অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী

অধ্যাপক ডা. অরূপ রতন চৌধুরী

একুশে পদকপ্রাপ্ত চিকিৎসক 


২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৬ এএম
আপডেট: ২০ নভেম্বর, ২০১৯ ১১:৫৬ এএম

ডায়াবেটিসে মাড়ির সমস্যা

ডায়াবেটিসে মাড়ির সমস্যা

ডায়াবেটিস রোগের জন্য দাঁতের মাড়ি এবং হাড়ে (যা দাঁতকে যথস্থানে রাখতে সাহায্য করে) ইনফেকশন হতে পারে৷ অন্যান্য ইনফেকশনের মত রক্তে গ্লুকোজের পরিমান বেড়ে গেলে দাঁতের মাড়িও আক্রান্ত হতে পারে৷ এ সমস্যাকে প্রতিরোধ করার জন্য বছরে অন্তত দু'বার ডেন্টিস্টের শরণাপন্ন হওয়া উচিত এবং অবশ্যই ডাক্তারকে আপনার ডায়াবেটিস সম্পর্কে অবহিত করা প্রয়োজন৷

দিনে দু'বার দাঁত ব্রাশ ও ডেন্টাল ফ্লস দ্বারা পরিস্কার করা এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ রাখা প্রয়োজন৷ ডায়াবেটিস রোগীদের দাঁতের সমস্যা থেকে মুক্তি পাবার এটাই প্রধান উপায়৷

অধিকতর খারাপ অবস্থা হলে ইনফেকশন দাঁতের মাড়িতে এমনকি হাড় (যা দাঁতকে যথস্থানে রাখে) পর্যন্ত ছড়িয়ে যেতে পারে৷ এভাবেই দাঁত দূর্বল হয়ে নড়ে গিয়ে পড়ে যেতে পারে৷ একদিন মূল্যবান দাঁতকে হারাতে হতে পারে৷

লক্ষণসমূহ:

  • দাঁতের মাড়ি লাল হয়ে ফুলে যায়৷
  • দাঁতের মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে৷
  • দাঁতের গোড়া থেকে মাড়ি সরে যাওয়ার কারণে দাঁতকে অস্বাভাবিক অবস্থানে দেখা যায়৷
  • যদি দাঁত নড়ে যায়, সংবেদনশীল হয়ে পড়ে৷
  • মুখে দুর্গন্ধ হয়৷
  • দাঁতের কামড় অস্বাভাবিক অনুভূত হয়৷
  • অকার্যকর ডেনচার (কৃত্রিম দাঁত) হয়৷

এই ধরনের কোন সমস্যায় ডেন্টিস্টের সাথে অবশ্যই পরামর্শ করা প্রয়োজন৷

ডায়াবেটিস রোগীদের মাড়ির প্রদাহ বেশি হওয়ার কারণ:

১) দেহে ইনসুলিনের ঘাটতি হলে আমিষেরও ঘাটতি হয়৷ ফলে কোষকলার স্বাভাবিক বৃদ্ধি , সংস্কার ও উৎপাদন ব্যাহত হয়৷ তাই মুখের কোন স্থানে ঘা হলে ও প্রদাহ থাকলে শুকাতে বিঘ্ন ঘটে৷
২) দেহে রোগ প্রতিরোধ শক্তি কমে আসে ফলে দাঁতের গোড়ায় প্লাক জমা থাকলে সহজেই মাড়ির প্রদাহ শুরু হয়৷

ডায়াবেটিস রোগীদের দন্তক্ষয় বা ডেন্টাল ক্যারিজের কারণ:
১) মুখের লালার সাথে গ্লুকোজের বাড়তি সংযোজনের ফলে ঐ গ্লুকোজ মুখে এক ধরনের অণুবীক্ষণিক জীবানুর সাথে মিলে অম্ল বা এসিড তৈরি করে৷ এসিড দাঁতের শক্ত আবরণ এনামেলকে ক্ষয় করতে থাকে৷ যা ধীরে ধীরে দাঁতের ভিতরে গর্তের সৃষ্টি করে৷
২) মুখের লালার স্বাভাবিক গতি ব্যহত হয় এবং পরিমান কমে যায়৷ ফলে মুখের অতিরিক্ত শুকনো পরিবেশে আহারের পর খাদ্যকণা গুলো ধুয়ে মুছে যেতে পারেনা৷ এই খাদ্যকণা দীর্ঘদিন দাঁতের গায়ে ও মাড়ির ফাঁকে জমে থেকে ভেতরে গর্তের সৃষ্টি করে৷

ডায়াবেটিস রোগীদের প্লাক:
মুখে খাদ্যকণা জমে থেকে যে আবরণ সৃষ্টি করে তার নাম ডেন্টাল প্লাক৷ এই প্লাক লক্ষ লক্ষ অণুবীক্ষণিক জীবাণুর সমষ্টি৷ মুখের দুই প্রধান রোগ ডেন্টাল ক্যারিজ ও মাড়ির প্রদাহে ডেন্টাল প্লাকই দায়ী৷ ডায়াবেটিস রোগীদের যে সমস্ত কারণে প্লাক বৃদ্ধি পেতে পারে সেগুলো হচ্ছে -
১) ডায়াবেটিস রোগ দেখা দেয়ার পূর্বে যাদের মাড়ির প্রদাহ (Gingivitis) বা দন্তবরক প্রদাহ (Periodontitis) থাকে তাদের প্রদাহ নিঃসৃত রস বৃদ্ধি পায়৷ ফলে ডেন্টাল প্লাকও বাড়তে থকে৷
২) বৃহৎ ও ক্ষুদ্র লালাগ্রন্থি থেকে নিঃসৃত রস বৃদ্ধি পায়৷ তা খাদ্যকণার সাথে মিশে প্লাক তৈরি করে৷
৩) যেসব ডায়াবেটিস রোগীদের মাড়ির সংক্রমণের ফলে দাঁত দিয়ে খাদ্যদ্রব্য চিবানোর ক্ষমতা কমে যায়, তাদের মুখেও প্লাকের পরিমান বৃদ্ধি পায়৷
৪) ডায়াবেটিস রোগীদের খাদ্য নিয়ন্ত্রিত হয়৷ বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মাড়ির ও দাঁতের ধারণ শক্তি ও প্রতিরোধ শক্তি কমে যায়৷ ফলে খাওয়ার সময় ব্যথা অনুভূত হয়৷ তাই চিবিয়ে খাওয়ার প্রবণতাও হ্রাস পায়৷ এসবের জন্যও তাদের প্লাক বৃদ্ধিও তাড়াতাড়ি হয়৷

ডায়াবেটিস রোগীদের দাঁত ও মাড়ির যন্তে কিছু পরামর্শ:
১) সর্বপ্রথম ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখবার চেষ্টা করা প্রয়োজন৷ মাড়ির অতিরিক্ত প্রদাহ অনেক সময় ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে অসুবিধার সৃষ্টি করতে পারে৷ যদি কোনোভাবে কখনও মাড়ির প্রদাহ শুরু হয় তবে ঐ ঘা শুকাতে অনেক দেরি হয়৷ এই দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহের কারণে দাঁত হারাতে হয়৷
২) প্রতি ছয় মাস অন্তর একজন ডেন্টাল সার্জনকে দিয়ে মুখ পরীক্ষা করা প্রয়োজন৷ ডেন্টাল সার্জনকে অবশ্যই আপনার ডায়াবেটিসের কথা বলে রাখবেন৷ আপনার দাঁত ও মাড়ি যেন সুস্থ থাকে সেজন্য ডেন্টাল সার্জনের কাছ থেকে আপনার মুখের যন্তের জন্য কি কি করা প্রয়োজন তাও জেনে নিবেন৷
৩) প্রতিদিন দুই বেলা, সকাল ও রাতে দাঁত ব্রাশ করবেন৷ মাড়ির জন্য প্রয়োজন নরম টুথব্রাশ৷ ব্রাশকে উপরের পাটির দাঁত থেকে নিচের পাটির দাঁতে৷ আবার নিচের পাটি থেকে উপরের পাটির দিকে, এভাবেই ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দাঁত ও মাড়ি পরিস্কার করা বিজ্ঞান সম্মত৷ দুই দাঁতের ফাঁক থেকে খাদ্যকণা বের করে দেবার জন্য ডেন্টাল ফ্লস বা বিশেষ সুতা ব্যবহার করবেন৷
৪) কখনো যদি আপনার মাড়ি থেকে ব্রাশ করার সময় বা খাবার খাওয়ার সময় রক্ত বের হয় তবে তা মাড়িতে প্রদাহের পূর্ব লক্ষণ কিনা তা বুঝবার জন্য অবশ্যই একজন ডেন্টাল সার্জনের পরামর্শ নিবেন৷
৫) মনে রাখবেন ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণই এসব জটিলতা থেকে মুক্ত থাকার চাবিকাঠি৷ আপনি যদি D=Diet, D=Drug, D=Discipline এই ত্রিরত্নের সাথে পরিচিত হতে পারেন তবে স্বাভাবিক মানুষের মতই জীবন যাপন করতে পারবেন৷

Add
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ইফতার-সেহেরিতে কী খাবেন
গরমের দিনে রোজা

ইফতার-সেহেরিতে কী খাবেন