০৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০৬:২১ পিএম

মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রসারে ঠেকসই পরিকল্পনা জরুরি: সায়মা ওয়াজেদ

মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রসারে ঠেকসই পরিকল্পনা জরুরি: সায়মা ওয়াজেদ
প্রধানমন্ত্রী কন্যা সায়মা ওয়াজেদ পুতুল। ছবি: মো. শাহিদ

তানভীর সিদ্দিকী: প্রধানমন্ত্রী কন্যা ও বাংলাদেশ অটিজম অ্যান্ড নিউরো ডেভেলপমেন্ট ডিসঅর্ডার বিষয়ক জাতীয় উপদেষ্টা কমিটির চেয়ারপারসন সায়মা ওয়াজেদ পুতুল বলেছেন, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়ন ও মানসিক রোগের ঝুঁকি নিরসনে তথ্য ব্যবস্থাপনা, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং গবেষণার কোনো বিকল্প নেই। দেশের সর্বস্তরে মানসিক স্বাস্থ্য সেবার প্রসারে ঠেকসই পরিকল্পনা খুবই প্রয়োজন।

আজ বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নতুন ভবনে জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কৌশলগত পরিকল্পনা সভায় এসব কথা বলেন তিনি। 

সায়মা ওয়াজেদ বলেন, বিভিন্ন পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করতে না পারা শিক্ষার্থীদের আত্মহত্যার হাত থেকে বাঁচাতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। দেশের সকল স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট (মনোবিদ) নিয়োগ দিতে হবে। মানসিক শিক্ষাকে পাঠ্যক্রমে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সুরক্ষায় আমাদের এখন থেকেই কাজ করতে হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে এ সমস্যা আরও বেড়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে সুসংহত, আধুনিক ও বিজ্ঞান সম্মত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সুশাসন ও কার্যকরি নেতৃত্বের উপর গুরুত্ব আরোপসহ সমন্বিত মানসিক স্বাস্থ্য সেবা প্রদানের লক্ষ্যে কর্মকৌশল নিয়ে আলোচনা করেন সায়মা ওয়াজেদ হোসেন।

সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, শারীরিক স্বাস্থ্যের মতো মানসিক স্বাস্থ্যও সমান গুরত্বপূর্ণ। তবে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ে দেশের সাধারণ জনগণ এখনও কুসংস্কারমুক্ত নয়। তাদের ধারণা মানসিক স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করলে মানুষজন তাদের পাগল বলতে পারে। এটা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি উদ্বেগের বিষয়।

মন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অগ্রাধিকারভুক্ত ছয়টি রাষ্ট্রের মধ্যে বাংলাদেশ গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ ফর মেন্টাল হেলথ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য মনোনীত হয়েছে। এজন্য এ উদ্যোগের প্রধান রূপকার সায়মা ওয়াজেদ হোসেনকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন মন্ত্রী।

জাহিদ মালেক বলেন, ‘মুজিব বর্ষ উপলক্ষে আমরা ১২ মাসে ১২টি ইস্যু নিয়ে কাজ করবো। এ মাসটিতে আমরা মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করবো। পরবর্তী মাসসমূহে এরকম আরও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু নিয়ে কাজ করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা স্বাস্থ্য সেবায় একটা পরিবর্তন আনার চেষ্টা করছি। সে লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কাজ করে যাচ্ছে। একটা সময় দেশে টিবি, কলেরা, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হলে গ্রাম থেকে গ্রাম শেষ হয়ে যেত। এসব সংক্রামক রোগ নিয়ে আমরা খুবই আতঙ্কিত ছিলাম। এগুলো আমরা নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হয়েছি। তবে নতুন করে বিভিন্ন নন-কমিউনিকেবল ডিজিজেস, যেমন: ক্যান্সার, কিডনির রোগ ও ডায়াবেটিসসহ নানা সমস্যা সামনে এসে দাঁড়িয়েছে। আর এর সঙ্গে নতুনভাবে যুক্ত হয়েছে এই মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সমস্যা।

এ সময় তিনি খসড়া মানসিক স্বাস্থ্য নীতি ও কর্মপরিকল্পনায় মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের অধীনে আলাদা মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক পরিচালকের দপ্তর স্থাপনের প্রস্তাবনাটি বাস্তবায়নের জন্য উদ্যোগ গ্রহণের অঙ্গীকার করেন। এছাড়াও এমবিবিএস কারিকুলামে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়টিকে আরো গুরুত্ব সহকারে সংযোজন এবং পেশাগত পরীক্ষায় তার যথাযথ প্রতিফলনের প্রস্তাবনাকে স্বাগত জানান মন্ত্রী।

জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক ও বিশিষ্ট মনোরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহিত কামাল বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা শুধু মানসিক রোগীদের জন্য নয়, বরং এই সেবা সবার জন্য।

তিনি বলেন, মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নয়নের জন্য মনকে পরিচর্যা করতে হবে। মন কি-তা সাধারণ মানুষকে চিনিয়ে দিতে হবে। মনের জানালা হলো পঞ্চ-ইন্দ্রীয়। শিশুর সুস্থ মানসিক ও সামাজিক বিকাশের জন্য শিশু প্রতিপালন ব্যবস্থা জোরদার করতে হবে এবং এজন্য বাবা-মায়ের প্রশিক্ষণ প্রয়োজন।

সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ মানসিক স্বাস্থ্যের কর্মকৌশল তৈরিতে অক্লান্ত পরিশ্রমের জন্য প্রধান উপদেষ্টা সায়মা ওয়াজেদ হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ জানিয়ে কর্মকৌশল বাস্তবায়নে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

সভায় অন্যান্যের মধ্যে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালযয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কান্ট্রি প্রতিনিধি মি. বর্ধন জং রানা, সংস্থাটির আঞ্চলিক কার্যালয়ের উপদেষ্টা নাজনীন আনোয়ার প্রমুখ। এছাড়াও সভায় বিভিন্ন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থার প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট বিষয়ের বিশেষজ্ঞ, প্রিন্ট ও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার কর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি