ঢাকা      বুধবার ১৮, সেপ্টেম্বর ২০১৯ - ৩, আশ্বিন, ১৪২৬ - হিজরী



দেব দুলাল দে পরাগ

নর্থ-ইস্ট মেডিকেল কলেজ


"কবর" কবিতার মেডিকেলীয় ভার্শন

এইখানে মোর এনাটমি ডিপার্টমেন্ট, বিল্ডিংয়ের ঐ ফ্লোরে

তিন বছর টানা পেন্ডিং খেয়েছি, ভেসেছি নয়নের জলে।

২০৬ টা বোনস কিনে এনেছিনু, পাউডার মাখা স্মোথ

একে একে সব ক্ষয়ে গেল বলে, কাঁদি ভাসি যেত মোর বুক।

 

আইটেম দিতে যাইবার কালে পড়ি লইতাম আমি কত

হেতা দেখিয়া ফ্রেন্ডগুলা মোর তামাশা করিত শত।

এমনি করিয়া কত আইটেম-কাহিনী, জীবনের সাথে মিশে

ছোট-খাটো তার হাসি ব্যাথা মাঝে হারা হয়ে গেনু দিশে।

 

কার্ড দিতে যাইবার কালে, পড়িতাম ধরিয়া ফিমার

ভাইবার টেবিলে তবু কেন যে, থ্রোট ব্লক হতো বারে-বার।

স্যার ম্যাডামেরে কনভিন্স করি, ক্লিয়ার করিতাম কার্ড

কদাচিৎ একবার ক্লিয়ার হইলেই স্ট্রং হইয়া যাইতো হার্ট।

ভয় পাস নে - ভয় পাস নে জুনিয়র! আরো কত কাহিনী বাকি

একে একে বলিব আজ সব, ভিঁজিয়া যাইবে আঁখি ।।

 

এইখানে মোর ফিজিওলজি ডিপার্টমেন্ট, ঐ খানে বায়োক্যাম

ভয় পেয়েছিস ! কি করবো জুনিয়র, ঐ তো ডাকে ম্যাম।

সেই ফালগুনে টিচার মোর এসে কহিল আমারে ডাকি

বাপজান আইটেম দিতে আসো, আমরা যে ওয়েট করিয়া থাকি।

দুই চোখে সব অন্ধকার দেখিয়া, পড়িলাম ঘুরিয়া ফ্লোরে

সেই শুয়াতেই কাজ হইয়া গেল, নিয়া চলিল আউটডোরে।

দুই চারি জনে লইয়া আমারে, চলিল যবে বয়ে

অনেকেই আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল কোথা যাও ওরে লয়ে।

তাদের কথার উত্তর দিতে কথা থেমে গেল মুখে

সারা দুনিয়ার যত ভাষা আছে, কেঁদে ফিরে গেল দু:খে।

নিউ এডিশন গাইটন ব্লু-প্রিন্ট দুহাতে জড়ায়ে ধরি

চিল্লানি দিয়ে কত যে কাঁদিতাম সারা দিনমান ভরি ।।।

 

ঔখানে মোর মেডিসিন ডিপার্টমেন্ট, সিঁড়িটা থেকে বাঁয়ে

পড়িতে বসিয়াছিলাম ইন্টারেস্ট নিয়ে মনের মতন টপিক পেয়ে।

এতো আদরের সাবজেক্ট-রে তবু সহজ লাগিতো না মোটে

কঠিন কঠিন ডায়াগনোসিস সব লিখিতে হইতো নোটে।

নোটের পর নোট করিতাম, মুখস্ত করিতাম বসে বসে

উইক-এন্ড হলেই দৌড়াইতাম না আমি বাপের বাড়ির দেশে।

 

টিচার-রা সব কঠিন ছিল, চাহে কি ক্লিয়ার দিতে

অনেক পড়িয়া আইটেম তবু ক্লিয়ার করিয়াছিলাম বটে।

সেই সোনামুখ মলিন হয়েছে, ফোটে না সেথায় হাসি

কালো দুটি চোখ রহিয়া রহিয়া অশ্রু ওঠে যেন ভাসি ।।।

 

হেথায় দেখা যায় সার্জারি ডিপার্টমেন্ট, সাত তালার বাঁয়ে

রামধনু বুঝি নেমে এসেছে ভেস্তের দ্বার বেয়ে

সব ডিপার্মেন্টেই গোল খেয়ে শেষে কি জানি ভাবিতাম সদা

অতটুকু বুকে লুকাইয়া ছিল কে জানিত কত ব্যাথা।

 

বেইলি লাভের মলাট খানি তার দেখিতাম যবে চেয়ে

আমার দাদির ছবি খানি মোর হৃদয়ে উঠিত ছেয়ে

বুকেতে 'দাসেরে' জড়ায়ে ধরিয়া কেঁদে হইতাম সারা

রঙিন সাঁঝরে ধুয়ে মুছে দিত মোদের চোখের ধারা ।।।

 

আপন হস্তে বইগুলা সব বাধিয়া দিলাম দড়ি

জুনিয়র! ধর ধর বুক ফেটে যায়, আর বুঝি নাহি পারি।

এইখানে এই টেবিলের পাশে আরো কাছে আয় জুনিয়র

নাড়াছাড়া করিস নাকো, জাগিয়া উঠিবে বই ভর্তি ধূলোঝড়

আস্তে আস্তে খুলে দেখ দেখি কমিউনিটি মেডিসিন বই

পাবলিক হেলথের ডেফিনিশন পুরোটা মুখস্ত করিস তুই ।।।

 

ঔ দূর বনে সন্ধ্যা নামিছে ঘন আবিরের রাগে

তাহা দেখিয়া টার্ম ক্লিয়ার করিতে, বড় সাধ আজ জাগে

বোর্ড হতে প্রশ্ন হইয়াছে শুনেছি কঠিন করে

মোর জীবনের প্রফ পাশ, ভাবিতেছি কত দূরে

জোড়হাত জুনিয়র মোনাজাত কর, আয় খোদা রহমান

প্রফ পাশ করাইয়ো তুমি, এটাই তো স্টুডেন্টের সম্মান ।।।

সংবাদটি শেয়ার করুন:

 


পাঠক কর্নার বিভাগের সর্বাধিক পঠিত

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

এক্সাম ফোবিয়া ও ডিপ্রেশন: মুক্তির সহজ সমাধান

প্রশ্ন: স্যার আমি মেডিকেলের ৩য় বর্ষের ছাত্রী। মেডিকেলে ইতিমধ্যেই ১ বছর লস…

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

ডাক্তাররা রোগের চিকিৎসা করে, মৃত্যুর নয়

: ব্যাটসম্যানদের ভুলে আজ খেলাটা চলে গেল! : ভুল বলছেন কেন? বল…

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সন্তানের থ্যালাসেমিয়ার জন্য পিতা-মাতার অজ্ঞতাই দায়ী!

সিএমসি, ভেলোরে আমি যে রুমে বসে রোগী দেখছি সেখানে ইন্ডিয়ার অন্যান্য রাজ্যের…

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

আনিসের প্রত্যাবর্তন 

রাস্তায় একজনের মুখে সরাসরি সিগারেটের ধোঁয়া ছেড়ে দিলো আনিস। আচমকা এ আচরণে…













জনপ্রিয় বিষয় সমূহ:

দুর্যোগ অধ্যাপক সায়েন্টিস্ট রিভিউ সাক্ষাৎকার মানসিক স্বাস্থ্য মেধাবী নিউরন বিএসএমএমইউ স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢামেক গবেষণা ফার্মাসিউটিক্যালস স্বাস্থ্য অধিদপ্তর