অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

লেখক ও গবেষক

সাবেক অধ্যক্ষ, 
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ

 


২৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১২:৩২ পিএম

কিডনি সুরক্ষায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

কিডনি সুরক্ষায় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখুন

দেশের প্রাপ্তবয়স্ক জনগোষ্ঠীর পাঁচ শতাংশের কোন না কোন কিডনি রোগ রয়েছে। প্রতিবছর লাখ লাখ মানুষের ক্রনিক কিডনি রোগের সাথে সম্পর্কিত। হৃদরোগ ও রক্তনালী রোগে সচরাচর কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে, কিডনি প্রদাহ, মূত্রপথে অবরোধ, বংশ পরস্পরায় রোগ। তবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দুই বিশ্বেই ক্রনিক কিডনি রোগ, বিশেষ করে বয়স্কদের মেধ্যে দেখা যায়। এর মূল কারণ হলো ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপ। হৃদরোগেও মূল কারণ এই দুই সমস্যা।

ক্রনিক কিডনি রোগ শনাক্ত না হয়ে থাকলে প্রথম পরিণতি হলো কিডনির কার্যক্রম ক্রমান্বয়ে বিনষ্ট হয়ে যাওয়া। এভাবে দীর্ঘদিন চলতে থাকলে ডায়ালাইসিস, এমনকি কিডনি প্রতিস্থাপন করারও প্রয়োজন দেখা দিতে পারে। এছাড়া হৃদরোগে অকাল মৃত্যু হতে পারে। এখানে উল্লেখ করা যায় যে, দেহের বিস্ময়কর যন্ত্র এই কিডনি। বাংলায় এক বৃক্ক বলা হয়। কিডনির মূল কাজ হলো মূত্র তৈরি করা এবং রক্ত থেকে বর্জ্য ও বিষ দেহ থেকে অপসারণ করা, রক্তচাপ বজায় রাখা, লোহিত কণিকা বজায় তৈরি করা, হাড়কে মজবুত রাখা। মুষ্টির আয়তন এই যন্ত্রের আশ্রয় পেটের গভীরে, পাঁজরের খাঁচার নিচে।

বিশ্বজুড়ে ২৮ কোটি মানুষেরও বেশি লোকের রয়েছে ডায়াবেটিস। এভাবে চলেতে থাকলে ২০২৫ সালের মধ্যে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ডায়াবেটিস রোগীর সংখ্যা দ্বিগুণ হয়ে যাবে। এমন ঘটবে মধ্যপ্রাচ্য, পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে ও আফ্রিকায়। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক জরিপে দেখা যায়, বিশ্বজুড়ে ৫০ শতাংশ মানুষ জানে না যে তাদের ডায়াবেটিস রয়েছে। পারিবারিক ইতিহাস, শরীর চর্চা না করা, উচ্চ রক্তচাপ, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভাস, এসব বড়ো ঝুঁকি আয়ত্তে আসা সম্ভব। আর এগুলো হ্রাস করলে ডায়াবেটিস ও ক্রনিক কিডনি রোগের আশঙ্কা কমে, কমে হৃদরোগ হওয়ার আশঙ্কাও।

বিশ্ব জুড়ে মানুষের মধ্যে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ। ক্রনিক কিডনি রোগের এটি হলো বড় লক্ষণ। বিশ্ব জুড়ে বৃদ্ধলোকের সংখ্যা বাড়ছে এবং উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্রনিক কিডনি রোগের পেছনে একটি আপাতত কারণ হলো বার্ধক্য। বুড়ো বয়সে এসব রোগ বেশি হয়।

পৃথিবী জুড়ে ১০০ কোটি লোকের রয়েছে উচ্চ রক্তচাপ। ২০২৫ সালে তা হতে পারে ১৫৬ কোটি। উন্নত দেশগুলোতে উচ্চ রক্তচাপ বাড়বে ২৪ শতাংশ। তাই এ রোগ আগাম শনাক্ত করা জরুরি। মানুষকে কিডনির সহজ টেস্টগুলো করিয়ে নেওয়ার জন্য উৎসাহিত করতে হবে। কিডনি রোগের ঝুঁকি যাদের রয়েছে, তাদের জন্য স্ক্রিনিং খুব জরুরি। কিডনি রোগ থাকলে আগাম নির্ণয় খুব গুরুত্বপূর্ণ, এতে কিডনির ক্ষতি হওয়ার আগেই চিকিৎসা নেওয়া যাবে।

কিডনি রোগ হয় ধীরে ধীরে এবং শেষ পর্যায়ে যখন কিডনি বিকল হওয়ার পথে, তখন হয়তো লক্ষণ উপসর্গ দেখা দেয়। তখন ডায়ালাইসিসের পর্যায়ে। এমন অবস্থায় জীবনাচরণ জটিল হয়ে পড়ে, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর। ব্যয়ের চাপ পড়ে।

পরীক্ষা:

মূত্রের রুটিন পরীক্ষা। মূত্রের অ্যালবুমিন ও সুগার, রক্তের ক্রিয়েটিনিন, রক্তচাপ, রক্তের সুগার পরীক্ষা করে কিডনি রোগের আগাম সংকেত পাওয়া যেতে পারে। ল্যাবরেটরি টেস্ট করাতে সামান্য রক্ত ও প্রস্রাব প্রয়োজন হয়। কিডনির সমস্যা হলে প্রস্রাবে পাওয়া যাবে অ্যালবুমিন (Albumin)। ক্রমেই বেড়ে যাবে ক্রিয়েটিনিন (Creatinin)। গ্লোমেরুলার ফিলট্রেশন রেট (জিএফআর) কমতে থাকে, প্রতি মিনিটে ১০০ মিলিলিটার থেকে কমে ৬০-এর নিচে, শোচনীয় হলে ১৫-এর নিচে। বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন হবে তখন।

[ বই: ডায়াবেটিস রোগ, লক্ষণ ও প্রতিকার। লেখক: অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী ]

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে