২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৪:৫৯ পিএম

৫৮ দিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত প্রায় ৩ লাখ

৫৮ দিনে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত প্রায় ৩ লাখ

তানভীর সিদ্দিকী: দেশে গত ৫৮ দিনে শীতজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮২ হাজার ৯ শত ১ জন। এর মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ৪৫ হাজার ৬ শত ১৬ জন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ১৩ হাজার ৮ শত ২০জন এবং জন্ডিস, আমাশয়, জ্বর, চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৪ শত ৬৫ জন। গত ১ নভেম্বর থেকে ২৮ ডিসেম্বর পর্যন্ত এই হিসাব করা হয়েছে।

রোববার (২৯ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদফতরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার স্বাক্ষরিত অধিদফতরের মহাপরিচালক বরাবর পাঠানো এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

চিঠিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় সারাদেশে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৪ হাজার ১শত ৫০ জন। তন্মধ্যে শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন ৬৯৮ জন, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৬শত ৩ জন এবং শীতজনিত অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৮শত ৪৯ জন।

কন্ট্রোল রুম জানিয়েছে, গত ২৪ ঘন্টায় ঢাকা বিভাগে শীতজনিত রোগে আক্রান্ত হয়েছেন ৭ শত ৮১ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৩ শত ২৩ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১ হাজার ৪ শত ৫৮ জন, রাজশাহী বিভাগে ৮৫ জন, রংপুর বিভাগে ২শত ৬২ জন, খুলনা বিভাগে ৫ শত ৬০ জন, বরিশাল বিভাগে ৩শত ৪ জন এবং সিলেট বিভাগে ৩শত ৭৭ জন।

এ বিষয়ে হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন্স সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সহকারী পরিচালক ডা. আয়শা আক্তার মেডিভয়েসকে বলেন, শীতের শুরুর এই সময়টায় আবহাওয়া পরিবর্তন হতে শুরু করে, শরীরের সঙ্গে মানিয়ে নিতে সমস্যা হয়। হঠাৎ করে পরিবর্তন হলে সমস্যা হয়, কিন্তু যখন এটা শরীরের সঙ্গে সামঞ্জস্য করে ফেলে তখন এর প্রকোপ আবার কমতে থাকে।’

তিনি বলেন, অতিরিক্ত ঠান্ডায় শরীর ‘ড্রাই’ হয়ে যায় আর শীতের বাতাসে রোটা ভাইরাসের উপস্থিতি বেশি থাকে বলেই এসব অসুখের আক্রমণটা বেশি হয়।

এদিকে, শীতজনিত হালকা রোগেই ওষুধ ও এন্টিবায়োটিক সেবন নিয়ে সতর্ক করেছেন প্রখ্যাত মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিসিন অনুষদের সাবেক ডিন অধ্যাপক ডা. এবিএম আবদুল্লাহ। মেডিভয়েসকে তিনি বলেন, শীতজনিত রোগে কোনক্রমেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ানো যাবে না। খেলেই মারাত্বক বিপদের আশঙ্কা রয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বর-সর্দি হলে হলে চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। বড়রা জ্বর বা শরীরের তাপমাত্রা ১০০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি হলেই প্যারাসিটামল খাবে। আবার ৩ দিনের বেশি জ্বর থাকলে ডাক্তারের কাছে যাবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়াই যাবে না। এতে লিভারের সমস্যা ছাড়াও সঠিক ওষুধ ও সঠিক মাত্রায় না খাওয়ার কারণে ওষুধ রেজিস্ট্যান্ট হতে পারে। ফলে পরবর্তীতে আর ওষুধ কাজ নাও করতে পারে।

এবিএম আবদুল্লাহ বলেন, বাংলাদেশে শীতকালীন স্বাভাবিক তাপমাত্রায় বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধি দেখা দেয়। এর মধ্যে সর্দি-কাশি, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়া, হাঁপানি, টনসিলাটাইসিস, ব্রংকিওলাইটিস, সাইনোসাইটিস, বাত, আর্থ্রাইটিস, চামড়ার শুষ্কতা অন্যতম। এসব রোগ থেকে সুরক্ষায় শীত এড়িয়ে চলতে হবে। বিশেষ করে খুব বেশি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হওয়া যাবে না।

ঠাণ্ডাজনিত রোগে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ সময়ে শিশুদের সর্দি-কাশি, ইনফ্লুয়েঞ্জা, নিউমোনিয়া, ডায়রিয়ার প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কদের ক্ষেত্রেও বেশকিছু সমস্যা দেখা দেয়। তীব্র শীতে বয়স্কদের ক্ষেত্রে হাইপোথার্মিয়া হতে পারে। একটু বয়স বেড়ে গেলে এই ব্যথা বেড়ে যায়। অনেকে এ সময় আর্থ্রারাইটিস ও অস্থিসন্ধির ব্যথায় খুবই কষ্ট পান।

তিনি আরও বলেন, শরীর গরম রাখতে গরম পোশাক পরতে হবে, গরম পানি খেতে হবে। এমনকি গোসলের ক্ষেত্রে গরম পানি ব্যবহার করতে হবে। যেহেতু এসব রোগে বয়স্ক ও শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকে তাই তাদের প্রতি বিশেষ নজর দিতে হবে। রুম গরম রাখতে রুম হিটার ব্যবহার করা যেতে পারে। তাছাড়া রোগে আক্রান্ত হলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্র জানায়, উচ্চ চাপ বলয় ও উত্তর-পশ্চিমা শক্তিশালী বায়ুপ্রবাহ (জেড বায়ু) বেশি সক্রিয় থাকায় এবং কুয়াশা ও জলীয় বাষ্পে আর্দ্রতা বেশি হওয়ায় শীতও তীব্র অনুভূত হচ্ছে। এ সময় কুয়াশাস্তর নিচে নেমে আসায় মেঘলা আবহাওয়াও বিরাজ করছে। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া শৈত্যপ্রবাহ থাকবে আরো অন্তত দুই দিন।

► কন্ট্রোল রুমের বিবরণ

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি