০২ জানুয়ারী, ২০২০ ০৬:৩৫ পিএম
বিশেষ সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক ডা. শাহ আলম

দেশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়া বাইরের উচ্চশিক্ষা ফলপ্রসূ হয় না

দেশের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ ছাড়া বাইরের উচ্চশিক্ষা ফলপ্রসূ হয় না
অধ্যাপক ডা. শাহ আলম

দেশে স্পাইন সার্জারির কথা বললে হালে যে মানুষটির চেহারা ভেসে উঠে তিনি অধ্যাপক ডা. শাহ আলম। দীর্ঘদিন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত থাকার পর সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে। 

গ্রীষ্মের এক দুপুরে নিজের কার্যালয়ে মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকার দেন ঢামেক অর্থোপেডিক ও স্পাইন সার্জারি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক শাহ আলম। তাঁর জীবনের নানা সফলতার গল্প শোনানোর পাশাপাশি বলেছেন, দেশের চিকিৎসাব্যবস্থা ও অর্থোপেডিক সার্জারির নানা অজানা কথা। 

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আহসান হাবিব, ছবি তুলেছেন তানভীর তনয়।

মেডিভয়েস: আপনার ব্যক্তি, শিক্ষা ও কর্মজীবন সম্পর্কে জানতে চাই।

অধ্যাপক শাহ আলম: আমার বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার সদরে। বাবার চাকরি সূত্রে আমি বরিশালে জন্মগ্রহণ করেছি। আমি গ্রামের স্কুলে প্রাইমারি পাস করার পর ১৯৭৬ সালে টাঙ্গাইলের আজিমপুর মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে এসএসসি পাস করি। নটরডেম কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করি ১৯৭৮ সালে। ১৯৮৪ সালে আমি ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস পাস করার পর সেখানেই জেনারেল সার্জারি ও নিউরোসার্জারিতে ট্রেনিং করেছি। প্রথমে আমি জেনারেল সার্জারিতে এফসিপিএস এবং অর্থোপেডিক্স সার্জারিতে এমএস সম্পন্ন করি। পরবর্তীতে অর্থোপেডিক সার্জারিতে এফআরসিএস সম্পন্ন করেছি। আবার রয়েল কলেজ অব এডিনবার্গ থেকে কম্বাইন্ড এফআরসিএস ডিগ্রি অর্জন করেছি।

পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন করার পর আমি ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আরএস ও কনসালটেন্ট হিসেবে ৫ বছর ৬ মাস চাকরি করি। এরপর আমি জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর হিসেবে যাই। সেখানে ৩ বছর অতিবাহিত করার পর আমি এসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে (মিটফোর্ড) হাসপাতালে যাই। সেখানে আমি ৫ বছর ৬ মাস এসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে কাজ করি। আবার ২০০৮ সালে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালে যোগদান করি এসোসিয়েট প্রফেসর হিসেবে। সেখানে ২০১৩ সালে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পাই। ২০১৩ থেকে ২০১৯ সালের মার্চ পর্যন্ত ভায়োলেট ইউনিট-২ এর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি।

মেডিভয়েস: অর্থোপেডিক্সে ক্যারিয়ার করতে আপনাকে কিসে অনুপ্রাণিত করেছে?

অধ্যাপক শাহ আলম: আমি জেনারেল সার্জন হতে চেয়েছিলাম। জেনারেল সার্জারিতে আমি এফসিপিএসও করেছি। ট্রেনিং চলাকালীন সময়ে আমার চাকরির পোস্টিং নিয়ে একটু ঝামেলা হয়। সে সময় আমি অর্থোপেডিক্সে সার্জারি এবং কার্ডিও থোরাসিক সার্জারিতে এডমিশন দিই। দুটোতেই চান্স পেয়েছিলাম। কিন্তু অর্থোপেডিক্সে আসার জন্য বাংলাদেশ মেডিকেলের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য স্বনামধন্য অধ্যাপক চৌধুরী হুমায়ুন কবির স্যার আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছেন।

মেডিভয়েস: কখন আপনি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখেছেন?

অধ্যাপক শাহ আলম: আমার বুঝতে পারার পর থেকেই স্বপ্ন দেখতাম চিকিৎসক হওয়ার। আল্লাহ আমার সে আশা পূরণ করেছেন। আর মেডিকেলে থার্ড ইয়ার থেকে স্বপ্ন জেগেছে, আমি একজন সার্জন হবো।

মেডিভয়েস: দেশে হাড়ের চিকিৎসার জন্য যথোপযুক্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে জনশক্তি বা প্রযুক্তিগত ঘাটতি আছে কি-না? সরকারের প্রতি আপনার প্রত্যাশা কী?

অধ্যাপক শাহ আলম: আমাদের দেশে হাড়ের চিকিৎসা অনেক উন্নত। গত কয়েক বছরে অর্থোপেডিক্স বিভাগের অনেক উন্নতি হয়েছে। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর এদেশে পঙ্গুত্বের পরিমাণ অনেক বেড়ে যায়। এই পুঙ্গত্ব দূর করার জন্য বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ভারতের হরিয়ানা প্রদেশ থেকে প্রখ্যাত আমেরিকান অর্থোপেডিক সার্জন রোনাল্ড জোসেফ গাস্টকে এদেশে নিয়ে আসেন। তাঁকে আমরা বাংলাদেশের ফাদার অব অর্থোপেডিক্স বলে থাকি। তিনি সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে কাজ শুরু করেন। বঙ্গবন্ধু ৮ একর জমি পঙ্গু হাসপাতাল করার জন্য দেন। এই চিকিৎসায় আমরা অন্যান্য দেশের থেকে খুব পিছিয়ে নেই। আমাদের দেশে যেভাবে রোড এক্সিডেন্ট, আগুন ও দুর্যোগ হয়ে থাকে তা অনেক দেশের তুলনায় বেশি। তবে আমরা সবকিছু মোকাবেলা করতে সক্ষম হয়েছি।

আপনারা নিশ্চয় রানা প্লাজার কথা জানেন। সেখানে অনেক মানুষ মারা গেছে। তারপরেও আমরা অল্প সময়ে মধ্যে অনেক মানুষকে বাঁচাতে সক্ষম হয়েছি। সেখানে মানুষকে বাঁচাতে সরকারের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। আমার অধীনে ১০৮ জন রোগী ছিলেন। সে মসয় এনাম মেডিকেল কলেজের প্রতিষ্ঠাতা, বর্তমানের ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।

এফআর টাওয়ারের ঘটনা তো আপনারা দেখেছেন। ওখানে ২১তলা থেকে একজন পড়ে গেছে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে আমরা তার চিকিৎসা দিয়েছি। অল্প সময়ের মধ্যে সে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।

আমাদের শিক্ষার্থীরাও এখন ভালো কিছু শিখছে। আমরা ছাত্র জীবনে যে সার্জারিগুলো দেখিনি সেগুলো ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা করে।

আমাদের অর্থোপেডিক্স বিভাগ উন্নত হলেও কিছুটা স্বল্পতা রয়েছে। এর কারণও রয়েছে যুক্তিযুক্ত। একদিনে এসব সমস্যার সমাধান সম্ভব না। এই বিভাগ আগামীতে আরও উন্নত হবে বলে আমি আশাবাদী।

বর্তমান সরকার তার নিজের প্রচেষ্টায় অনেকগুলো হাসপাতাল করেছে। বিগত সালে কোনো সরকার কিন্তু তা করতে পারেনি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে যদি ভালোভাবে বুঝানো যায়, তাহলে তিনি কখনও ‘না’ বলেন না। তিনি খুব মেধাবী। মেডিকেল সেক্টরে তাঁর অবদান অনেক। বর্তমান স্বাস্থ্যমন্ত্রীও আমাদের বলেছেন, ‘আপনারা যা চান আমরা সবই দেবো।’

আমাদের চাহিদা পূরণে বর্তমান সরকার যথেষ্ট আন্তরিক। আবার অন্যদিকে আমলাতান্ত্রিক কিছু জটিলতাও আছে। তা ওভারকাম করে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

মেডিভয়েস: দেশের প্রায় প্রতিটি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠানে দালালরা বেশ তৎপর। এটা প্রতিরোধকল্পে কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়া জরুরি বলে আপনি মনে করেন?

অধ্যাপক শাহ আলম: দালাল তো শুধু হাসপাতালে না, দেশের সর্বত্র এই দালালচক্র ঢুকে আছে। বর্তমান যে আইন আছে তা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই দালালদের নির্মূল করা সম্ভব। শুধু মেডিকেল সেক্টরে না দেশের সর্বত্র দালাল নির্মূলে আইনের যথাযথ প্রয়োগ করতে হবে।

মেডিভয়েস: স্যার, একটা ভিন্ন বিষয় নিয়ে বলি। বাংলাদেশে এখন টোটাল হিপ (Hip) নী (knee) রিপ্লেসমেন্ট সার্জারি জনপ্রিয় হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমরা বিভিন্ন সময় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেখি, এর বদলে রিজেনারেটিভ মেডিসিনের কথা। আসলে এর বাস্তবতা কতটুকু?

অধ্যাপক শাহ আলম: একটা পর্যায় পর্যন্ত মেডিসিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেয়া হয়। একটা জায়গা ক্ষয়ে গেলে সেখানে আমরা একই ধরনের টিস্যু তৈরি করার চেষ্টা করি। একটা পর্যায় পর্যন্ত রিজেনারেটিভ মেডিসিনের বিশাল ভূমিকা আছে। কিন্তু এই পর্যায়টা যখন চলে যাবে তখন আর এই মেডিসিন কাজ করে না। তখন আমাদেরকে সার্জারির দিকে যেতে হয়।

মেডিভয়েস: মেডিকেল স্টুডেন্ট ও তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি আপনার পরামর্শ জানতে চাই।

অধ্যাপক শাহ আলম: মেডিকেল কলেজে ছেলে ডাক্তারের পরিমাণ দিন দিন কমে যাচ্ছে। কারণ মেরিট লিস্টে মেয়েরা এগিয়ে। বর্তমানে শতকরা ৭৫ ভাগই মেয়ে ডাক্তার বের হচ্ছে। ১৫ বছর আগে আমি একটা গবেষণা করেছিলাম। সেখানে দেখিয়েছি, গাইনি বাদে অন্যন্য বিভাগে ছেলে স্পেশালিস্ট কমে যাচ্ছে। কারণ শতকরা ৭৫ ভাগ মেয়ে ডাক্তার হলে এটাই হওয়ার কথা। বাস্তব কারণেই ইমারর্জেন্সি ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে মেয়েদের একটু সীমাবদ্ধতা থাকে।

অনেক মেয়ে ডাক্তার বিয়ের পর সংসার করছেন। অনেকে চাকরি করেন কিন্তু কোনো হায়ার স্টাডি করেন না। অল্প কিছু সংখ্যক মেয়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনে আসছেন। এখন অবশ্য এই সংখ্যাটা আবার বাড়তেছে। কিন্তু এদের মধ্যে বেশিরভাগ চলে যায় গাইনি ও মেডিসিনে। অন্যান্য সাবজেক্টগুলোতে শুধু ছেলেরা যাচ্ছে। সুতরাং মেধার ক্ষেত্রে অন্যান্য সাবজেক্টগুলো একটু বঞ্চিত হচ্ছে। আমার কথায় হয়তো ছেলেরা একটু মনক্ষুণ্ণ হতে পারে। কিন্তু এটাই তো সত্য। সুতরাং ছেলেদের একটু সচেতন হতে হবে। এটার জন্য আমি মেয়েদের দোষারোপ করছি না। সমস্যা হলো আর্থসামাজিক।

মেডিভয়েস: যেসব তরুণ চিকিৎসক অর্থোপেডিক সার্জারিতে ক্যারিয়ার করতে চায়, তাদের উদ্দেশে কিছু বলুন

অধ্যাপক শাহ আলম: অর্থোপেডিক্স সার্জারি মেডিকেল সেক্টরে একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমার মতে, যখন যে কাজটা করা প্রয়োজন তা যেনো তারা গুরুত্ব সহকারে করে। কারণ সময়মতো যদি অর্থোপেডিক্স সার্জারির প্রয়োজনীয় ট্রেনিং ও ডিগ্রিগুলো অর্জন করা না হয় তাহলে পরে আর তা সম্ভব হয় না।

মেডিভয়েস: আপনি যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটেন থেকে স্পাইন সার্জারির ওপর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এক্ষেত্রে যারা দেশের বাইরে প্রশিক্ষণ নিতে চায় তাদের করণীয় কী?

অধ্যাপক শাহ আলম: বিদেশে ট্রেনিংয়ের ক্ষেত্রে আমি কিছু কথা বলি। আমার ৩৩ বছর চাকরিতে সরকারি টাকায় বিদেশ যাওয়া কিংবা ট্রেনিং করার সুযোগ আমার হয়নি। কিন্তু আমি ব্যক্তিগতভাবে গিয়েছি। বিভিন্ন সভা সেমিনারে নিজের দেশকে তুলে ধরেছি। আমরা নিজের দেশে কাজ করে বিদেশ থেকে অ্যাওয়ার্ডও পেয়েছি। এগুলো আমাদের কৃতিত্ব না, এগুলো আমার দেশের অর্জন। আমার দেশ আমাকে কাজ করার সুযোগ করে দিয়েছে বলে আমি বাইরে গিয়েও সফলতা পেয়েছি। উচ্চশিক্ষার জন্য দেশের বাইরে যাওয়া অবশ্যই দরকার। তবে যাওয়ার আগে দেশে যে ট্রেনিংয়ের সুযোগ আছে তা সম্পন্ন করা প্রয়োজন। কারণ আমাদের দেশে বেসিক অর্থোপেডিক্সে নিয়ে কাজ করার যে সুযোগ আছে তা অন্য কোনো দেশে নেই।

যারা বেসিক না জেনেই বিদেশে যাবেন তার সমস্যায় পড়বেন। কারণ আপনি বিদেশে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করে দেশে ফিরে আসবেন। তাই প্রথমে দেশেই ট্রেনিং সম্পন্ন করলে সেটা ফলপ্রসূ হবে।

মেডিভয়েস: দেশের স্বাস্থ্যখাত নিয়ে আপনার ভাবনা জানতে চাই?

অধ্যাপক শাহ আলম: এই সেক্টরের একটা সমস্যা হলো, যোগ্য লোকেরা যথাযথ মর্যাদা পান না। আমি তো একটা নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত সরকারি চাকরি করব। বর্তমানে আমি একজন প্রফেসর। এরপর আমার একটা স্টেজ থাকতে হবে, যা আমি আমার যোগ্যতা বিনিময়ে পাবো। তা না হলে আমার অভিজ্ঞতাকে অবমূল্যায়ন করা হলো।

অনেক সময় সরকারি চাকরিতে দেখা যায়, অনেক মেধাসম্পন্ন লোক যে স্থানে যাওয়া প্রয়োজন তারা সে স্থান পান না। ফলে ওই প্রতিষ্ঠান, প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও রোগীরা যে সার্ভিস পেতো তা তারা পাচ্ছে না। ফলে ওই সাবজেক্ট ও শিক্ষার্থীদের অবনতি ঘটছে। একই সাথে সেবার মান কমে যাচ্ছে।

মেডিভয়েস: সাম্প্রতিককালে আমাদের দেশের বিরাট সংখ্যক রোগী চিকিৎসার জন্যে বিদেশ বিশেষ করে ভারতে যাচ্ছে। এটা কমিয়ে আনার জন্যে কী করা যায়?

অধ্যাপক শাহ আলম: যার টাকা আছে তারা বিদেশে যায়। যার নেই তার এদেশের চিকিৎসায় রোগ ভালো হয়ে যায়। আমাদের দেশের অনেক রোগী বিদেশ থেকে ফিরে এসে আমাদের কাছে চিকিৎসা নেয়। আমাদের দেশে আইন করা উচিত যে, একটু সমস্যা হলেই কেউ বিদেশ যেতে পারবে না। তাহলে এটা রোধ করা সম্ভব।

কারণ আমার দেশে কি চিকিৎসা নেই? ভালো চিকিৎসক নেই? কী কারণে একটু সমস্যা হলেই বিদেশ যেতে হবে। যদি যেতেই হয় আমরা রেফার করবো।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চান যে, আমাদের দেশের চিকিৎসার মান আরও উন্নত হোক। আমি তাঁর কাছে আশা করি, ‘আপনি কিছু নিয়ম-কানুন তৈরি করে দিন, রোগের মাত্রা কতটুকু হলে রোগী বিদেশ যেতে পারবে’। তাহলে এদেশের টাকা এদেশেই থাকবে।

মেডিভয়েস: যথাযথ মান নিশ্চিত না করেও এদেশে মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হচ্ছে। এটাকে কীভাবে দেখেন?

অধ্যাপক শাহ আলম: এটা সত্য। তবে মান যে সবার খারাপ তা না। যারা এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে বের হবে তাদের সবাইকে দূর্বল ভাবা যাবে না। যোগ্যতা নির্ভর করে পড়াশোনা ও প্র্যাকটিসের ওপর। বেশি পড়াশোনা ও ট্রেনিংয়ের মাধ্যমে দূর্বলতাকে ওভারকাম করা সম্ভব।

মেডিভয়েস: আপনার মূল্যবান সময় দেয়ার জন্য ধন্যবাদ। মেডিভয়েস সম্পর্কে কিছু বলুন।

অধ্যাপক শাহ আলম: আমি মেডিভয়েসকে খুবই পছন্দ করি। এই পত্রিকাতে মেডিকেল রিলেটেড গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যায়। আপনাদের প্রিন্ট সংখ্যাটা অনেক ভালো। এটা ডাক্তাররা ডকুমেন্ট হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। আমাদের মেডিকেল অঙ্গনের ভালো-খারাপ, সুবিধা-অসুবিধা বলার কোনো জায়গা নেই। আমি মনে করি, আপনাদের বড় পরিসরে কাজ শুরু করা দরকার। আপনারা ডাক্তারদের পাশাপাশি জনগণের সুবিধা-অসুবিধাও তুলে ধরুন। পাশাপাশি তাদের সচেতন করেন যাতে হাসপাতাল ভাঙচুর ও ডাক্তারদের লাঞ্ছিত না করে।

মেডিভয়েসঃ অনেক ধন্যবাদ, স্যার। ভালো থাকবেন।
অধ্যাপক শাহ আলম: আপনারাও ভালো থাকবেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স
জীবাণু সংক্রমণ প্রতিরোধে অসামান্য অর্জন

আন্তর্জাতিক এওয়ার্ড পেলেন রাজশাহী মেডিকেলের নার্স