ডা. সুরেশ তুলসান

ডা. সুরেশ তুলসান

সহকারী অধ্যাপক (সার্জারি), কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ।


০৭ জানুয়ারী, ২০২০ ১২:০৪ এএম
আপডেট: ০৭ জানুয়ারী, ২০২০ ১২:১০ এএম
ভারতে সায়েন্টিফিক কনফারেন্সের স্মৃতি

বাংলায় লেখা বহিঃবাংলাদেশ ছুটির জিও নিয়ে বিড়ম্বনা

বাংলায় লেখা বহিঃবাংলাদেশ ছুটির জিও নিয়ে বিড়ম্বনা

আমরা যারা সরকারি চাকরিজীবী তারা দেশের বাইরে যেতে হলে মন্ত্রণালয় হতে বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আদেশ নিয়ে দেশের বাইরে যেতে হয়। বাংলায় লেখা এরকমই একটি বহিঃবাংলাদেশ ছুটির জিও-র কারণে এবারের বিড়ম্বনার অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করবো সবার সাথে।

আমরা কয়েকজন ডাক্তার গিয়েছিলাম চিকিৎসা সংক্রান্ত সায়েন্টিফিক কনফারেন্সে ভারতের বোম্বে আর পুনেতে। সাথে কিছুটা ঘোরাঘুরি।
এই ঘোরাঘুরি করতে গিয়েই পড়লাম বিড়ম্বনায়।

ভারতের মহারাষ্ট্রের লোনাভালা হিল স্টেশনে নেমে খুজে পেলাম প্রত্যাশার চাইতেও ভালো একটা হোটেল, " Hotel The Otel ", রুম ভাড়াও আমাদের পছন্দের মধ্যে।

হুড়মুড় করে আমরা তিন বাংলাদেশী ডাক্তার হোটেলের লাউঞ্জে ঢুকে রিসেপশনে দরদাম, কথাবার্তা সেরে, একদিনের অগ্রিম রুম ভাড়াসহ আমাদের পাসপোর্ট গুলো জমা দিয়ে বাক্সপেটরা বাহী ওয়েটারের পিছনে পিছনে সদর্পে লিফটে ঢুকবো, এরই মধ্যে কানে আসলো "Excuse me sir, where is your visa?".
তাকিয়ে দেখলাম রিসেপশনের লিকলিকে পাতলা, ফর্সা, বোঁচা নাকের খাসিয়া মেয়েটা পাসপোর্টের পাতার পর পাতা উল্টে যাচ্ছে ভিসার খোঁজে।

ওকে বুঝিয়ে বললাম আমদের অর্থাৎ বাংলাদেশের বাসিন্দাদের মধ্যে যাদের কূটনৈতিক অথবা অফিসিয়াল পাসপোর্ট আছে তাদের জন্য ভারত ভ্রমণে কোনো ভিসার প্রয়োজন হয় না।

আমাদের মন্ত্রণালয়ের দেয়া বাংলায় লেখা বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আদেশের জিও বের করে দেখালাম, কিন্তু তাতে কী লাভ? ওরা তো বাংলা পড়তে পারে না।

আদেশের সারমর্ম ইংরেজিতে অনুবাদ করে শুনালাম তাতেও কোন লাভ হলো না।

মেয়েটি গুগল মামার Translator App দিয়ে জিও টা স্ক্যান করতঃ ইংরেজিতে অনুবাদ করে পড়া শুরু করলো।

ব্যাকরণ আর অর্থগত বিভ্রাটের কারণে গুগলের অনুবাদটি আমারই বোধগম্য হচ্ছিল না, তা ওই বেটি বুঝবে কী করে?

তবুও শেষ পর্যন্ত এটুকু বোঝাতে সক্ষম হলাম যে বাংলাদেশ সরকার ভারতে ভ্রমণের জন্য আমাদের ছুটি এবং অনুমতি দিয়েছেন।

মেয়েটির পাল্টা প্রশ্ন, আপনাদের সরকার ভারত ভ্রমণের অনুমতি দিয়েছেন ভালো কথা কিন্তু ভারত সরকারের দেয়া ভারতে প্রবেশের অনুমতি অর্থাৎ ভিসা দেখান। তা না হলে এই হোটেলে আপনাদের থাকার অনুমতি আমরা দিতে পারবো না।

ওকে যতই বোঝানোর চেষ্টা করি বাংলাদেশি অফিসিয়াল পাসপোর্টধারীদের জন্য ভারত ভ্রমণে কোন ভিসা লাগে না, এমনকি বর্ডারে আমাদের পাসপোর্টে ভারতীয় ইমিগ্রেশন আর কাস্টমসের এইবার এবং ইতিপূর্বে ভারতে ভ্রমণের সময় দেয়া সিল ছাপ্পরগুলো দেখালাম, কিন্তু কোন লাভ হলো না, কে শোনে কার কথা।

ভাবখানা যেন এইরকম, সালিশ বৈঠক সবই মানি, তালগাছটা কিন্তু আমারই।
শেষমেশ না পেরে বললাম তুমি লোকাল পুলিশ স্টেশনে খোঁজ নিয়ে দেখো, তারা কী বলে।

মেয়েটি হোটেল ম্যানেজার কে সবিস্তারে সবকিছু বলে থানায় ফোন করতে বললো।

ফলাফল - পুলিশও এবিষয়ে কিছু জানে না।

সুতরাং তাদের সাফ কথা, হোটেলে তারা আমাদের থাকার জায়গা দিতে পারবে না।

বিষয়টা অনেকটা বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত শোনালো আমাদের কানে।
এই রাত বিরাতে বিদেশবিভুঁইয়ে আমরা যাবো কোথায়?

যতই বোঝানোর চেষ্টা করি না কেন, কোন লাভ নেই, সব চেষ্টাই বৃথা। আমরা এভাবেই বিনা ভিসায় পাসপোর্ট আর ছুটির জিও দেখিয়ে দিল্লি, পুনের যেসব হোটেলে থেকে এসেছি সেইসব কথা জানানোসহ হোটেলগুলোর মানি রিসিট, ভিজিটিং কার্ড দেখালাম কিন্তু তারা তাদের সিদ্ধান্তে অটল।

এদিকে দিনভর সাইট সিয়িং, ঘোরাঘুরি আর জার্নিতে আমরা সকালেই ক্লান্ত আর ক্ষুধাতৃষ্ণায় কাতর।

নিরুপায় আর হতাশাগ্রস্ত অবস্থায় মালপত্তর নিয়ে লাউঞ্জে বসে কি করি কি করি ভাবতে ভাবতে নেটে খুজতে লাগলাম এবিষয়ে ভারত সরকারের কোন বক্তব্য,- হঠাৎ ইউরেকা ইউরেকা -
পেয়ে গেলাম ভারত সরকারের একটি গেজেট। তাতে লেখা আছে -
"VISA FOR BANGLADESH NATIONALS - Visa free regime is agreed on reciprocal basis for holders of Diplomatic and Official Passports for a period of up to 45 days stay."
এবার একটু উল্টা গরম সুরেই বললাম, এই দেখ তোমাদের ভারত সরকারের আদেশ, যদি বিশ্বাস না হয় এটা ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিয়ে থানায় যাও, দেখো কী বলে। 

আমার মোবাইলের স্ক্রিনে গেজেটটা দেখে ওরা ঠিক বিশ্বাস করে উঠতে পারছে না, হয়তো ভাবছে আমার কোন কারসাজি।
নিজেরা অনলাইনে খোজাখুজি শুরু করলো কিন্তু গেজেটটি খুজে পেল না। শেষমেশ আমার মোবাইল থেকে নিয়েই প্রিন্ট করে তার একটা কপি নিয়ে একজন গেলো থানায়।

আমরা অপেক্ষায়, বেশ কিছুক্ষণ পর থানা থেকে ফোন আসলো, ঠিক আছে, আমাদের হোটেলে থাকতে দেয়া যাবে।

বাংলায় লেখা বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আদেশের জিও নিয়ে বিড়ম্বনার অভিজ্ঞতা এবারই প্রথম না।

বড় বড় শহরের হোটেলগুলোতে ভিসা দেখতে চায় ঠিকই তবে বুঝিয়ে বললে মেনে নেয়।
এতো বেশি হয়রানির শিকার এবারই প্রথম।

স্থল বন্দরের ভারতীয় অংশে বিএসএফ এর মেয়েরা বাংলা পড়তে না পারলেও খাতায় নাম এন্ট্রি করতে করতে জিও-র কাগজটা উল্টেপাল্টে দেখে এমন ভান করবে যেন সব বুঝেছে, আর জিজ্ঞাসা করবে- "কিতনা তারিখ তাক ছুট্টি হায়?"।

তবে স্থলবন্দর গুলোতে ইমিগ্রেশন আর কাস্টমস এর অধিকাংশ লোকজনই কাজ চলার মত বাংলা পড়তে পারেন, অথবা তাদের এবিষয়ে ধারণা থাকায় খুব একটা অসুবিধা হয় না।

ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়েই বলছি, সর্বস্তরে বাংলা ভাষার প্রচলনের বিরোধী আমি কখনই ছিলাম না, এখও নই, ভবিষ্যতেও হব না। তাছাড়া আমার নিজের ইংরেজি জ্ঞানের বহরও খুব বেশি ভালো না। আমিও চাই সর্বস্তরে বাংলা ভাষার ব্যবহার। তবে অত্যাবশকীয় ক্ষেত্র বিশেষে আমাদের ইংরেজি ব্যবহারের বিরোধিতা করা উচিৎ না।

Add
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

চীনে রহস্যজনক ‘করোনা ভাইরাসে’ দ্বিতীয় মৃত্যু

একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

চীনে রহস্যজনক ‘করোনা ভাইরাসে’ দ্বিতীয় মৃত্যু

একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত