২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:১৪ পিএম

প্রথমবারের মতো মানবদেহে জীবন রক্ষাকারী অ্যানিমেশন স্থাপন

প্রথমবারের মতো মানবদেহে জীবন রক্ষাকারী অ্যানিমেশন স্থাপন

প্রথমবারের মতো মানবদেহে জীবন রক্ষাকারী সাসপেনডেড অ্যানিমেশন স্থাপন করেছেন চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা। যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, এটির দ্বারা ফিক্স ট্রমেটিক আঘাত চিহ্নিত করা সম্ভব, যে আঘাতের কারণে মানুষের মৃত্যু হতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড স্কুল অব মেডিসিনে কর্মরত গবেষক স্যামুয়েল টিশারম্যান বলেন, তাঁর গবেষক দল একজন রোগীকে সাসপেনডেড অ্যানিমেশনে রেখেছিল। প্রথমে এটিকে তারা ‘অবাস্তব’ বলে মনে করেছেন। কিন্তু এটির কারণে কত লোক বেঁচেছিল তা তিনি এখনই প্রকাশ করবেন না।

বাল্টিমোরে অবস্থিত ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ড মেডিকেল সেন্টারে বন্দুকের গুলি ও ছুরিকাঘাতে আহত লোকদের উপর ইমারজেন্সি প্রিজারভেশন অ্যান্ড রিসাসসিয়েশন (ইপিআর) নামে পরীক্ষাটি চালানো হয়, যাদের হৃদস্পন্দন ছিল বন্ধ। এমনকি তাদের শরীরের অর্ধেকেরও বেশি রক্ত কমে গিয়েছিল। বিজ্ঞানীরা জানান, এভাবে আক্রান্তদের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা শতকরা ৫ ভাগেরও কম।

ইপিআর-এ দ্রুততম সময়ের মধ্যে একজন ব্যক্তিকে রক্তের পরিবর্তে বরফ ও ঠাণ্ডা স্যালাইন দিয়ে প্রায় ১০ থেকে ১৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে শীতল করা হয়। এ সময় রোগীর মস্তিষ্কের ক্রিয়া প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। শীতলকরণ পদ্ধতি এবং তাদের শরীর থেকে সার্বিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এ সময় তাদেরকে মৃত হিসেবে অপারেটিং থিয়েটারে স্থানান্তরিত করা হয়। একজন আঘাতপ্রাপ্ত ব্যক্তির হৃদস্পন্দন পুনরায় ফিরিয়ে আনতে অস্ত্রোপচার দলের দুঘণ্টা সময় লাগে। 

টিশারম্যান আশা করছেন, ২০২০ সালের মধ্যে এই গবেষণার পরিপূর্ণ ফলাফল ঘোষণা করতে সক্ষম হবেন।

মানুষের স্বাভাবিক দেহের তাপমাত্রা প্রায় ৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আমাদের কোষগুলোতে শক্তি উৎপাদন করার জন্য পর্যাপ্ত অক্সিজেনের প্রয়োজন হয়। যখন আমাদের হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যায়, তখন রক্ত কোষগুলোতে অক্সিজেন বহন করে না। অক্সিজেন ছাড়া আমাদের মস্তিষ্ক প্রায় ৫ মিনিট বেঁচে থাকতে পারে। 

যাই হোক, এটি শরীর এবং মস্তিষ্কের তাপমাত্রা কমিয়ে কোষগুলোতে সমস্ত রাসায়নিক ক্রিয়ার গতি থামিয়ে দেয়, যার ফলে তখন কম অক্সিজেন প্রয়োজন হয়।

এই পরীক্ষার জন্য টিশারম্যানের পরিকল্পনায় ছিল ১০ জন ব্যক্তি, যারা ইপিআর গ্রহণ করবেন। তাদেরকে অন্য ১০ জন লোকের সাথে তুলনা করা হবে যারা চিকিত্সার জন্য যোগ্য হতে পারতেন। 

এই গবেষণা চালিয়ে যেতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের খাদ্য ও ওষুধ প্রশাসন (এফডিএ) স্বীকৃতি দিয়েছে। এতে অংশগ্রহণকারীদের আঘাত মারাত্মক হতে পারে। এর বিকল্প কোনও চিকিত্সা নেই।   

এই গবেষণার ক্ষেত্রে টিশারম্যানের আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছিল ক্যারিয়ারের প্রথম দিকে। তিনি একটি ঘটনার দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন। তা হলো, ‘একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে এক যুবককে ছুরিকাঘাত করা হয়। তিনি মাত্র কয়েক মিনিট বেঁচে ছিলেন। তারপর মারা যান। তিনি মনে করেন, হাতে পর্যাপ্ত সময় থাকলে তাকে বাঁচানো সম্ভব হতো। 

টিশারম্যান জানান, ‘আমরা অনুভব করেছি, এটি আমাদের রোগীদের কাছে নিয়ে যাওয়ার সময় হয়েছে। এটি নিয়ে গবেষণা করতে গিয়ে আমরা অনেক কিছু শিখছি। আমরা যদি প্রমাণ করতে পারি, এটি কার্যকর। তাহলে আমরা এই প্রযুক্তির সম্প্রসারণে এগিয়ে যাব। অন্যথায় না। 

তিনি বলেছেন, আমরা মানুষকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দিচ্ছি না। বরং আমরা তাদেরকে বাঁচানোর জন্য সময়কে গুরুত্ব দিচ্ছি। প্রকৃতপক্ষে কাউকে সাসপেনডেড অ্যানিমেশনে রাখার পর সময় কতটুকু বাড়ানো যাবে তা পরিষ্কার নয়। 

যখন কোনও ব্যক্তির কোষ উষ্ণ হয়, তখন তারা পুনরুৎপাদনজনিত আঘাতগুলো অনুভব করতে পারেন। এতে একের পর এক রাসায়নিক প্রতিক্রিয়ার ফলে সেলের ক্ষতি সাধিত হয়। যত বেশি সময় তারা অক্সিজেন ছাড়া থাকে, ততই বেশি ক্ষতি হয়।

তিনি আরও বলেছেন, এই আঘাতগুলোর তীব্রতা কমাতে বা সময় বাড়ানোর জন্য রোগীকে ওষুধ দেয়া যেতে পারে। তবে এটি নির্মূলে আমরা এখনও সকল কারণ চিহ্নিত করতে পারিনি।

টিশারম্যান সোমবার নিউইয়র্ক অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেস’র উদ্যোগে আয়োজিত একটি সিম্পোজিয়ামে গবেষণার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। 

এন ওয়াই ইউ ল্যাঙ্গোন হেলথের নিউরো-ক্রিটিক্যাল কেয়ার ডিপার্টমেন্টের পরিচালক আরিয়েন লুইস বলেছেন, ‘এটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ, এবং এটিই প্রথম পদক্ষেপ। আমাদের দেখতে হবে এটি কার্যকর হয় কি-না। তারপরে আমরা কীভাবে এবং কোথায় এটি ব্যবহার করতে পারি সে সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করা যাবে।’

ভাষান্তর: আহসান হাবিব
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে