২৫ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৭ পিএম

নিজের ভাঙা পা নিয়েই রোগীদের হাসিমুখে সেবা দিচ্ছেন নার্স আয়শা

নিজের ভাঙা পা নিয়েই রোগীদের হাসিমুখে সেবা দিচ্ছেন নার্স আয়শা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: নিজের ভাঙা পা নিয়ে যেখানে বিশ্রামে থাকার কথা ছিল সেখানে তিনি সেবা দিয়েছেন অবিরত। তিনি আয়শা মার্যান প্রমি। পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সিনিয়র স্টাফ নার্স তিনি। 

ওই হাসপাতালে মোট ৫ জন সিনিয়র নার্সিং কর্মকর্তা রয়েছেন। তার মধ্যে রাশিদা আক্তার লিমা বর্তমানে ঢাকায় হেপাটাইটিস বিষয়ে ট্রেনিংয়ের জন্য ঢাকায় অবস্থান করছেন। ইসরাত জাহান নামের একজন অসুস্থতার কারণে ছুটিতে রয়েছেন। মরিয়ম আক্তার নামের একজন মাথায় সমস্যা নিয়ে ছুটিতে আছেন।  এস. এম.আজিজুল হক নামের একজন ওরিয়েন্টেশন ট্রেনিংয়ে বরিশালে অবস্থান করছেন।  যার কারণে তিনি (আয়শা মার্যান প্রমি) একমাত্র সিনিয়র স্টাফ নার্স হিসেবে ভাঙা পা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েও রোগীদের সেবা দিতে হচ্ছে। 

তার এ সেবাদানের এসব ‍দৃশ্য ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে।

নিজের ভাঙা পায়ে সেবাদানের নানা দৃশ্য ফেসবুক টাইমলাইনে দিয়ে আয়শা মার্যান লেখেন, এত কিছুর পরেও কিছু অসাধারন লোক বলবে নার্সরা ভালো সেবা দিতে জানেন না, নার্সরা আন্তরিক নন।

সহকর্মীরা বলবেন সবকিছুই লোক দেখানো ছিল, সহযোগিতা করি না। উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলবেন, কী আর করবেন আপনারা বনাম আপনারাই তো। একটু কম্প্রোমাইজ করেন। পেশার অন্যান্য নেতা ও সিনিয়ররা বলবেন, এটা তোমার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

ওকে মানিয়ে নিচ্ছি, মেনেও নিচ্ছি আপনারাও তাই করেন। যতই হোক সরকারি চাকরি বলে কথা। 

আয়শা মার্যান প্রমি তার ফেসবুক টাইমলাইনে আরও লেখেন, ‘পা ভাঙ্গার পরে, আমি রোগী হিসেবে হসপিটালে (নিজ কর্মস্থলে) ভর্তির সুবাদে ২৪ ঘন্টাই হসপিটালে থাকি, তার মধ্যে ১৮ ঘন্টা ডিউটি করি (বিকেল+রাত) বাকি ৬ ঘন্টা ঘুমাই। মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে দায়িত্ব পালনের জন্য আমিই একমাত্র ফিট ‘।

কে এই আয়শা মার্যান?

বরিশালের মেয়ে আয়শা মার্যান প্রমি সেন্ট আলফ্রেডস হাইস্কুল থেকে ২০০৬ সালে এসএসএসসি ও আখতার হোসাইন চৌধুরী মেমোরিয়াল ডিগ্রি কলেজ থেকে ২০০৮ সালে এইচএসসি কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। এরপর ভর্তি হন বরিশাল নার্সিং কলেজে।  

২০১২ সালে তিনি ডিপ্লোমা ইন নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারিতে ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর ২০১৪ সালে রাজশাহী ইউনিভার্সিটির অধীনে নার্সিং কোর্সে পোস্ট বেসিক ডিগ্রি লাভ করেন। 

২০১৭ সালে ডেফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক হেলথে ডিগ্রি অর্জন করেন।

কর্মজীবনে তিনি এপোলো হাসপাতালের সিনিয়র নার্সিং অফিসার, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটিতে সিনিয়র ফ্যাকাল্টি ও ল্যাবএইড হাসপাতালের মাস্টার ট্রেইনার অব নার্সিং পদে সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি