২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০৮:৫৪ পিএম
আপডেট: ২৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০৮:৫৭ পিএম

রমেকহার সেই নার্সকে বদলির সুপারিশ, আত্মহত্যার হুমকি নার্সের  

রমেকহার সেই নার্সকে বদলির সুপারিশ, আত্মহত্যার হুমকি নার্সের  

মো. মনির উদ্দিন: রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক ফাতেমা আক্তারকে লাঞ্ছিতের ঘটনায় হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. আশরাফুল ইসলাম লিমনকে বদলির সুপারিশ করা হয়েছে। 

গতকাল (২৬ নভেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবর হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. মো. শাহাদাত হোসেনের পাঠানো এক চিঠিতে এ কথা বলা হয়। 

এতে বলা হয়েছে, গত ২৫ নভেম্বর সান্ধ্যকালীন দায়িত্ব পালনের সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আক্তার অনন্যা ও ডা. মোছা. ফাতেমা আক্তার এবং সিনিয়র স্টাফ নার্সের মধ্যে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। তাৎক্ষণিকভাবে তা মীমাংসা করে দেওয়া হয়। কিন্তু পর দিন সকাল ৯টায় ডেন্টাল ইউনিটে কর্তব্যরত ডা. মোছা. ফাতেমা আক্তারকে হাসপাতালের সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. আশরাফুল ইসলাম লিমন শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেন।

এ সময় ওই ওয়ার্ডে কর্তব্যরত সহকারী অধ্যাপক ডা. আরিফুল ইসলাম বাধা দিলে তাকেও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়। 

এ ঘটনায় একই দিন মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. এ কে এম নুরুন্নবীর উপস্থিতিতে পরিচালকের কক্ষে জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডা. ফাতেমা আক্তার ও সিনিয়র স্টাফ নার্সের জবানবন্দি নেওয়া হয়। এ সময় সবার উপস্থিতিতে অধ্যাপক আরিফুল ইসলামকে লাঞ্ছিত করার কথা স্বীকার করেন আশরাফুল ইসলাম। 

সভায় সকল চিকিৎসক এবং সেবা তত্ত্বাবধায়কসহ নার্সিং সুপার ভাইজারদের সঙ্গে আলোচনা পর আশরাফুল ইসলামকে রংপুর বিভাগের বাইরে অতিসত্বর বদলির সিদ্ধান্ত হয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. আশরফুল ইসলাম লিমনকে অতিসত্বর বদলির জোর সুপারিশসহ অনুরোধ করা হলো। 

স্টাফ নার্সের আত্মহত্যার হুমকি

এদিকে এ সিদ্ধান্ত শোনার পর আত্মহত্যার হুমকি দিয়েছেন সিনিয়র স্টাফ নার্স মো. আশরাফুল ইসলাম। সহকর্মীদের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বলেন, ‘নার্সকে মারার কারণে ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিচার না করে তারা আমার বিচার শুরু করেন। তাদের আদেশের ভিত্তিতে আমি ক্ষমা চেয়েছি। তারপরও তারা আমার বদলির জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন জায়গায় তদবির করতে থাকে।’

চিঠিতে তিনি আরও বলেন, ‘বদলি হওয়ার চেয়ে আমার মরণ ভালো। তারা আমাকে মানসিকভাবে লাঞ্ছিত করে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছে।’

ইন্টার্ন চিকিৎসকের জিডি

অন্যদিকে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে রংপুর কোতয়ালী থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হালমার শিকার ইন্টার্ন চিকিৎসক সাবরিনা আফরিন অনন্যা। 

গতকাল (২৬ নভেম্বর) করা ওই জিডিতে তিনি বলেন, ‘হামলার সময় নার্সরা তাকে মারপিট ও হাসপাতাল ছাড়া করাসহ নানা রকম ভীতি প্রদর্শন করেন। আমাদের আশঙ্কা, আমরা বিবাদীগণসহ তাদের লোকজনের মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হইতে পারি। বিষয়টি ভবিষ্যতের জন্য ডায়েরিভুক্ত করতে চাই।’

প্রসঙ্গত, গত সোমবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধ্যায় হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটে ইনজেকশনের অ্যাম্পুল ভাঙছিলেন স্টাফ নার্স নিলুফার ইয়াসমিন উর্মি। এ সময় ইনজেকশন থেকে মেডিসিন ছিটকে এসে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সাবরিনা আক্তার অনন্যার চোখে এবং শরীরের পড়ে। পরে ডা. অনন্যা নার্সকে আরও সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে বললে উল্টো স্টাফ নার্স উর্মি বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।

ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পর দিন সকালে ৭০ থেকে ৮০ জন নার্স ডেন্টাল ইউনিট ঘেরাও করেন। এ সময় ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অনন্যা ও ডা. ফাতেমার ওপর হামলা চালায় তারা। তাদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে ডেন্টাল ইউনিটের সহকারী অধ্যাপক ডা. আরিফুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগমও তাদের হাতে লাঞ্ছিত হন। 

পরে অঘোষিত কর্মবিরতি ডেকে স্টাফ নার্স ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত