ডা. যুবায়ের আহমেদ

ডা. যুবায়ের আহমেদ

বিসিএস (স্বাস্থ্য)


২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:০০ পিএম
আপডেট: ২১ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:০৩ পিএম

সরকারি অফিসগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতির এনালগ প্রয়োগ!

সরকারি অফিসগুলোতে ডিজিটাল পদ্ধতির এনালগ প্রয়োগ!

ডিজিটাল সিস্টেমকে কিভাবে এনালগ পদ্ধতিতে প্রয়োগ করা যায় তা আপনি সরকারি চাকরি না করলে কখনই বুঝতে পারবেন না।

সরকারি সাইটগুলো আপনি একটু ঘুরে আসলেই বুঝবেন মেধার এবং টেকনোলজির কি নিদারুণ অপচয় হচ্ছে।

বিষয়টি অনুধাবন করতে বিসিএস চাকরির গেজেটের কথাই ধরুন। যারা বিসিএসে চান্স পাচ্ছেন তাদের দেখবেন এই গেজেটের পিডিএফ ডাউনলোড করা লাগে।

অথচ এই গেজেট পার্সোনালাইজড হতে পারতো। যার যার রোল রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দিয়ে সার্চ দিলে নিজের গেজেট বা পোস্টিং অর্ডার চলে আসা উচিত ছিল সিঙ্গেল ডকুমেন্ট হিসেবে।

অথচ যেই পিডিএফ ডাউনলোড দেই সেটা এমন একটা পিডিএফ—যাতে টেক্সট সার্চ সম্ভব না। ঈগলস আই দিয়ে নিজের রেজিস্ট্রেশন নাম্বার খোঁজা লাগে।

আসলে তারা করে কি বলি। তারা আগে গেজেটটা কম্পিউটারে টাইপ করে—যেটা একটা সফট কপি। এরপর সেটা প্রিন্ট করে যেটা একটা হার্ড কপি। মানে কনভার্ট দ্য ডিজিটাল টু এনালগ। এরপর সেই হার্ড কপি নিয়ে যায় কর্তৃপক্ষের সই নেওয়ার জন্য। এরপর সই হওয়া কাগজপত্র তারা স্ক্যান করে—
যা পুনরায় সেমি এনালগ ডিজিটাল কপিতে পরিণত হয়। এরপর স্ক্যান করা সেই কাগজের ইমেজ পিডিএফ আকারে তারা সাইটে আপলোড দেয়।

আহ, কি ইনোভেশন।

অথচ এই অর্ডারগুলো বা গেজেটগুলোর অনলাইন ফর্ম থাকতে পারতো। সেগুলো পূরণের পর কর্তৃপক্ষের কাছে অনলাইনে সাবমিট হতে পারতো। অথরিটি সেটা অনলাইনে চেক করে অথরাইজড ডিজিটাল সিগনেচার দিয়ে অনুমোদন করতে পারত। এর পর সেটা ওয়েব সাইটে লাইভ হয়ে যেতে পারতো। ইউজার নিজেরটা সার্চ করে নিতে পারতো। সার্ভারের ওপর চাপ কমতো।

অথচ মাত্র দুই স্টেপের কাজটায় কি লঙ্কা কাণ্ডই না ঘটানো হয়।

আর এখন কোনো একটা গেজেট বের হলে হাজার খানেক প্রার্থী একসাথে সার্ভারে ঝাঁপ দেন, সবাই সেই বিশাল পিডিএফ (যেটা কম করে হলেও তিন থেকে পাঁচ মেগাবাইট) একসাথে ডাউনলোড দিতে থাকেন। এরপর সার্ভার চাপ নিতে না পেরে সোনামুখ করে বসে থাকে। প্রার্থীরাও সোনামুখ করে বসে থাকে।

সরকারি কর্মাচারীর বেতন অনলাইন সাবমিটের নতুন পদ্ধতি এসেছে। দেখে খুশি হয়েছিলাম। সাবমিটের সময় দেখি ১০ টাকা স্ট্যাম্প ডিউটি কেটে রাখছে।

ভাবতে বসলাম, একটা সময় যখন কাগুজে বেতন বিল সাবমিট করতাম, সেই বিলে রাজস্ব স্ট্যাম্প ছ্যাপ মেরে লাগায়ে দেওয়া লাগতো। এরপর সেই স্ট্যাম্পের ওপর সিগনেচার। দশ টাকা রাখতো সেই স্ট্যাম্পের মূল্য বাবদ।

অনলাইন বেতন সাবমিট করতে এই স্ট্যাম্প তারা কোথায় ছ্যাপ মেরে লাগাবে সেটা মাথায় আসলো না যে তার জন্য আমার কষ্টের দশ টাকা পে করা লাগছে।

সরকারি চাকুরিতে ডিজিটাল পদ্ধতির এ রকম এনালগ প্রয়োগের প্রেক্ষাপটে ২০১৯ এ বসে ভাবি, দেশটা আর কবে আগাবে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত