০৯ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৩:৩৭ এএম

চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 

চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী 
নবীন চিকিৎসকদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। ছবি: সংগৃহীত

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসকদের প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা পর্যায়ক্রমে হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন। চিকিৎসকদের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, আপনাদের যা প্রয়োজন সব দিয়ে দিতে পারব এমন প্রতিশ্রুতি আমরা (এখন) দিতে পারছি না। তবে ন্যূনতম প্রয়োজন মেটানোর ব্যবস্থা করা হবে। পর্যায়ক্রমে সব ব্যবস্থা হয়ে যাবে। কেবল মানুষের পাশে দাঁড়ান, তাদের সেবা দিন। হাসপাতালে চিকিৎসক না পেয়ে মানুষ অন্যত্র ছুটাছুটি করুক তেমনটি আমরা দেখতে চাই না।

রোববার রাজধানী বসুন্ধরা কনভেনশন সিটিতে ‘৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডরে নবনিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের যোগদান অনুষ্ঠানে এ সব কথা বলেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে ভ্যাকসিন হিরো পুরস্কার পেয়েছেন। তার পেছনে নিরলসভাবে কাজ করেছেন দেশের সব পর্যায়ের ডাক্তার, নার্স, তৃতীয় শ্রেণির কর্মচারীরা। তাদের কাজের ফলেই আমরা এ পুরস্কার পেয়েছি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আজ যারা যোগদান করলেন সেটার কৃতিত্ব প্রধানমন্ত্রীর। আড়াই বছর আগে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পাশে বসে আমাদের চিকিৎসক সংকটের কথা বলেছিলাম। তিনি জানতে চেয়েছিলেন কতজন নিয়োগ দিলে এই সংকট কাটবে? আমি বলেছিলাম আট থেকে ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগ দিলে মোটামুটিভাবে সংকট কাটবে। তিনি এ কথা শোনার পর বলেছিলেন ফাইল পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য। এ কথার শোনার পরদিনই চিকিৎসক নিয়োগের চাহিদা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেই। পরে দুদিনের মধ্যেই ১০ হাজার চিকিৎসক নিয়োগের ফাইলে সই করেন তিনি।’

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, গ্রামে বাস করা দেশের ৮০ ভাগ মানুষের স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে নবীন চিকিৎসকদের কাজ করতে হবে। চিকিৎসাসেবার মতো মহান কাজ আর হয় না। কিন্তু সেই সেবার কাজটি কেবল শহরের মানুষ পেলেই চলবে না, সেই সেবা পৌঁছে দিতে হবে গ্রামে থাকা দেশের আশি ভাগ মানুষের দৌড়গোড়ায়। তখনই আমাদের স্বাস্থ্যসেবার কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য পূরণ হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, কমিউনিটি ক্লিনিক স্বাস্থ্য সহায়তা ট্রাস্টের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. ইকবাল আর্সলান, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ।

অনুষ্ঠানে সহকারী সার্জনদের পক্ষে বক্তব্য রাখেন ৩৯তম বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডারে নিয়োগপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের নিয়োগ পরীক্ষায় প্রথম স্থান অর্জনকারী ডা. নীলিমা ইয়াসমিন ও সহকারী ডেন্টাল সার্জন ডা. মাহফুজ হাসান।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আপনাদের জার্নিটা শুরু হয়েছে। দেশে জেলা-উপজেলাতে ৮০ শতাংশ মানুষ বাস করে। তাদের সেবা করার দায়িত্ব আজ থেকে আপনাদের ওপর বর্তালো। সামনে অনেক কাজ, আপনাদের জেলা-উপজেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় পদায়ন করা হয়েছে। সব জয়াগা মনের মতো হবে এমনটা নয়। কোথাও সুবিধা রয়েছে, কোথাও অনেক অসুবিধা রয়েছে। এসব মেনে নিয়েই কাজ করতে হবে। সব ঘাটতি মেনেই এগিয়ে যেতে হবে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতার সময় দেশে ১০টি মেডিকেল কলেজও ছিল না মন্তব্য করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে ১১০টি মেডিকেল কলেজ প্রতিষ্ঠা হয়েছে। আরও হয়েছে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউট, চক্ষু বিজ্ঞান ইন্সটিটিউট, ডাইজেস্টিভ ডিজিজেস ইন্সটিটিউট। এ সব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব আপনাদেরই পালন করতে হবে। কাজেই আপনাদের সেভাবেই নিজেদের তৈরি করতে হবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি