২৪ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:৩৯ পিএম

অধ্যাপক ডা. মনসুর খলিলের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

অধ্যাপক ডা. মনসুর খলিলের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ

মেডিভয়েস রিপোর্ট: কিশোরগঞ্জ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ কিংবদন্তী অধ্যাপক ডা. মনসুর খলিলের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। 

এ উপলক্ষ্যে আজ মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) বাদ আছর খ্যাতিমান এ অধ্যাপকের শেষ কর্মস্থল সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া-মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। কলেজ প্রশাসনের উদ্যোগে এ দোয়ায় অংশ নেন শিক্ষক ও বিভিন্ন ব্যাচের শিক্ষার্থীরা। 
 
অধ্যাপক ডা. মনসুর খলিল ঈর্ষণীয় মেধা, জ্ঞানের প্রতি সুতীব্র তৃষ্ণা, অপরিসীম দায়িত্ববোধের মাধ্যমে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। পেশাদারিত্বের বাইরে গিয়ে শিক্ষার্থীদের নিজ সন্তানের মতো মমতা দিয়ে জয় করে নিয়েছেন তাদের হৃদয়। 

অধ্যাপক ডা. মনসুর খলিল জন্ম গ্রহণ করেন ১৯৬১ সালের ৫ ডিসেম্বর পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডিতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে। মা আছিয়া সুলতানা পরিবারের অধিকর্তা। পিতা ডা. মিরাজ আহমেদ ছিলেন সামরিক কর্মকতা। যিনি একসময় ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। দুই ভাই এক বোনের মধ্যে তিনি মেঝ, বড় ভাই অধ্যাপক ডা. মহসিন খলিল। বোন সবার ছোট।

পড়াশোনা

১৯৭৬ সালে কুমিল্লা বোর্ডের অধীনে চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় চার বিষয়ে লেটারমার্কসহ প্রথম বিভাগ অর্জন। অর্জিত নম্বর ৭৪%। সম্মিলিত মেধা তালিকায় ১৫তম স্থান। ১৯৭৮ সালে ঢাকা বোর্ডের অধীনে ময়মনসিংহের নাসিরাবাদ কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষা একই রেজাল্টের পুনরাবৃত্তি। চার বিষয়ে স্টার মার্কসহ প্রথম বিভাগে উত্তীর্ণ। ৮২.২% নম্বর পেয়ে সম্মিলিত মেধা তালিকায় আবারো ১৫তম স্থান। ঢাকা মেডিকেল কলেজে পড়ার সুযোগ পেয়েও শুধুমাত্র বড় ভাইয়ের সাথে পড়তে চলে আসা ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। 

মেডিকেল জীবন শুরু করেন ম-১৬ ব্যাচে। মেডিকেল প্রাঙ্গণেও রচনা করেন ধারাবাহিক সফলতার মহাকাব্য। অভূতপূর্ব ফলাফলে হয়ে ওঠেন ক্যাম্পাসের পরিচিত মুখ। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে প্রথম পেশাগত পরীক্ষায় প্রথম স্থান; দ্বিতীয় ও তৃতীয় পেশাগত পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান এবং চূড়ান্ত পেশাগত পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জন। শুধু কমিউনিটি মেডিসিন ও ফরেনসিক মেডিসিন ছাড়া বাকি সব বিষয়ে অনার্স মার্কস প্রাপ্তি। ১৯৮৪ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন। 

বর্ণাঢ্য কর্মজীবন

১৯৮৫ সালে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহকারী সার্জন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৮৬ সালে ৮ম বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করে স্বাস্থ্য ক্যাডারে পুরো বাংলাদেশে প্রথম স্থান অর্জন করেন। শরিয়তপুরের জাজিরা থানায় মেডিকেল অফিসার হিসেবে অত্যন্ত জনপ্রিয়তার সাথে দুই বছর (১৯৮৬-৮৮) দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ঢাকা মেডিকেল কলেজে প্রভাষক ছিলেন ১৯৯০ সাল পর্যন্ত। ১৯৯০ সালে এনাটমিতে এমফিল করতে আইপিজিএমআর এ আসেন। এমফিলেও প্রথম স্থান অর্জন!

যদিও বাবার ইচ্ছে ছিল তাঁর তুখোড় মেধাবী ছেলেটিকে অনেক বড় সার্জন হিসেবে দেখার। কিন্তু ডা. মনসুর খলিলের স্বপ্ন ছিল নিজেকে একজন আদর্শ শিক্ষক হিসেবে গড়ার। তাই তাঁর পছন্দ ছিল এনাটমি। এমফিল শেষে ১৯৯৩ সালে এনাটমি বিভাগে সহকারী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে। পিএইচডি অর্জনের জন্য ১৯৯৪ সালে পাড়ি জমান জাপানের ওসাকা ইউনিভার্সিটিতে। পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন ১৯৯৯ সালে। সেখানেও তিনি রেকর্ড সংখ্যক নম্বর অর্জন করে স্পেশাল রিকমেন্ডেশন পান। তাকে গবেষণার কাজে জাপানে থেকে যেতে বলা হলো বেশ উচ্চ পারিশ্রমিকে। কিন্তু তিনি রাজি হননি। অর্থ আর আর সম্মানের লিপ্সা কখনও তাকে স্পর্শ করেনি।

১৯৯৯ সালে দেশে ফিরে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজে। ২০০১ সাল পর্যন্ত সেখানেই কর্মরত ছিলেন। জ্ঞান অর্জনের এক অদম্য কিন্তু ব্যতিক্রমী নেশায় ২০০১ সালে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভেটেরিনারি এনাটমির কম্পারেটিভ এনাটমিতে এমএস কোর্সে প্রবেশ করেন তিনি। সাফল্যের পুষ্পমাল্যে এখানেও তার একচ্ছত্র অধিকার। ফলাফল অবধারিতভাবেই প্রথম শ্রেণিতে প্রথম। তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র এনাটমিস্ট যিনি মানুষ এবং অন্যান্য প্রাণীর মধ্যকার তুলনা নিয়ে অধ্যয়ন করেছেন।

এক কর্মস্থলে বেশিদিন মন টিকতো না তার। বদলি হয়ে ২০০১ সালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে চলে আসেন খুলনা মেডিকেল কলেজে। ২০০২ সালে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করেন সিলেট এম.এ.জি ওসমানী মেডিকেল কলেজে। এখানে ২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি বিভাগীয় প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। 

এরই মাঝে ২০০৪ সালে সিওমেক থেকেই ফরেনসিক মেডিসিনে ডিপ্লোমা ডিগ্রি অর্জন করেন। বরাবরের মতো এখানেও প্রথম স্থান। ২০০৫ সালে অর্জন করেন ফরেনসিক মেডিসিনে এমসিপিএস ডিগ্রি।

২০০৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনস্থ সেন্টার ফর মেডিকেল এডুকেশন থেকে লাভ করেন গগবফ ডিগ্রী। এরপর ২০০৯ এ যোগদান করেন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে। 

২০১১ সালে অধ্যক্ষ হিসেবে যোগদান করেন কিশোরগঞ্জে প্রতিষ্ঠিত শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে। নতুন প্রতিষ্ঠিত এই মেডিকেল কলেজটিকে নিজের সন্তানের মতো আগলে রেখেছেন তিনি। হাঁটি হাঁটি পা পা করে এক সময় তার হাত ধরে দাঁড়িয়েছে মেডিকেল কলেজটি। ভবন প্রতিষ্ঠা, লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা, বিভাগগুলোতে পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগসহ সব বিষয়ে তিনি বলতে গেলে একাই দৌড়েছেন। তরুণ শিক্ষার্থীরা যাতে নতুন ক্যাম্পাস হিসেবে কোনোভাবেই শিক্ষার সুযোগ থেকে বঞ্চিত না হয় সেই চিন্তাই তার মাথায় ছিল সবসময়। 

বহু ভাষায় পারদর্শী 

ডা. মনসুর খলিল মেধার ক্ষেত্রে অদ্বিতীয় ছিলেন। যোগ্যতায় ছিলেন অতুলনীয়। বাংলা ছাড়াও জানতেন ইংরেজি, আরবি, উর্দু, ফারসি, হিন্দি, জাপানিজ ও জার্মান ভাষা। চাইলেই পারতেন শত সীমাবদ্ধতায় ঘেরা এই দেশের সীমানা ছাড়িয়ে প্রবাসের কোনো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে ভোগ বিলাসের সুস্থির জীবন। সে সক্ষমতা তার ছিল। সুযোগ ছিল আকাশ সমান খ্যাতি বগলদাবা করার। সব বাদ দিয়ে তিনি বেছে নিয়েছিলেন দুটো শার্ট দুটো প্যান্ট নিয়ে জৌলুশহীন জীবনযাপন। 

কুর্মিটোলায় করোনা বেড পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি