১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০৪:৪৫ এএম
আপডেট: ১৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০৪:৪৮ এএম

পনেরো দিনের মধ্যে ৪৭৫০ চিকিৎসক নিয়োগ: সংসদে জনপ্রশাসন মন্ত্রী

পনেরো দিনের মধ্যে ৪৭৫০ চিকিৎসক নিয়োগ: সংসদে জনপ্রশাসন মন্ত্রী

আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ৪৭৫০ জন ডাক্তার নিয়োগ হবে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। এর ফলে প্রতি উপজেলায় ৯ থেকে ১০ জন করে নতুন ডাক্তার নিয়োগ হবে বলে জানান তিনি।

প্রতিমন্ত্রী আরো জানান, ৩৯তম বিশেষ বিসিএস উত্তীর্ণ এসব ডাক্তারদের ফাইল জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে এখন রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে হারুনুর রশীদের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী এ তথ্য জানান। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সংসদে অনুপস্থিত থাকায় তার পক্ষে প্রশ্নের জবাব দেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন।

তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবায় জনবল বৃদ্ধি করা প্রয়োজন, সেটা সবাই উপলব্ধি করছি। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় পিএসসি’র মাধ্যমে বিশেষ বিসিএস-এ ৪৭৫০ জন ডাক্তার উত্তীর্ণ হয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে, আশা করি ১৫ দিনের মধ্যে সেটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করার পর নিয়োগ হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় হয়ে প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন নিয়ে রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। রাষ্ট্রপতি দেশে ফিরে এলেই অনুমোদন করবেন। এসব ডাক্তারের মধ্যে সাড়ে ৪ হাজারের বেশি ডাক্তার দেশের বিভিন্ন উপজেলায় পদায়ন করা হবে। এবার প্রতি উপজেলাতে ৯-১০ জন করে ডাক্তার পেতে যাচ্ছি।

জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, পর্যাপ্ত সংখ্যক নার্স নিয়োগ হয়েছে। নিজের এলাকার কথা তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমার ওখানে আগে ৩৮ জন নার্স ছিল এখন ১৭৭ জন। কাজেই নার্সের ক্ষেত্রে আমাদের জনবল সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।

মুজিবুল হক চুন্নুর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে ফরহাদ হোসেন বলেন, আসলে এমপি হিসেবে আমাদের জবাবদিহিতা করতে হয়। হাসপাতালে পরিপূর্ণভাবে চিকিৎসাসেবা দিতে পারছি কি না। যে চিত্রের কথা উল্লেখ করা হয়েছে তা অনেকাংশে অনেক জায়গায় সত্য। ইতোমধ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় অ্যাটাচমেন্টের বিষয়টি কড়াকড়ি করা হয়েছে। কোনো অ্যাটাচমেন্ট দেয়া হচ্ছে না।

উপজেলাতে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যারা নতুন যোগদান করেন তাদের একটি শর্ত রয়েছে। চাকরির শুরুতে দুই বছর উপজেলা পর্যায়ে সেবা দিতে হবে। ৩৯তম স্পেশাল বিসিএসের মাধ্যমে যারা যোগদান করতে যাচ্ছেন তারা যেন প্রথম দুই বছর যেখানে যাকে দেয়া হবে সেখানে থাকেন। তারপর উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য তারা আসতে পারবেন। সে বিষয়ে আমি নিজে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।

নকল ওষুধ ও মূল্য যাচাইয়ে আসছে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন : বেগম গ্লোরিয়া ঝর্ণা সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নকল ওষুধ ও মূল্য যাচাইয়ে মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন চালু করার পরিকল্পনা করছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রোগ্রামের আওতায় প্রকল্পটি বর্তমানে পাইলটিং পর্যায়ে রয়েছে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওষুধ প্রশাসন অধিদফতর কর্তৃক নিবন্ধন সকল দেশি এবং বিদেশি ওষুধের বিক্রয়মূল্য নির্ধারণ করা হয়ে থাকে। অনুমোদিত বিক্রয়মূল্য ওষুধের মোড়ক সামগ্রীতে (কার্টন ও লেবেলে) মুদ্রণ করা বাধ্যতামূলক।

৪ বছরে নৌ দুর্ঘটনায় ৪৭৭১ জনের মৃত্যু : গত ৪৪ বছরে দেশে ৬৫৭টি নৌ দুর্ঘটনায় ৪ হাজার ৭১১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী।

নুরুন্নবী চৌধুরীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রীর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ১৯৭৬ সাল থেকে ২০১৯ সালের নভেম্বর পর্যন্ত ৬৫৭টি নৌ দুর্ঘটনায় প্রাণহানি হয় ৪ হাজার ৭১১ জনের এবং আহতের সংখ্যা ৫৩৯। এছাড়া ৪৮২ জন মানুষ নিখোঁজ রয়েছে বলে জানানো হয়। এর মধ্যে ২০০৩ সালের সর্বাধিক মানুষের প্রাণহানি ঘটে। তখন ৩১টি নৌ দুর্ঘটনায় ৪৬৪ জন মানুষের মৃত্যু হয়।

এছাড়া ১৯৮৬ সালে ১১টি নৌ দুর্ঘটনায় ৪২৬ জনের মৃত্যু ঘটে। ১৯৯৪ সালে ২৭ নৌ দুর্ঘটনায় মৃত্যু ঘটে ৩০৩ জনের, ২০০০ সালে ৯ নৌ দুর্ঘটনায় ৩৫৩ জন,

২০০৫ সালে ২৮টি দুর্ঘটনায় ২৪৮ জনের প্রাণহানি ঘটে। এছাড়া ২০০৯ সালে ৩৪টি নৌ দুর্ঘটনায় ২৬০ জন, ১৯৮৮ সালে ১১টি নৌ দুর্ঘটনায় ১০৮ জন, ১৯৯০ সালে ১৩ নৌ দুর্ঘটনায় ১৬৮ জন, ১৯৯৩ সালে ২৪ দুর্ঘটনায় ১৮৩ জন, ১৯৯৬ সালে ২০টি দুর্ঘটনায় ১৪৭ জন,

১৯৯৭ সালে ১১টি দুর্ঘটনায় ১০২ জন, ১৯৯৯ সালে ৬টি দুর্ঘটনায় ১০৪ জন, ২০০২ সালে ১৭টি দুর্ঘটনায় ২৯৭ জন, ২০০৪ সালে ৪১টি দুর্ঘটনায় ১২৭ জন মারা যায়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত