজ নিচ্ছি। কোথায় কী অবস্থা, কতগুলো পদ শূন্য আছে, কোন জায়গায় বেশি ডাক্তার আছে আর কোন জায়গায় কম—এগুলো দেখা হচ্ছে। এ সপ্তাহের মধ্যে সব সম্পন্ন হবে। এরই মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি চিকিৎসকের পদায়ন হয়ে গেছে।’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি