১৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১০:২৭ এএম

গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে চিকিৎসকদের যত অবদান

গৌরবময় মুক্তিযুদ্ধে চিকিৎসকদের যত অবদান

মেডিভয়েস ডেস্ক: আজ মহান বিজয় দিবস। বাঙালির জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জনের দিন। বাঙালির মুক্তি এসেছিল অনেক রক্ত ঝরিয়ে, শোষণ-বঞ্চনা আর যন্ত্রণার শেষে লাখো মানুষের আত্মাহুতি ও বাংলা মায়ের আত্মদানের বিনিময়ে।

দুই যুগের পাকিস্তানি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিশ্বের মানচিত্রে নতুন দেশ হিসেবে স্থান করে নিয়েছিল যে বাংলাদেশ, তা পার করল ৪৮ বছর।

সেই বিজয়ে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের যেমন অবদান ছিল ঠিক তেমনই অবদান ছিল জাতির সবচেয়ে মেধাবী শ্রেণি চিকিৎসক সমাজের। 

কিন্তু মুক্তিযুদ্ধে ডাক্তার ও মেডিকেল শিক্ষার্থীদের অনেক অবদান ও আত্মত্যাগ থাকলেও তাদের ভূমিকা নিয়ে গণমাধ্যমে তেমনভাবে প্রচার পায় না। মেডিকেল প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালগুলো ছাড়া আর কোথাও তেমন তাদের আলোচনাও হয় না।

আসুন জেনে নিই মহান মুক্তিযুদ্ধে চিকিৎসকদের কিছু অবদান-

বাংলাদেশের প্রথম হাসপাতালের নাম ‘বাংলাদেশ ফিল্ড হসপিটাল’। কুমিল্লার ত্রিপুরা সীমান্তে অবস্থিত এই হাসপাতালটি 'বাংলাদেশ ফোর্সেস হসপিটাল’ বা ‘বাংলাদেশ হাসপাতাল’ নামেও পরিচিতি ছিল।

বীরপ্রতীক ডা. সিতারা রহমান এই হাসপাতালের কমান্ডিং অফিসারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। সাথে আরো পাঁচজন ডাক্তার এবং কিছু ভলান্টিয়ার মিলে হাসপাতালটি চালাতে সাহায্য করেন।

যুদ্ধ যত বাড়ে, দেশের অন্য মেডিকেল কলেজ থেকে শিক্ষার্থীরা এসে হাসপাতালে যোগ দিতে থাকে। তারা আহত মুক্তিযোদ্ধাদের দিনরাত চিকিৎসা ও সেবা দিয়ে সুস্থ করে তুলে। সেসব বীরপুরুষরা আবার যুদ্ধের ময়দানে ফিরে যায়, দেশের হয়ে লড়ে।

একাত্তরে ঢাকা মেডিকেল কলেজের অধ্যাপক ছিলেন ডা. ফজলে রাব্বি। তার সাথে ছিলেন মিটফোর্ড হাসপাতালের সহযোগী অধ্যপক ডা. আলিম।

নিজেদের জীবন বাজি রেখে তারা অন্যান্য ডাক্তার ও মেডিকেল ছাত্রদের নিয়ে যুদ্ধে আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করতেন, অস্ত্রোপচার করতেন।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে পাশ করা তরুণ ডা. আজহারুল হকের প্রাইভেট চেম্বার ছিল ঢাকার হাতিরপুলে সায়্যিদা ফার্মেসির সাথেই।

আহত মুক্তিযোদ্ধাদের গোপনে সেই চেম্বারে নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিতেন। এমনকি রাতের আঁধারে বিভিন্ন এলাকায় ঘুরে ঘুরেও তিনি আহত মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসা করতেন।

এই জন্য তাদের চরম ত্যাগও করতে হয়। ১৫ ডিসেম্বর তাদেরকে অন্যান্য বুদ্ধিজীবীদের সাথে উঠিয়ে নিয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।

যেকোনো যুদ্ধে ডাক্তারদের অনেক গুরুদায়িত্ব পালন করতে হয়। মুক্তিযুদ্ধেও এর ব্যতিক্রম ছিল না। তারা যেমন নিজেরাও যুদ্ধ করেছে, এর পাশাপাশি আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসাও প্রদান করেছে।

মুক্তিযুদ্ধে ডাক্তারদের ভুমিকা নিয়ে আলোচনা করলে তাদেরকে দুটো গ্রুপে ভাগ করতে হবে।

এক গ্রুপ আহত যোদ্ধা ও অন্যান্য বাংলাদেশীদের চিকিৎসা প্রদান করত, আরেক গ্রুপ ছিল ফিল্ডে নিজেরাও যুদ্ধ করত ও আহতদের চিকিৎসাও করত।

এভাবেই মুক্তিযুদ্ধে দেশের জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন ডা. আবুল ফজল, ডা. নুরুল ইসলাম, ডা. জিকরুল হক, ডা. সামসাদ আলী, ডা. লেঃ কর্নেল জাহাঙ্গীর, ডা. মেজর রিয়াজুর রহমান, ডা. মেজর এ কে এম আসাদুল হকসহ আরো অনেকে।

ডাক্তারদের মত মেডিকেল ছাত্ররাও দুটো গ্রুপে ভাগ ছিল। এক গ্রুপ চিকিৎসা কাজে সিনিয়রদের সাহায্য করত, আরেক গ্রুপ সরাসরি যুদ্ধে চলে গিয়েছিল।

নীপা লাহিড়ী নামের ছাত্রী, হুমায়ুন ফরিদ, হাসান শহিদ, সিরাজুক ইসলামসহ অনেক মেডিকেল শিক্ষার্থী যুদ্ধে প্রাণ দেন।

আজকের এই বিজয় দিবসে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করছি সেসব মহান মানুষদের যাদের সবার আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা অর্জন করেছি স্বাধীনতা, বিশ্বের বুকে একটি স্বাধীন দেশ হিসেবে গর্বের সাথে মাথা তুলে দাঁড়াতে পেরেছি।

জাতীয় মেধায় প্রথম হওয়া চিকিৎসকের নির্মোহ অভিব্যক্তি

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই: ১৪ মাসের মেয়েটাকে দেখি না তিন সপ্তাহ ধরে 

কুর্মিটোলায় করোনা বেড পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

জাতীয় মেধায় প্রথম হওয়া চিকিৎসকের নির্মোহ অভিব্যক্তি

করোনার বিরুদ্ধে লড়াই: ১৪ মাসের মেয়েটাকে দেখি না তিন সপ্তাহ ধরে 

কুর্মিটোলায় করোনা বেড পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসা না দিলে বেসরকারি হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিল

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি