১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৪৫ পিএম
আপডেট: ১৯ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:৩৯ পিএম

স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন নিয়ে উচ্চ আদালতে যাবে এফডিএসআর

স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন নিয়ে উচ্চ আদালতে যাবে এফডিএসআর

মেডিভয়েস রিপোর্ট: স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রস্তাবিত ‘স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন ২০১৮’ খসড়াকে অযৌক্তিক হিসেবে উল্লেখ করেছে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি অ্যান্ড রাইটস (এফডিএসআর)। এই আইন সংশোধনে প্রয়োজনে উচ্চ আদালতে রিট বা আইনি প্রক্রিয়ায় যাবে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।

মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে এফডিএসআর আয়োজিত ‘প্রস্তাবিত স্বাস্থ্য সেবা ও সুরক্ষা আইন-২০১৮ নিরাপত্তা রোগের চিকিৎসক: বাংলাদেশ প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে বক্তারা এসব কথা জানান।

বৈঠকে মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন সংগঠনের উপদেষ্টা মিডিয়া ব্যক্তিত্ব ডা. আব্দুন নূর তুষার। তিনি জানান, এ বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে আলাপ করেছে এফডিএসআর। মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হয়েছে, ‘আইন প্রণয়ন করার সময় বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনসহ (বিএমএ) স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) নেতারা উপস্থিত ছিলেন। এ বিষয়ে তখন তারা কোনো মন্তব্য করেননি। তাদের মতে এ আইন ঠিকঠাক মতোই প্রস্তুত করা হয়েছে।’ কিন্তু তৃণমূল পর্যায়ের চিকিৎসকদের সঙ্গে এসব বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করা হয়নি। ফলে চিকিৎসকদের জন্য উপকারী কোনো আইন প্রণীত হয়নি।

তিনি বলেন, ডাক্তারের নিরাপত্তা বলতে এখানে বোঝানো হয়েছে, তিনি যেন কোনো ধরনের হামলার শিকার না হন। এছাড়া আর কিছু উল্লেখ নেই।  সাধারণত হামলার শিকার হলে ফৌজদারি মামলা করলে বিচার পাবে। এজন্য আলাদা কোনো আইনের দরকার ছিল না।

ডা. তুষার বলেন, সারাদেশে লাখ লাখ ভুয়া ডাক্তার অপচিকিৎসার মাধ্যমে প্রতিনিয়ত জনসাধারণের সাথে প্রতারণা করে চলছে। অথচ প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইনে ভুয়া চিকিৎসকদের শনাক্তকরণ এবং এদের বিরুদ্ধে কোন শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা বলা হয়নি। এ ব্যাপারে আমরা হতাশ এবং ক্ষুব্ধ।

বিএমডিসি’র রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. লিয়াকত বলেন, স্বাস্থ্যসেবা ও সুরক্ষা আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিএমডিসি এখন পর্যন্ত কোনো মান-এ আসেনি বা তাদের এখানে রাখা হয়নি। অথচ এক্ষেত্রে বিএমডিসির অনেক বড় অবদান থাকার কথা ছিল। নিবন্ধন ছাড়াও এই প্রতিষ্ঠানটির আরও অনেক কাজ রয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য একটি বিশেষ সেল গঠন করা আছে। প্রয়োজনে অনৈতিক আচরণের জন্য চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. সানিয়া তাসনিম বলেন, প্রস্তাবিত আইনে ডাক্তার ও রোগীদের সম্পর্কটি সঠিকভাবে বিবেচনা করা হয়নি। চিকিৎসাসেবা নিতে এসে রোগীর প্রশ্ন হতে পারে যে, চিকিৎসা ঠিকমতো হচ্ছে কিনা। কিন্তু জানার পরেও কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে তখন তারা সবকিছু অস্বীকার করে ডাক্তারদের দোষারোপ করে। তারা বলে আমরা জানিনা বা বুঝিনা।

‘যেমন- রোগী বা রোগীর স্বজনদের অনুমতি না পেলে গর্ভাবস্থায় সিজার করা যায় না বা আমরা করতে পারি না। সিজারের পর কোনো জটিলতা সৃষ্টি হলে তখন রোগীর স্বজনরা আমাদেরকেই দোষারোপ করে। এরকম একটি জটিল বিষয় কিংবা চিকিৎসকদের নিরাপত্তার ব্যাপারে সেরকম কিছুই বলা হয়নি। চিকিৎসা ক্ষেত্রে কী তথ্য সংরক্ষণ করতে পারবে, সেই ব্যাপারেও কিছু বলা হয়নি।’

বিএমএ’র সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশীদ-ই-মাহবুব বলেন, আমাদের দেশের জনগণের বিদেশে যাওয়ার প্রবণতা একেবারেই কমেনি। সবকিছু ঠিকঠাক করতে হলে সাধারণ জনগণকে অনেক সচেতন হতে হবে। দেশের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে ডাক্তার থাকে না, সেখানে হেলথ প্রোভাইডার থাকেন। তারা বেআইনিভাবে প্রেসক্রিপশন করে। এসব বিষয় নজরে আনা দরকার ছিল।

এফডিএসআরের মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন- সংগঠনটির কোষাধ্যক্ষ ডা. ফরহাদ মঞ্জুর, সাংগঠনিক সম্পাদক ডা. জাহিদুর রহমান, আইন বিষয়ক সম্পাদক ডা. নোমান চৌধুরী, মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিকেশন্স বিষয়ক সম্পাদক ডা. শাহেদ ইমরান প্রমুখ।

আরও পড়ুন:

► ‘চিকিৎসক সংগঠনগুলো স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইন নিয়ে কথা বলছে না’

► প্রস্তাবিত স্বাস্থ্যসেবা সুরক্ষা আইনে চিকিৎসকরা নিগৃহীত হবে

► ‘মন্ত্রিসভায় উঠছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনের খসড়া’

► চলতি বাজেট অধিবেশনে আসছে চিকিৎসক সুরক্ষা আইন

► প্রস্তাবিত ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন’ চিকিৎসকদের পক্ষে মানা সম্ভব নয়

► ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইনে ডাক্তাররা অরক্ষিত হবেন’ এতে কোন সন্দেহ নাই

► ‘স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন নিয়ে চিকিৎসকের শঙ্কা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত