০৯ জানুয়ারী, ২০২০ ০৪:২২ পিএম

স্বাস্থ্য প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন

স্বাস্থ্য প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন
মো. আলী নূর, সচিব, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ এবং অধ্যাপক ডা. এ.এইচ.এম এনায়েত হোসেন, মহাপরিচালক স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তর (বাম দিক থেকে)

মো. মনির উদ্দিন: স্বাস্থ্য প্রশাসনে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। গত ডিসেম্বরের শেষ দিকে আলাদা আলাদা প্রজ্ঞাপনে এসব কথা বলা হয়েছে। আগের সচিবকে বদলি করে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে নতুন সচিব নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এদিকে নবগঠিত স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে নিযুক্ত করা হয়েছে নতুন মহাপরিচালক। এছাড়াও এ অধিদপ্তরে দুইজন নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। আর স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরও পেয়েছে নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক।

স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগে নতুন সচিব 

স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগে নতুন সচিব হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. আলী নূর। তিনি শেখ ইউসুফ হারুনের স্থলাভিষিক্ত হলেন। ইউসুফ হারুনকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে বদলি করা হয়েছে। গত ৩০ ডিসেম্বর জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।

নতুন স্বাস্থ্যসচিব মো. আলী নূর ১৯৬২ সালে ঢাকা জেলার নবাবগঞ্জ উপজেলায় জন্মগ্রহণ করেন। 

বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিস (বিসিএস) ৮৬ ব্যাচের মো. আলী নূর পরিকল্পনা কমিশনের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) সেন্ট্রাল প্রকিউরমেন্ট টেকনিক্যাল ইউনিটের (সিপিটিইউ) মহাপরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। 

এর আগে তিনি জীবন বীমা করপোরেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ বিভিন্ন পর্যায়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। জীবন বীমার আগে মো. আলী নূর সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ে অতিরিক্ত সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে নতুন স্বাস্থ্যসচিব মো. আলী নূর মেডিভয়েসকে বলেন, ‘প্রত্যেকটা ক্যাডার সার্ভিসের অফিসারের একটি মূল লক্ষ্য থাকে এসব উচ্চপদে আসীন হওয়ার। আল্লাহর অশেষ মেহেরবানী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সানুগ্রহ সদিচ্ছায় আজকে আমি সচিব হতে পেরেছি। এজন্য আল্লাহর প্রতি আমার শুকরিয়া। আমি কর্মজীবনে সব জায়গাতেই আন্তরিকতা ও সততার সঙ্গে কাজ করেছি। সর্বশেষ কর্মস্থলেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা দিয়েই কাজ করেছি। সেখান থেকে সচিব পদে পদোন্নতি এবং স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের মতো জায়গায় পদায়ন হওয়াটা আমার জন্য একটি বড় পাওয়া। কাজের প্রতি আমার অন্য রকম একটি নেশা বা প্রচণ্ড রকমের ইচ্ছা আছে। এখানে এসে মনে হয়েছে আমি হয় তো কিছু করতে পারবো। আশা করি সফলকাম হতে পারবো, বাকিটা নির্ভর করছে আমার সহকর্মীসহ সকলের সহযোগিতার ওপর।’

প্রাথমিকভাবে কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘পরিবার কল্যাণ বিভাগের কার্যক্রমকে আরেকটি গতিময় এবং সরব করবো। এখানকার ত্রুটি, শূন্যতাগুলো চিহ্নিত করে এসবের ওপর গুরুত্ব দিয়ে কাজগুলো সফলতার সঙ্গে এগিয়ে নিতে চাই। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের সকল খাতের সকল ডাটাবেজ তৈরি করা হবে। কিছু বিভাগে তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক ডাটাবেজ থাকলেও স্বাস্থ্য শিক্ষায় নাই। তাই দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটা করে এর ভিত্তিতে সকল সেবা দ্রুততার সঙ্গে প্রদান করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।অর্থাৎ তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর সেবা প্রদান করা। এর ওপর বিশেষ নজর দেবো।’

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে নতুন মহাপরিচালক  

ননগঠিত স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন মহাপরিচালক হয়েছেন অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেন। গত ৩০ ডিসেম্বর এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় প্রজ্ঞাপন জারি করে

সর্বশেষ তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

১৯৮৭ সালে সিলেট মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করে ১৯৮৯ সালে ৮ম বিসিএস ক্যাডারে নিয়োগ পান ডা. এনায়েত হোসেন। সিলেট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দীর্ঘদিন মেডিকেল অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এ চিকিৎসক। ২০০৩ সালে রংপুর মেডিকেল ও ২০০৭ সালে জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইন্সটিটিউশনের পরিচালক হিসেবে নিয়োগ পান তিনি।

দায়িত্বপ্রাপ্তির পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে অধ্যাপক ডা. এনায়েত হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘নতুন অধিদপ্তর, এটাকে নতুন করে গড়ে তুলতে হবে। সে লক্ষ্যেই আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি দায়িত্ব পালন করবো।’ 

নতুন অধিদপ্তরকে গড়ে তোলার বিষয়ে পরিকল্পনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অধিদপ্তর গঠন করা, অধিদপ্তরের স্থাপনা তৈরি করা, মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়নসহ বেশ কিছু পরিকল্পনা আছে।এগুলো অবশ্য আমার দাপ্তরিক দায়িত্বের মধ্যেই পড়ে।’

নতুন দায়িত্বের বিষয়ে নিজের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘সরকার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে, যেখানেই দায়িত্ব দেওয়া হোক কাজ করবো। নতুন চ্যালেঞ্জ, সেই চ্যালেঞ্জটা নিয়েছি।’ 

অধ্যাপক ডা. এ এইচ এম এনায়েত হোসেনের জন্ম সিলেটের সদর উপজেলায়। ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে বিসিপিএস থেকে এফসিপিএস সম্পন্ন করেন। তিনি গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয় ২০০৭ সালে এফআরসিএস সম্পন্ন করেন।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরে নতুন দুই এডিজি নিয়োগ 

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের শিক্ষা ও প্রশাসনে নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (এডিজি) হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন দুইজন চিকিৎসক। তারা হলেন অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির ও অধ্যাপক ডা. আবুল হাশেম খান। 

গত ২৬ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত এক প্রজ্ঞাপনে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

অনুভূতি জানতে চাইলে নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. আবু ইউসুফ ফকির মেডিভয়েসকে বলেন, ‘সরকার আমাকে দায়িত্ব দিয়েছে। এজন্য আমি জননেত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে কৃতজ্ঞ। আমি ঢাকা মেডিকেলে ইএনটি ও হেড-নেক সার্জারি বিভাগের প্রধান প্রধান ছিলাম। স্বাভাবিকভাবেই প্রত্যাশা থাকে, এডিজি-ডিজি হওয়ার। আমি এ সুযোগ পেয়েছি, খুবই ভালো লাগছে। এটা কর্মের একটি স্বীকৃতি। সততা ও আন্তরিকতা দিয়ে এর মূল্যায়ন করার চষ্টা করবো।’

নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, মেডিকেল শিক্ষার মানোন্নয়ন বা মানটা কিভাবে বিশ্বমানে উন্নীত করা যায় সে ব্যাপারে চেষ্টা করবো। এক্ষেত্রে সরকারি ও বেরসকারি সকল মেডিকেলেই বিশেষ নজর দেওয়া হবে।

এ অধিদপ্তরের আরেক নতুন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আবুল হাশেম খান মেডিভয়েসকে বলেন, ‘মন্ত্রণালয় থেকে আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সরকার দায়িত্ব দিয়েছে, আমি শতভাগ আন্তরিক হয়ে দায়িত্ব পালন করবো।’ 

এর আগে তিনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কমিউনিটি বেইজড হেলথ কেয়ার অপারেশনাল প্লান ক্লিনিক প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

অধ্যাপক আবুল হাশেম খানের জন্ম নরসিংদী জেলার শিবপুর উপজেলায়। তিনি রাজধানীর স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮৫ সালে এমবিবিএস পাস করেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিজি হলেন অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা 

স্বাস্থ্য সেবা অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন, চ. দা.) হলেন অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা ঝোরা। 

গত ৩১ ডিসেম্বর স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের পারসোনাল-২ অধিশাখার উপসচিব শারমনি আক্তার জাহান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ কথা বলা হয়েছে। 

অধ্যাপক ডা. সানিয়া তহমিনা মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমি পাবলিক হেলথে তিন বছর ধরে কাজ করছি। ওখানেও একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলাম। ২০১৯ সালে আমরা ডেঙ্গুর মতো বড় ঝুঁকি মোকাবেলা করলাম। স্বাস্থ্য বিভাগের ভূমিকা অত্যন্ত প্রশংসনীয়, বিশেষ করে চিকিৎসকদের অবদান। এই যে একটা অভিজ্ঞতা হয়েছে, হয় তো সেটার স্বীকৃতি হিসেবে আমাকে এ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ দায়িত্ব পেয়ে আমি নিজেকে গর্বিত মনে করছি। আমি যেন সঠিকভাবে তা পালন করতে পারি সেজন্য সবার সাহায্য চাই এবং সবার দোয়াপ্রার্থী।’

নতুন কর্মস্থলে নিজের পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজের ধরণে পরিবর্তন আনা দরকার। আমাদের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে শক্তিশালী করা ছাড়া উপজেলায় চিকিৎসদের অবস্থান নিশ্চিত করাসহ বিভিন্ন সমস্যার সমাধান হবে না।তাই বিদ্যমান পদ্ধতির পরিবর্তন করা অত্যন্ত জরুরি।’ 

ডা. সানিয়া তহমিনা ১৯৮৫ সালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। তিনি ছিলেন কে-৩৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী। তাঁর গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলায়। 

১৯৯৫ সালে আপিজিএমআর থেকে মাইক্রোবায়োলজিতে মাস্টার্স করেন ডা. সানিয়া তহমিনা।

দাবি পেশাজীবী সংগঠনের, রিট পিটিশন দায়ের

‘বেসরকারি মেডিকেলের ৮২ ভাগের বোনাস ও ৬১ ভাগের বেতন হয়নি’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত