২০ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৩০ পিএম

ভেজাল ওষুধের শাস্তি যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত: হাইকোর্ট

ভেজাল ওষুধের শাস্তি যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ড হওয়া উচিত: হাইকোর্ট

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ভেজাল-মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সংরক্ষণ, বাজারজাত ও বিক্রির কারণে দণ্ডপ্রাপ্তরা যদি আবার একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত হন, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করতে নির্দেশনা দিয়েছে হাইকোর্ট।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) বিচারপতি একেএম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ মৌখিকভাবে এ নির্দেশনা দেয়। পরে আগামী ১২ ডিসেম্বর পরবর্তী আদেশের দিন ধার্য করে আদালত। 

ভেজাল ওষুধ বিক্রির জন্য ভ্রাম্যমাণ আদালতের সাত দিনের সাজা কম হয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে হাইকোর্ট বলেছে, ভেজাল ওষুধ বিক্রি করলে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ড দেয়া উচিত। 

আদালত বলেছে, কোন ফার্মেসিতে দ্বিতীয়বার ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করতে হবে। যেখানে যাবজ্জীবন বা মৃত্যুদণ্ডের শাস্তির বিধান আছে। 

সেই সঙ্গে প্রতিটি ওষুধের পাতায় বাংলায় নাম মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ স্পষ্ট করে লেখার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলেছে আদালত। 

আদালতে উপস্থাপিত ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই মাসে ৩৪ কোটি ৭ লাখ ৬৯ হাজার ১৪৩ টাকার মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ধ্বংস করা হয়েছে। এ সময় ১৩ হাজার ৫৯৩ ফার্মেসি পরিদর্শন করে মোবাইল কোর্টে ৫৭২ মামলা দেয়া হয়েছে। 

আদালতে রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার এবিএম আলতাফ হোসেন, রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডিএজি এবিএম আল মাহমুদ বাশার। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন এ্যাডভোকেট কামরুজ্জমান কচি, ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষে শাহ মঞ্জুরুল হক।

পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ডেপুটি এ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার এবিএম আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের জানান, ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের জন্য ইতোমধ্যে যাদের জেল-জরিমানা করা হয়েছে, তারা যদি আবার একই ধরনের অপরাধে অভিযুক্ত হন, তখন তাদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়েরের জন্য মৌখিক নির্দেশ দিয়েছে আদালত। ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের জন্য এখন সাত দিন বা একমাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেয়া হচ্ছে। বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা হলে যাবজ্জীবন এমনকি মৃত্যুদণ্ড হতে পারে। 

বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির পক্ষের আইনজীবী মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘নকল ওষুধ যেন বাজারে না থাকে, এটা আমরাও চাই। একটা আবেদন ছিল ওষুধের নাম যেন বাংলায় লেখা থাকে। আমরা প্যাকেট খুলে দেখিয়েছি, বাংলায় লেখা আছে। মেয়াদোত্তীর্ণের তারিখ ইংরেজিতে লেখা। আদালত ওষুধের পাতায়ও বাংলায় চেয়েছে। বর্তমানে ইংরেজিতে লেখা আছে। ফ্যাক্টরি মালিকদের সঙ্গে বসে যতটুকু সম্ভব বাংলায় করা হবে। আদালত চায় শতভাগ। আমাদের বিদেশেও ওষুধ পাঠাতে হয়। তাই সবকিছু ঠিক করে একটি প্রতিবেদন দেবো। 

আদালতকে উদ্ধৃত করে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মাহমুদ বাশার সাংবাদিকদের বলেন, অনেক সময় দেখা যায়, ওষুধ কোম্পানিগুলো তাদের প্রতিনিধি (রিপ্রেজেন্টিটিভ) দিয়ে চিকিৎসকদের প্রভাবিত করার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার যে প্রতিশ্রুতি দিয়ে থাকে সেটা বন্ধ করার জন্য ওষুধ শিল্প মালিক সমিতিকে আদালত নির্দেশ দিয়েছে। ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর আইন, ‘২০০৯’র ৫১ ধারায় স্পষ্ট বলা আছে অন্যান্য দ্রব্যের মতো মেয়াদোত্তীর্ণ-ভেজাল ওষুধও কেউ যেন বিক্রি করতে না পারে। সেজন্য অধিদপ্তর কার্যকর পদক্ষেপ নেবে। আগামী ১২ ডিসেম্বরের মধ্যে তাদেরকে অভিযান পরিচালনা করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। 

প্রসঙ্গত, জনস্বার্থে এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর সারা দেশে বাজার থেকে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ প্রত্যাহার, জব্দ ও ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে গত ২৮ জুন রুলসহ নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট।

একই সঙ্গে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ সরবরাহকারী, সংরক্ষণ ও বিপণনের সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে ৩০ দিনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দিতে সরকারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেওয়া হয়।

রুলে ফার্মেসি, ওষুধাগারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও সংরক্ষণ বন্ধে বিবাদীদের নিষ্ক্রিয়তা কেন অবৈধ হবে না,তা জানতে চাওয়া হয়।

স্বাস্থ্য সচিব, স্বরাষ্ট্র সচিব, আইন সচিব, বাণিজ্য সচিব, শিল্প সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ও উপ পরিচালক, পুলিশের মহাপরিদর্শক, বাংলাদেশ ওষুধ শিল্প সমিতির সভাপতি ও মহাসচিবকে রুলের জবাব দিতে বলা হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় আদালতে প্রতিবেদন দিল ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর।

গত ১০ মে এক অনুষ্ঠানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মঞ্জুর মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ঢাকা শহরের ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ রাখা হয়।

এ বিষয়ে সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবর-প্রতিবেদন যুক্ত করে জাস্টিস ওয়াচ ফাউন্ডেশনের পক্ষে এর নির্বাহী পরিচালক ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মাহফুজুর রহমান মিলন গত ২৪ জুন হাই কোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় রিট আবেদনটি করেছিলেন। 
 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত