৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৫ এএম
আপডেট: ৩০ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:৫০ পিএম

‘আইনের সংকীর্ণতায় কিডনি প্রতিস্থাপন-সংযোজন সম্ভব হচ্ছে না’

‘আইনের সংকীর্ণতায় কিডনি প্রতিস্থাপন-সংযোজন সম্ভব হচ্ছে না’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশে মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইনের পরিধি অত্যন্ত সীমিত ও সংকীর্ণ, ফলে সৃষ্ট অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দানের অভাবে প্রয়োজনীয় সংখ্যক কিডনি সংযোজন বা প্রতিস্থাপন করা সম্ভব হচ্ছে না। অথচ বিকল কিডনি চিকিৎসায় ডায়ালাইসেসের তুলনায় কিডনি প্রতিস্থাপন সহজতর, কম খরচের একটি উত্তম চিকিৎসা ব্যবস্থা।

শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারের উদ্যোগে দুই দিনব্যাপী গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র আন্তর্জাতিক নেফ্রোলজি সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বক্তারা এসব কথা বলেন।

বক্তারা বলেন, ২০১৮ সালের সংশোধিত মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন আইন ১৯৯৯ -এ কিডনি প্রতিস্থাপনের কোন সুব্যবস্থা নাই। দেশে মানুষের জীবন-কাল বেড়েছে অথচ দাতা ও গ্রহীতার বয়স ৬৫ থেকে ৭০ বছরে সীমিত করা হয়েছে। আইনের ধারা ৭/১ (খ) এবং ৭/২ (ক) জেলা শহরে অধ্যাপক পদমর্যদার চিকিৎসক না থাকায় মেডিকেল বোর্ড গঠন সম্ভব হবে না। প্রত্যয়ন বোর্ড (৯ক) ক্যাডাভেরিক জাতীয় কমিটি ঢাকায় সীমিত থাকবে (৯/২/ক) ক্যাডাভেরিক দান সম্পর্কে আইনে ৫ পৃষ্ঠা ব্যয়িত হয়েছে। বর্তমান দাতা এবং গ্রহীতা উভয়কে মিথ্যা বলতে প্রভাবিত করছে এবং দায়িত্ব বর্তাচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিংসকের ওপর।

আয়োজক কমিটির চেয়ারম্যান ও গণস্বাস্থ্য ডায়ালাইসিস সেন্টারের প্রধান অধ্যাপক ব্রি. জে. (অব:) মামুন মোস্তাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ রেনাল এসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কিডনি বিভাগের প্রাক্তন প্রধান অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স এন্ড সার্জনসের সভাপতি ডা. কাজী দীন মোহাম্মদ, প্রধানমন্ত্রীর সাবেক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী  এবং সম্মানিত অতিথি ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল সোসাইটি অব নেফ্রোলজির (আইএসএন) সভাপতি অধ্যাপক ডা. বিবেকানন্দ ঝাঁ।

প্রধান অতিথি অধ্যাপক ডা. মতিউর রহমান বলেন,  বাংলাদেশে জাতীয় পর্যায়ে ডায়ালাইসিস নেয়া বিকল কিডনি রোগীদের তালিকা তৈরি করতে হবে এবং অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এসব রোগীদেরকে কিডনি প্রতিস্থাপনের আওতায় আনতে হবে। এক্ষেত্রে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ প্রতিস্থাপনে আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে বাংলাদেশের আইন সংশোধনের পরামর্শ দেন তিনি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের শুরুতে  চিকিৎসাসেবায় অসামান্য অবদানের জন্য গণস্বাস্থ্য সমাজভিত্তিক মেডিকেল কলেজের ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. সৈয়দ আনোয়ারুল হাফিজ, নাক, কান, গলা বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ নুরুল আমিন,  চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রবিউল হোসেন এবং কিডনী বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. রফিকুল আলমকে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্র স্বর্ণপদক দেয়া হয়।

দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে দেশ-বিদেশের প্রায় দুই শতাধিক কিডনি বিশেষজ্ঞ, নার্স, বায়োমেডিক্যাল প্রকৌশলী অংশ নেন। এতে কিডনি রোগের আধুনিক চিকিৎসা, হেমোডায়ালাইসিস, কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট ইত্যাদি বিষয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপনা করা হয় এবং কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত