২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৫৫ পিএম
আপডেট: ২৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৫৮ পিএম

রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের উপর নার্সদের হামলা

রংপুর মেডিকেলে ইন্টার্ন চিকিৎসকের উপর নার্সদের হামলা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটের ইন্টার্ন চিকিৎসকের উপর হামলা চালিয়েছে হাসপাতালে কর্মরত স্টাফ নার্সরা। এ সময় উভয়পক্ষের কথা কাটাকাটি ও ধাক্কাধাক্কিতে ৩ জন আহত হয়েছেন। এছাড়াও লাঞ্ছিত হয়েছেন ২ চিকিৎসক। এ ঘটনায় মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছেন নার্স ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা।

মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে হাসপাতাল চত্বরে এ ঘটনা ঘটে। হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গতকাল সোমবার (২৫ নভেম্বর) সন্ধা সাড়ে ৬টার দিকে হাসপাতালের ডেন্টাল ইউনিটে ইনজেকশনের এ্যাম্পুল ভাঙছিলেন স্টাফ নার্স নিলুফার ইয়াসমিন উর্মি। এসময় ইনজেকশন থেকে মেডিসিন ছিটকে এসে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অনন্যার চোখে এবং শরীরের পড়ে। পরে ডা. অনন্যা ক্ষুব্ধ হয়ে নার্সকে আরও সতর্কতার সাথে কাজ করতে বললে উল্টো স্টাফ নার্স উর্মি বাকবিতণ্ডা শুরু করেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি শুরু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার সকালে ৭০ থেকে ৮০ জন স্টাফ নার্স ডেন্টাল ইউনিট ঘেরাও করেন। এ সময় স্টাফ নার্সদের সঙ্গে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. অনন্যা ও ডা. ফাতেমার ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। তাদের রক্ষায় এগিয়ে গেলে ডেন্টাল ইউনিটের সহকারী অ্যধাপক ডা. আরিফুল ইসলাম, সহকারী অধ্যাপক ডা. ফেরদৌসী বেগম লাঞ্ছিত হন। পরে অঘোষিত কর্মবিরতি ডেকে স্টাফ নার্স ও ইন্টার্ন চিকিৎসকরা পরিচালকের কার্যালয় ঘেরাও করে রাখেন।

হামলার শিকার রংপুর মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটের ইন্টার্ন ডা. সাবরিনা আফরিন অনন্যা বলেন, গতকাল সন্ধায় ডিউটিতে ছিলাম দুইজন ইন্টার্ন ডাক্তার। ওয়ার্ডে ছিলেন আরও একজন নার্স। সে রোগীকে ইনজেকশন দিচ্ছিলেন আর আমরাও সেই একই রোগীর ফলোআপ দিচ্ছিলাম। উনার হাতে থাকা ইনজেকশন থেকে মেডিসিন আমার চোখে এবং গায়ে ছিটে আসে। এটাকে আমি নিতান্তই সামান্য ঘটনা ভেবে উনাকে স্বাভাবিক ভাবেই বললাম- ‘সিস্টার একটু আস্তে আশে পাশে মানুষ আছে’। একটু দেখে কাজ করেন। এটা বলার সাথে সাথেই উনি আমার উপর রেগে গেলেন এবং বিভিন্ন কিছু বলে গালি দিচ্ছিলেন। আমি রোগী দেখা শেষ করে বের হতে হতে অন্য ইন্টার্ন ডাক্তারকে শুধু বলছি- ‘থার্ড ক্লাস মহিলাদের মত ব্যবহার’। এটা শোনার সাথে সাথেই সে আমাকে তুই করে গালি দিয়ে বের হয়ে আসে এবং আমাকে হুমকি দিতে দিতে আমার উপর ঝাপিয়ে পড়ে। এক পর্যায়ে সে আমার এপ্রনের কলার ধরতে আসলে আমি নিজেকে সেফ করার জন্য তাকে দুই হাত দিয়ে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দেই। তারপর সে আমাকে আরও হুমকি দেয়।

ডা. অনন্যা বলেন, এ ঘটনায় পর দিন সকাল ৮.২৪ মিনিটে লিমন নামক এক ব্রাদার আমাকে ফোন দিয়ে কোথায় আছি, ওয়ার্ডে কখন আসব জিজ্ঞেস করে। তারপর আমি এবং আমার সাথে থাকা ফিমেল ডিউটি ডাক্তার যখন হোস্টেল থেকে বের হই ওয়ার্ডে যাবার জন্য, তখন তাদের একজন আমাদের ফলো করতে থাকে। পরবর্তীতে আমরা ওয়ার্ডে প্রবেশ করার সাথে সাথে প্রায় ২০০ নার্স ও ব্রাদার এসে আমাকে এবং আমার সহকর্মী ফিমেল ডাক্তারকে গায়ে হাত তুলে টানাটানি করেন। বাধা দেয়ার জন্য আমার ডিপার্টমেন্টের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর একজন স্যার এবং ম্যামের গায়েও হাত তুলেন। তারপর পুলিশ এসে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

নার্স অ্যাসেসিয়েশনের সভাপতি ফোরকান আলীর সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, বৈঠকটি অমিমাংসিতভাবে শেষ হলেও কোনো পক্ষই কমসূচি দেবে না। এ নিয়ে কাল বুধবার বৈঠক হবে।

এদিকে, বিষয়টি সমঝোতায় আনতে ইন্টার্ন চিকিৎসক, স্টাফ নার্সদের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহাদৎ হোসেন ও রংপুর মেডিকেল কলেজের (রমেক) অধ্যক্ষ ডা. নুরুন্নবী লাইজুসহ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সমঝোতা বৈঠক হয়। দুপুর ২টা পর্যন্ত বৈঠকে কোনো সমঝোতা ছাড়াই অমিমাংসিতভাবে শেষ হয়। তবে কোনো পক্ষই কর্মসূচি দেবে না মর্মে সিন্ধান্ত হয়। কাল বুধবার আবার তাদের মধ্যে বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এ বিষয়ে রমেক হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. শাহাদৎ হোসেনের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, পরিচালক রংপুরে না থাকায় কোনো সিন্ধান্ত হয়নি। তবে বৈঠক হওয়ার পর হাসপাতালের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়েছে। সকলেই কাজে ফিরেছে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত