০৬ ডিসেম্বর, ২০১৯ ১১:২৪ এএম

‘সারাদেশেই ২৪ ঘন্টা ডেলিভারি সিস্টেম চালু হবে’

‘সারাদেশেই ২৪ ঘন্টা ডেলিভারি সিস্টেম চালু হবে’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, মা ও শিশুমৃত্যু হার কমাতে আজ থেকে সারা দেশের ১৫০ ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টা ডেলিভারি সুবিধা পাওয়া যাবে, পর্যায়ক্রমে এই সেবা সারা দেশেই চালু হবে।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) ‘পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহ উদযাপন’ উপলক্ষে রাজধানীর পরিবার কল্যাণ অধিদফতরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

নিরাপদ মাতৃত্ব ও শিশু মৃত্যু হার প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এসডিজি অর্জনে ৩.৭.২ সূচকে কৈশোরকালিন মাতৃত্ব কমানোর ব্যাপারে জোর দেয়া হয়েছে। কারণ ১৪ বছর বা তার কম বয়সী কিশোরী মায়েদের মধ্যে গর্ভজনিত জটিলতার কারণে মৃত্যু ঝুঁকি ৫ গুণ বেশি। ২০ বছরের বেশি বয়সী মায়েদের তুলনায় ১৫ থেকে ১৮ বছর বয়সী মায়েদের মৃত্যুহার দ্বিগুণের বেশি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪ হাজার ৬২৮টি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্র রয়েছে। স্বাস্থ্যখাতে জনবলের অভাবে সব স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখা যাচ্ছে না। এ কারণে সরকার নতুন জনবল নিয়োগের কথা ভাবছে। মন্ত্রী বলেন, জনবলের অভাব রয়েছে, জনবল সংকট কেটে যাবে বলে আশা করছি। আর এটা হলে আমরা সবক’টি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র ২৪ ঘণ্টা খোলা রাখার ব্যবস্থা করবো।

জাহিদ মালেক বলেন, বিগত বছরগুলোতে দেশে মাতৃমৃত্যু ও শিশু মৃত্যুর হার কমানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জিত হয়েছে। নারী শিক্ষা, সফল টিকাদান কর্মসূচী এবং পরিবার পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়নের জন্যই এই সফলতা অর্জন করা সম্ভব হয়েছে। কিন্তু এই সফলতার পরও আমাদের অনেক অর্জন ম্লান হয়ে যায়, যখন একটি মেয়ে কিশোরী বয়সে মা হতে গিয়ে অকালে প্রাণ হারায়। 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বাল্যবিয়ে, কৈশোরকালীন মাতৃত্ব, কিশোরী মায়ের গর্ভে শিশুর বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি, মৃত সন্তান প্রসব, অপরিণত জন্ম, জন্ম নেয়া শিশুর কম ওজন ও প্রজননতন্ত্রের সংক্রমণের কারণে কিশোরী মায়েরা ঝুঁকির মধ্যে থাকে।

তিনি বলেন, পনের থেকে উনিশ বছরের বিবাহিত কিশোরীদের মধ্যে পরিবার পরিকল্পনার অপুরণীয় চাহিদার হার শতকরা ১৭ ভাগ। তাই পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি ব্যবহারে সকল দম্পত্তি উদ্বুদ্ধ করার পাশাপাশি বিবাহিত কিশোরীদের সঠিক পদ্ধতির ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবার বিষয়ে বিশেষভাবে উদ্বুদ্ধ করতে হবে।

কৈশোরকালীন মাতৃত্বের হার কমানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, দেশে কৈশোরকালীন মাতৃত্বের বর্তমান হার প্রতিলাখে ১১৩। যা ২০৩০ সালের মধ্যে পঞ্চাশে নামিয়ে আনতে হবে।

দেশের সব সরকারি স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রগুলোতে নারীদের ফ্রি স্যানিটারি ন্যাপকিন দেওয়া হবে বলে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, দেশের গ্রামাঞ্চলের মা ও মেয়ে শিশুদের জন্য অধিক মূল্য হবার কারণে ন্যাপকিন ব্যবহার করা সম্ভব হয় না। এতে করে তাদের শরীরে ক্যানসারসহ নানাবিধ জটিল রোগ সৃষ্টি হয়। এ কারণে দেশের সর্বত্র এ বছর থেকেই সরকারি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র থেকে আমাদের মা- বোনদের জন্য বিনামূল্যে এই স্যানিটারি ন্যাপকিন প্রদান করা হবে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণে সক্ষম দম্পতিদের উদ্বুদ্ধ করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে বিবাহিত কিশোরীদের সঠিকভাবে জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতির ব্যবহার ও প্রাতিষ্ঠানিক প্রসব সেবার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করার বিষয়েও জোর তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, পরিবার কল্যাণ সেবা ও প্রচার সপ্তাহে উঠান বৈঠক, মা সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদ, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী আ খ ম মহিউল ইসলাম।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি