১২ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৬:০৩ পিএম

একই পদে একাধিকজনকে পদায়ন, বিপাকে কয়েকশ’ চিকিৎসক

একই পদে একাধিকজনকে পদায়ন, বিপাকে কয়েকশ’ চিকিৎসক

মো. মনির উদ্দিন: ৩৯তম বিসিএসে ক্যাডার পদে বিভিন্ন উপজেলায় একই পদে একাধিক চিকিৎসককে নিয়োগ দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে যোগদান করতে গিয়ে বিপাকে পড়েছেন কয়েকশ’ চিকিৎসক। এছাড়া নতুনদের যোগ দানের সঙ্গে সঙ্গে ওই পদে কর্মরত চিকিৎসক তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হওয়ায় অপমানিত বোধ করছেন তারা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, সমস্যাগ্রস্তরা রিপোর্ট করলে পরবর্তীতে তাদেরকে উপযুক্ত জায়গায় পদায়ন করা হবে। এক্ষেত্রে সুযোগ পেলে স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

এ প্রসঙ্গে বরিশালের হিজলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. মীর মাজহারুল ইসলাম মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমাকে নিজ উপজেলায় পদায়ন করা হয়েছে। বাসা থেকে হাসপাতালের দূরত্ব পাঁচ মিনিট। এখানে মেডিকেল অফিসারের দুটি পদ রয়েছে। এখানে আমি কর্মরত আছি। আরেকটি পদ শূন্য। ৩৯ এ আমার উপজেলায় নতুন দুইজনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ বিসিএসের গেজেটে বলা হয়েছে, এ পদে পূর্ববর্তী পদায়নকৃত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য হবেন। তাকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করা হবে। আমরা অধিদপ্তরে দুই দিন যাবৎ ঘুরছি। দরখাস্ত জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে, কিন্তু পরিষ্কার কোনো সিদ্ধান্ত পাইনি।’

নিজ উপজেলায় থাকার আগ্রহের কথা জানিয়ে নোয়াখালী আব্দুল মালেক উকিল মেডিকেল কলেজের দ্বিতীয় ব্যাচের এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘ঈদের দায়িত্ব, পূজায় দায়িত্ব—এমনকি ডেঙ্গুর সময় যখন কেউ ছিল না, তখন সব দায়িত্ব আমি একা পালন করেছি। এখন নতুন যারা এসেছেন তারা কেউই এ উপজেলার না, বাইরের। তারা আজকে যোগদান করেছেন, আর আমি অবমুক্ত।’ 

এ অবস্থাকে বড় সংকট হিসেবে উল্লেখ করে ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. সিফাত জামিল তারিক মেডিভয়েসকে বলেন, ‘আমার উপজেলাতে চারজন চিকিৎসক এ সংকটে আছেন। ২/১টি উপজেলা বাদে সারাদেশে গড়ে একটি করেও যদি ধরেন—তাহলে ৫৯৩ উপজেলার মধ্যে প্রায় পাঁচ শতাধিক চিকিৎসক এ হয়রানিতে পড়েছেন। তারা প্রতিদিন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে, আবার কেউ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসছে না। আমরা দায়িত্ব বাদ দিয়ে ছোটাছুটি করছি।’ 

ঢাকা মেডিকেল কলেজের ২০০৮-০৯ সেশনের এ শিক্ষার্থী আরও বলেন, ‘৩৯ এ একটি পদে দুইজনকে পদায়ন করা হয়েছে। নতুন চাকরিতে জয়েন করতে এসে তারা সমস্যায় পড়ছেন। প্রায় জায়গাতেই এক পোস্টে দুইজনকে দেওয়া হয়েছে। কোনো কারণ ছাড়াই শত চিকিৎসককে অটোরিলিজ দিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে নিয়ে আবার নতুন করে একটি জায়গায় নিয়ে যাওয়া—এটা আমাদের জন্য একটি হয়রানি।’

একজন জ্যেষ্ঠ চিকিৎসককে সরানোর মাধ্যমে অনুজের পদায়নের বিষয়টিকে অবমাননাকর হিসেবে দেখছেন চিকিৎসকরা। তারা বলেন, যার বিপরীতে পদায়ন করা হয়েছে, তিনি বিষয়টি জানেন না। কিন্তু যোগ দিতে যাওয়ার পর বিষয়টি পরিষ্কার হচ্ছে। এতে তারা হতাশ হয়ে যাচ্ছেন। চার হাজার ৪০০ চিকিৎসকের কেউই জানেন তার বিপরীতে কাউকে পদায়ন করা হয়েছে কিনা।   

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলাল হোসাইন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই। মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে আমরা আগেই একটি অফিস আদেশ দিয়েছি—যদি কোনো জায়গায় ওভার পোস্টিং হয়, তাহলে যিনি আগে পদায়িত হয়েছেন তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মস্থল থেকে তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত হয়ে যাবেন। পরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে রিপোর্ট করবেন, তাকে পরবর্তীতে পদায়ন করবো। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট সবাই অবগত।’

স্বামী-স্ত্রী দুইজনকে একই জায়গায় পদায়নের কথা থাকলেও কোনো কোনো উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বিদ্যমান নিয়ম অনুযায়ী আগে যোগ দেওয়া চিকিৎসকে অটোরিলিজ দেওয়া হয়েছে। এতে কোনো কোনো দম্পতিও নতুন সমস্যায় পড়েছেন। 

এ প্রসঙ্গে ৩৭তম বিসিসে স্বাস্থ্য ক্যাডারে যোগ দেওয়া ডা. সিফাত জামিল তারিক বলেন, ‘আমার স্ত্রীকে স্পাউজ হিসেবে ৩৯তম বিসিএসে ময়মনসিংহের গরফগাঁওয়ে দেওয়া হয়েছে। এখানে আমার পদের বিপরীতে আরেকজনকে পদায়ন করায় আমাকে কর্মস্থল থেকে অটোরিলিজ দেওয়া হয়েছে। আমার স্ত্রী গর্ভবতী হওয়ায় বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে। স্পাউজ হিসেবে আমার স্ত্রীকে এখানে পদায়ন করা হয়েছিল। একই পদে আরেকজনকে দেওয়ায় জ্যেষ্ঠ হিসেবে আমাকে সরে যেতে হচ্ছে। মাত্র সাড়ে সাত মাস আগে আমাকে পদায়ন করা হয়েছিল।’

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. বেলাল হোসাইন বলেন, ’৩৯তম বিসিএসের পদায়নটা করেছে মন্ত্রণালয়। সে হিসেবে এ সংক্রান্ত একটি আদেশ মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে অধিদপ্তরের কিছুই করার নাই। এ কারণে যারা সমস্যায় পড়েছেন তারা আমাদের কাছে রিপোর্ট করবেন, পরবর্তীতে উপযুক্ত জায়গায় তাদেরকে পদায়ন করবো। এক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীকে একসঙ্গে দেওয়ার সুযোগ পেলে দেওয়া হবে। কোনো সমস্যা নাই।’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি