১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৯ পিএম
আপডেট: ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৫৬ পিএম

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় ৩৯তম বিসিএস উত্তীর্ণ চিকিৎসকরা

রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় ৩৯তম বিসিএস উত্তীর্ণ চিকিৎসকরা

মেডিভয়েস রিপোর্ট: গত ৬ মাস ধরে গেজেটের জন্য প্রতীক্ষার প্রহর গুনছেন ৩৯তম বিশেষ বিসিএস উত্তীর্ণ চিকিৎসকরা।  

গত ৩০ এপ্রিল চিকিৎসকদের ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (বিপিএসসি)। প্রকাশিত ওই ফলে সহকারী সার্জন পদে ৪ হাজার ৫৪২ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ২৫০ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। 

গত বৃহস্পতিবার (১৪ নভেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে জনপ্রশাসন মন্ত্রী সংসদকে জানিয়েছিলেন, ৩৯তম বিশেষ বিসিএস উত্তীর্ণ এসব ডাক্তারদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

ওই সময় রাষ্ট্রপতি নেপাল সফরে ছিলেন। 

৩৯তম বিসিএসে উত্তীর্ণ অন্তত ১০জন চিকিৎসক মেডিভয়েসকে জানিয়েছেন, জনপ্রশাসনমন্ত্রীর সংসদের ওই বক্তব্যের পর থেকে তারা রাষ্ট্রপতি দেশে ফেরার প্রতীক্ষায় ছিলেন। তারা রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় দিন গুনছেন।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদ নেপালে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফর শেষে  দেশে ফিরেছেন। বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর মো. আব্দুল হামিদের এটা প্রথম নেপাল সফর। 

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী গত ৪৮ বছরে বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধানই নেপাল সফর করেননি। রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ গত ১২ নভেম্বর কাঠমান্ডুর উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেন।

এর আগে আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ৪৭৫০ জন ডাক্তার নিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এর ফলে প্রতি উপজেলায় ৯ থেকে ১০ জন করে নতুন ডাক্তার নিয়োগ হবে বলে জানান তিনি।

জাতীয় সংসদে হারুনুর রশীদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় জনবল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, সেটা সবাই উপলব্ধি করছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পিএসসি’র মাধ্যমে বিশেষ বিসিএস-এ ৪৭৫০ জন ডাক্তার উত্তীর্ণ হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে, আশা করি ১৫ দিনের মধ্যে সেটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করার পর নিয়োগ হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরে এলেই অনুমোদন করবেন। এসব ডাক্তারের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ডাক্তার দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পদায়ন করা হবে। এবার প্রতি উপজেলাতে ৯-১০ জন করে ডাক্তার পেতে যাচ্ছি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স নিয়োগ হয়েছে। নিজের এলাকার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার ওখানে আগে ৩৮ জন নার্স ছিল এখন ১৭৭ জন। কাজেই নার্সের ক্ষেত্রে আমাদের জনবল সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

মুজিবুল হক চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, আসলে এমপি হিসেবে আমাদের জবাবদিহিতা করতে হয়। হাসপাতালে পরিপূর্ণভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছি কি না। যে চিত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা অনেকাংশে অনেক জায়গায় সত্য। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অ্যাটাচমেন্টের বিষয়টি কড়াকড়ি করা হয়েছে। কোনো অ্যাটাচমেন্ট দেয়া হচ্ছে না।

উপজেলাতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা নতুন যোগদান করেন তাদের একটি শর্ত রয়েছে। চাকরির শুরুতে দুই বছর উপজেলা পর্যায়ে সেবা দিতে হবে। ৩৯তম স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে যারা যোগদান করতে যাচ্ছেন তারা যেন প্রথম দুই বছর যেখানে যাকে দেয়া হবে সেখানে থাকেন। তারপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তারা আসতে পারবেন। সে বিষয়ে আমি নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।

প্রসঙ্গত, ২০১৮ সালের ৩ আগস্ট ৩৯তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এতে ৩৭ হাজার ৫৮৩ জন চাকরিপ্রত্যাশী অংশ নেন।

পরবর্তীতে ৬ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত এ বিশেষ বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষার ফলে সহকারী সার্জন পদে ১৩ হাজার ২১৯ জন এবং সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ৫১৩ জন প্রার্থী পাস করেন। এরপর গত ৭ মার্চ ভাইবা অনুষ্ঠিত হয়। ৩০ এপ্রিল প্রকাশিত হয় ৩৯তম বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার চূড়ান্ত ফল। কিন্তু এখন পর্যন্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়ায় অনেকের মনে চাপা ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত