১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০২:৩৬ পিএম
আপডেট: ১৬ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:০০ পিএম

ক্যান্সার নিরাময়ে ভেষজ চিকিৎসায় যেসব ক্ষতির আশংকা

ক্যান্সার নিরাময়ে ভেষজ চিকিৎসায় যেসব ক্ষতির আশংকা

মেডিভয়েস ডেস্ক: ক্যান্সার নিরাময়ে ভেষজ চিকিৎসা ও এর নানা উপকারিতা নিয়ে পত্র-পত্রিকা ও অনলাইনে বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন দেখা যায়। কিন্তু প্রকৃতপক্ষেই কী ভেষজ চিকিৎসায় ক্যান্সার নিরাময় সম্ভব? এ বিষয়ে চিকিৎসকরা বলছেন, কিছু কিছু ভেষজ উপাদানের কারণে ক্যন্সার চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত হয়। এমনকি ভাল করার চেয়ে আরও বেশি ক্ষতি করে থাকে।

সম্প্রতি পর্তুগালের লিসবনের চ্যাম্পালিমাউড ক্যান্সার সেন্টারে আয়োজিত ক্যান্সার বিষয়ক এক কনফারেন্সে এ তথ্য উঠে এসেছে।

বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, ক্যান্সারের রোগীরা ভেষজ পিল গ্রহণ করেন তাহলে বিষয়টি তাদের চিকিৎসককে জানানো প্রয়োজন। কারণ, এসব ভেষজ পিল এর কিছু উপাদান ক্যান্সারের চিকিৎসা বাধাগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়াও স্তন ক্যান্সার যখন ছড়িয়ে যায় তখন রসুন কিংবা আদা খেলে চামড়ার ক্ষত সারতে দেরি হতে পারে।

স্তন ক্যান্সার বিষয়ক পর্তুগালের শল্য চিকিৎসক অধ্যাপক মারিয়া জোয়াও কার্দোসো বলেন, ভেষজ পিল ক্যান্সার চিকিৎসার ক্ষেত্রে কার্যকরী হবার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। চিকিৎসকদের উচিত নিজে থেকে উদ্যোগী হয়ে রোগীদের জিজ্ঞেস করা যে ক্যান্সারের চিকিৎসার সময় তারা অন্য কিছু খাচ্ছে কিনা? 

তিনি বলেন, ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য রোগীরা যদি কোন বাড়তি থেরাপি গ্রহণ করেন তাহলে বিষয়টি তাদের চিকিৎসককে জানানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যে ক্যান্সার চামড়ায় ছড়িয়েছে। এমন অনেক পণ্য আছে যেগুলোর কারণে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হরমোন থেরাপি এবং কেমোথেরাপির উপর প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারে। এছাড়া আরো কিছু পণ্য আছে যেগুলো রক্ত জমাট করতে দেরি করে।

ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ মিস কার্দোসো বলেন, কিছু ভেষজ জিনিস আছে যেগুলোর কারণে যেগুলো রক্ত জমাট হতে দেরি হয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে - রসুন, জিনসেং এবং হলুদ। এছাড়াও মাল্টা কিংবা কমলালেবু জাতীয় ফল ক্যান্সার ওষুধের কার্যকারীতা ক্ষতিগ্রস্ত করে।

অধ্যাপক কার্দোসো বলেন, রোগী এবং তাদের স্বজনরা সবসময় বিকল্প চিকিৎসার খোঁজ করেন, যেটি বড় ধরণের পার্থক্য তৈরি করতে পারে। কিন্তু মানুষের জানা উচিত যে, এসব বিকল্প চিকিৎসা ভালো করার চেয়ে খারাপ হতে পারে বেশি। তিনি বলেন, ওষুধের সর্বোচ্চ লক্ষ্য হচ্ছে যাতে কোন ক্ষতি না হয়।

ব্রিটেনের ক্যান্সার রিসার্চ বলছে, কিছু প্রথাগত ওষুধের বাইরে কিছু পদ্ধতির কারণে মূল চিকিৎসায় ব্যাঘাত ঘটতে পারে।

ক্যান্সার রিসার্চ বলছে, ক্যান্সারের চিকিৎসা চলাকালীন মাল্টা এবং কমলার মতো খাবার এড়িয়ে চলা উচিত। কারণ, ক্যান্সারের ঔষধ শরীরের ভেতরে যেভাবে ভেঙ্গে কাজ করে, সেটিকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। এছাড়া কামরাঙ্গা, বাঁধাকপি এবং হলুদও এ তালিকায় রেখেছে ব্রিটেনের ক্যান্সার রিসার্চ।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, "প্রথাগত চিকিৎসার বাইরে যে কোন ধরণের ঔষধ খাবার আগে আপনার চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। বিশেষ করে আপনি যদি ক্যান্সার চিকিৎসার মাঝামাঝিতে অবস্থান করেন।"

স্তন ক্যান্সার বিষয়ক একটি দাতব্য সংস্থার ক্লিনিক্যাল নার্স বিশেষজ্ঞ গ্রিটি ব্রাউটিন-স্মিথ বলেন, প্রমান ছাড়া অনেক তথ্য ইন্টারনেটে এখন সহজলভ্য। এসব তথ্য বিশ্বাস না করে চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করলে রোগীরা সঠিক তথ্য পেতে পারে।

সূত্র: বিবিসি

Add
একজন এফসিপিএস পরীক্ষা উত্তীর্ণ চিকিৎসকের অনুভুতি

পরীক্ষা প্রস্তুতির শেষের কয়েকদিন মেয়ের সাথে দেখা করতে পারিনি

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ইফতার-সেহেরিতে কী খাবেন
গরমের দিনে রোজা

ইফতার-সেহেরিতে কী খাবেন