১৩ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৭:১৪ পিএম

শেবাচিমের ভেন্টিলেটর মেশিন বিকল: ডা. নয়নের মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি

শেবাচিমের ভেন্টিলেটর মেশিন বিকল: ডা. নয়নের মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) ভেন্টিলেটর মেশিন বিকল থাকায় চিকিৎসার অভাবে ডা. মারুফ হোসেন নয়নের মৃত্যুর অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠন করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) এ কমিটি গঠিত হয়েছে। 

বিষয়টি নিশ্চিত করে হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন  শুক্রবার (১৩ ডিসেম্বর) রাতে মেডিভয়েসকে বলেন, ‘ডা. নয়নের মৃত্যুতে চিকিৎসায় কোনো উদাসীনতা ছিলো কিনা তা খতিয়ে দেখতে হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. জসীম উদ্দিন হাওলাদারের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য বলা হয়েছে।’

কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, অ্যানেসথেসিয়া বিভাগের প্রধান ও সহযোগী অধ্যাপক ডা. শফিকুল ইসলাম, মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডা. ইমরুল কায়েস ও আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. মাশরেকুল ইসলাম।

চিকিৎসক সমাজে ক্ষোভ 

এদিকে চিকিৎসার অভাবে ডা. নয়নের মৃত্যুতে চিকিৎসক সমাজের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তার ব্যাচমেটরা জানিয়েছেন, ‘মেশিন নষ্ট এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে শেবাচিমের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বরাবর একটি চিঠি দেওয়া হবে। সবাই দায়িত্ব এড়াতে গিয়ে তাকে দ্রুত এখান থেকে পাঠিয়ে দিয়েছে। তাকে টিউবও তো দিতে পারতো, একটি ইনকিউবিশনও তো করতে পারতো।’

তার মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে স্থানীয় বিএমএ ও স্বাচিপসহ বিভিন্ন চিকিৎসক সংগঠন। 

বন্ধ হয়ে গেলো শেবাচিমের আইসিইউ

দশটি ভেন্টিলেটরের মধ্যে সচল থাকা একমাত্র মেশিনটিও বিকল হয়ে যাওয়ায় দক্ষিণাঞ্চলের একমাত্র শেবাচিমের নিবির পরিচর্যা কেন্দ্রের (আইসিইউ) কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। 

তবে দুই বছরের ব্যবধানে সবগুলো ভেন্টিলেশন মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এর পরিচর্যা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। 

এ বিষয়ে হাসপাতাল পরিচালক মেডিভয়েসকে বলেন, এত অল্প সময়ের ব্যবধানে মেশিনগুলো নষ্ট হয়ে দক্ষিণাঞ্চলের প্রায় এক কোটি মানুষ ঝুঁকির মুখে পড়লেন। ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট হওয়ার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে আগে থেকেই জানিয়ে আসা হচ্ছে। মেশিন সরবরাহকারী সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের প্রকৌশলীরা একবার এসে তিনটি ভেন্টিলেটর সচল করে দিয়ে যান। কিন্তু কিছুদিন পরে তা আবার বিকল হয়ে পড়ে। আর আইসিইউর বর্তমান অবস্থাও কর্তৃপক্ষকে অবগত করা হয়েছে। তারা দ্রুত এর সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন।

তিনি আরও জানান, শেবাচিম হাসপাতালে ২০১৭ সালের ২৩ জুলাই মাসে আইসিইউ চালু করা হয়। এ ইউনিটটি চালুর সময় থেকেই রোগীদের জন্য ১০টি আইসিইউ বেড, ১০টি বড় আকারের ভেন্টিলেটর মেশিন, ৩টি ছোট আকারের ভেন্টিলেটর ও মনিটর সরবরাহ করা হয়। কিন্তু একে একে সব কয়টি ভেন্টিলেটর মেশিন নষ্ট হয়ে যাওয়ায় এখন এ ওয়ার্ডটিতে রোগীর সেবা প্রদান এক রকম বন্ধই রয়েছে। 

প্রসঙ্গত, শ্বাসকষ্ট জনিত সমস্যার কারণে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজের ৪১তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ও ডায়বেটিক হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মারুফ হোসেন নয়ন গত মঙ্গলবার (১০ ডিসেম্বর) শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হন। পরের দিন সকালে তার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউ ইউনিটে নেয়া হয় কৃত্রিমভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস দেয়ার জন্য। 

কিন্তু সব ভেন্টিলেটর মেশিন বিকল থাকায় তাকে কৃত্রিম উপায়ে শ্বাসপ্রশ্বাস দেয়া সম্ভব হয়নি। পরে চিকিৎসকরা দ্রুত তাকে ঢাকায় রেফার্ড করেন। কিন্তু এর আগেই ডা. নয়নের মৃত্যু হয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত