কামারুজ্জামান নাবিল

কামারুজ্জামান নাবিল

ছাত্র, ডক্টর অব মেডিসিন, ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ইরান


২৮ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৯:৩৭ পিএম

বাংলাদেশি চিকিৎসদের এখনও মনে রেখেছেন ইরানিরা!

বাংলাদেশি চিকিৎসদের এখনও মনে রেখেছেন ইরানিরা!
ইরানের ফেরেদুন এলাকায় মেডিকেল ক্যাম্পের সদস্যরা

ইরানের দুর্গম পাহাড়ি এলাকার মানুষদের ফ্রি-চিকিৎসা সেবাদানের লক্ষ্যে তিন দিনের একটি ক্যাম্প ছিল। ইরানের বিখ্যাত ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে ‘জিহাদে সালামাত’ নামক একটি সংস্থা এর আয়োজন করে। 

ক্যাম্পের সদস্য সংখ্যা ৩০ তরুণ চিকিৎসক। এর মধ্যে ছিল মেডিসিন, কার্ডিওলজি, জেনিটিক্স, রেডিওলোজি ও ডেন্টাল বিশেষজ্ঞ একঝাঁক তরুণ মেডিকেল শিক্ষার্থী।

আমাদের গন্তব্যস্থল ইস্পাহান থেকে পশ্চিমে ২০০ কিলোমিটার দূরে ফেরেদুন শহরের পার্শ্ববর্তী এলাকা। পাহাড়ি জনপদের পিছিয়েপড়া মানুষদের কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছিয়ে দেয়াই লক্ষ্য।

যাত্রাপথেই কয়েকটি স্বাস্থ্য কেন্দ্র পরিদর্শন, রোগীদের সঙ্গে আলাপ—এসব দিয়েই শুরু হয় আমাদের মেডিকেল টিমের কার্যক্রম।

মূল গন্তব্যে পৌঁছানোর পরদিন একজন বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ৪ জন করে মোট ৬টি টিমে বিভক্ত হয়ে দুর্গম পাহাড়ি মানুষদের কাছে আমরা পৌঁছাই। এরপর সেবা প্রদানের মূল কার্যক্রমের প্রথম দিনের শুরু। আমাদের টিম প্রধান ছিলেন ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিক্স বিভাগের প্রফেসর ডা. মেহেরদাদ জায়নালিয়নের। তার তত্ত্বাবধানে আমাদের চার সদস্যের টিমের যাত্রা কয়েকটি প্রত্যন্ত পাহাড়ি গ্রামে।

পাহাড়ের ঢালে এবং চূড়ায় কয়েকটি পরিবার নিয়ে গড়ে উঠেছে একেকটি গ্রাম। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা পেরিয়ে সেসব পরিবারের কাছাকাছি আমরা চলে যাই। গ্রামের একটি বাড়ির উঠোনে বসে সেবা প্রদান শুরু করি আমরা। বিভিন্ন বয়সী লোকদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে বয়স্কদের প্রেসার মেপে দেয়া, ডায়াবেটিস পরিমাপ করা, খাবারের আইটেম নিয়ে পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ প্রদান ইত্যাদি।

পাহাড়ি এসব এলাকার মানুষের আয়ের প্রধান উৎস কৃষিপণ্য। সঙ্গে রয়েছে ভেড়া ও গরু পালন। পাহাড়ি এসব মানুষেরা জানান, তাদের খাবারের মেন্যুতে মাংস রাখেন বেশি। সবজি থাকে একবারেই কম। মাংসের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে বেশি থাকায় অধিকাংশ বয়স্ক ব্যক্তি উচ্চ রক্তচাপে ভুগেন। 

এছাড়াও কিছু ব্যক্তিকে দেখা যায়, যারা ওষুধ থাকার পরেও সেগুলো খেতে অনীহা প্রকাশ করেন। যে কারণে রোগ বহন করেই জীবনযাপন করে চলছেন। এসব নিয়ে তাদের পরামর্শ দিচ্ছিলেন আমাদের টিমপ্রধান ডা. মেহেরদাদ জায়নালিয়ন। কথা হচ্ছিল তারা কেমন স্বাস্থ্যসেবা আশা করেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলো তাদের পরিপূর্ণভাবে স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করছেন কিনা ইত্যাদি বিষয়ে।

প্রেসার বা ডায়াবেটিস মেপে দেবার সময় ডা. জায়নালিয়ন আমাকে সকলের সঙ্গে বাংলাদেশি বলে পরিচয় করিয়ে দিলেন। এ সময় পাশে বসে থাকা একজন বৃদ্ধা স্মরণ করছিলেন ১৯৭৯ সালে ইরানের ইসলামী বিপ্লব পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশি চিকিৎসকদের কথা। সে সময় ইরানের স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়নে বাংলাদেশ থেকে আসা চিকিৎসকরা তাদের যেভাবে সেবা প্রদান করেছেন। 

স্বদেশের চিকিৎসকদের সুনাম শুনে আমি আবেগে-আপ্লুত হয়ে যাই। তা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।

অবাক হয়ে ভাবছিলাম, এমন দুর্গম এলাকাগুলোতে সেই সময় বাংলাদেশি চিকিৎসকরা কিভাবে ইরানিদের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছিয়ে দিয়েছেন। যে কারণে এত বছর পেরিয়ে গেলেও বাংলাদেশি চিকিৎসকদের কথা এখনও স্মরণ করছেন তারা। এটা আমাদের দেশের জন্য গর্বের ও ভালবাসার।

আমাদের টিমের কার্যক্রমের মধ্যে চিকিৎসা সেবা প্রদানের বাইরে আরো কিছু বিষয় ছিল। শিশুদের মাঝে স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন বিষয়ে প্রতিযোগিতার আয়োজন ও বিজয়ীদের পুরস্কার দেয়া ইত্যাদি। এছাড়াও ছিল ১৫ জন শিশুর বিনামূল্যে খাতনা প্রদান।

আমাদের সঙ্গে অন্যান্য যে গ্রুপগুলো ছিল তাদের মধ্যে ইস্পাহান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেন্টাল ডিপার্টমেন্টের একজন ডেন্টিস্ট ও শিক্ষার্থী, যারা সে জনপদের মানুষদের দাঁতের চিকিৎসা দিয়েছেন।

অন্যদিকে কার্ডিওলজি বিশেষজ্ঞ ডা. তেইমুরি ও তাঁর টিম সেবা দিয়ে যাচ্ছিলেন ওই জনপদের হার্টের রোগীদের। 

এভাবেই ক্যাম্পের ৩০ জনের ৩ দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে সে জনপদের প্রায় দুই হাজার পরিবারের মাঝে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেয়া হয়।

প্রিয় চিকিৎসক, আপনিও মেডিভয়েস অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত মতামত, দেশ-বিদেশে চিকিৎসকদের বিভিন্ন সাফল্য, পুরস্কার, মেডিকেল ক্যাম্পাস, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শসহ লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-[email protected]-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।
Add
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

চীনে রহস্যজনক ‘করোনা ভাইরাসে’ দ্বিতীয় মৃত্যু

একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সতর্কতা

চীনে রহস্যজনক ‘করোনা ভাইরাসে’ দ্বিতীয় মৃত্যু

একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত