ডা. বেনজীর আক্তার

ডা. বেনজীর আক্তার

৪৬তম ব্যাচ, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ
এফসিপিএস পাট-২ (মেডিসিন);
মেডিকেল অফিসার (ডিজিজ কন্ট্রোল), উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, সাভার, ঢাকা।


১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০৮:১১ পিএম

সহজেই মেডিসিনে এফসিপিএস পার্ট-১ এ উত্তীর্ণ হওয়ার কৌশল

সহজেই মেডিসিনে এফসিপিএস পার্ট-১ এ উত্তীর্ণ হওয়ার কৌশল

যারা মেডিসিনে ক্যারিয়ার করতে চান, তাদের পড়াশোনা নিঃসন্দেহে অন্যদের চেয়ে অনেক বেশি করতে হবে। মেডিসিনে এফসিপিএস পার্ট-১ পাস করাও অল্প প্রস্তুতিতে দুরুহ ব্যাপার। তারপরও যারা রেসিডেন্সির জন্য পড়াশোনা করেছেন, তারা সতর্কভাবে প্রস্তুতি নিলে আগামী দেড় মাসের প্রচেষ্টায় মোটামুটি একটা প্রস্তুতি নেয়া সম্ভব।

মেডিসিনে এফসিপিএস পাস করতে চাইলে যে বইটির ব্যাপারে আপনার সম্যক ধারণা থাকতে হবে এবং যে বইটি থেকেই নানা আকার এবং প্রকারের প্রশ্ন করা হবে, সেটি হচ্ছে ডেভিডসনস প্রিন্সিপাল অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিন। এফসিপিএস মেডিসিন পার্ট ওয়ানের অধিকাংশ প্রশ্ন এখান থেকেই হয়। অনেকেই মেডিসিনে পার্ট-১ পরীক্ষার্থীদের শুধু ডেভিডসন পড়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। কিন্তু বিগত কয়েক বছরের প্রশ্ন থেকে দেখা গেছে শুধু ডেভিডসন পড়ে গেলে ধরা খাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অন্তত ১০ থেকে ২০ ভাগ প্রশ্ন বেসিক থেকে আসে এবং সেটাই পাস এবং ফেলের পার্থক্য তৈরি করে দেয়। এজন্য মেডিসিন অংশের জন্যে ডেভিডসনের বাইরেও পড়তে হবে। এখানে সংক্ষেপে একটা নির্দেশনা তুলে ধরা হলো:

১. মেডিসিন:
বিসিপিএস থেকে প্রকাশিত এফসিপিএস মেডিসিন পার্ট-১’র সিলেবাসে হ্যারিসন, হাচিসন, ম্যাক্লয়েড এবং ডেভিডসন পড়ার নির্দেশনা দেয়া আছে। কিন্তু এই তথ্যগুলো আপাতত ভুলে যেতে হবে। একটা বইই ফলো করতে হবে—ডেভিডসনস প্রিন্সিপাল অ্যান্ড প্র্যাকটিস অব মেডিসিন। এক্ষেত্রে পেপার ওয়াইজ আলাদা করে যা যা পড়তে হবে:

পেপার-১

এই পেপারের মেইন টপিক হচ্ছে নিউরোলজি। অ্যানাটমি, ফিজিওলজি খুব ভালোভাবে আয়ত্তে থাকতে হবে। বক্স থেকে হরহামেশাই ট্রু ফলস প্রশ্ন হয়। ডিজিজ রিলেটেড টপিকগুলো সিঙ্গেল বেস্ট প্রশ্নের জন্য পারফেক্ট এক্সামপল।

তাছাড়া পেপার-১ এ মেডিকেল ইথিকস, ক্লিনিক্যাল ডিসিশন মেকিং, ক্লিনিক্যাল থেরাপিউটিকস টপিক ভালো করে পড়ার কোনো বিকল্প নেই, প্রশ্ন আসবেই এখান থেকে।

হেমাটোলজি অংশ থেকে ফিজিওলজি একদম ঝাড়া রিভিশন দিতে হবে, ডিজিজ রিলেটেড ইনভেস্টিগেশন মিলিয়ে পড়তে হবে কারণ কেস সিনারিও দিয়ে সিঙ্গেল বেস্ট প্রশ্ন হয়।

পেপার-২

এখানে মার্কস তোলার জায়গা হচ্ছে ডার্মাটোলজি, পয়সনিং ও সাইকিয়াট্রি। ছোট ছোট চ্যাপ্টার কিন্তু প্রশ্ন প্রায় প্রতিবারই একই রকম।

কার্ডিওলজি ও এন্ডোক্রাইনের ফিজিওলজি অংশ থেকে ট্রু ফলস হয়, গ্যাননের বক্স, কিছু ফিগার দেখতে পারলে উত্তর মিস হওয়ার কোনো আশঙ্কা নেই। এদুটো চ্যাপ্টারে যেটুকু ফার্মাকোলজি দেয়া আছে পড়ে ফেলতে হবে, প্রশ্ন একটা কমন পাবেনই।

পেপার-৩

ইনফেকশাস ডিজিজ অবশ্যই মাইক্রোবায়োলজি অংশের সঙ্গে কোরিলেট করে পড়বেন। গত দুই বছরের প্রশ্ন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়—পার্ট-১ এ পাস ফেল নির্ধারিত হয় পেপার তিন দিয়ে। সেপসিস, নিউট্রোপেনিক ফিভার, এজিং ছোট ছোট ইমপোর্টান্ট টপিকস থেকে ট্রু ফলস প্রশ্ন আসে। স্পেসিফিক ডিজিজ নয়, এখানে স্পেসিফিক অর্গানিজম নিয়ে প্রশ্ন হয়।

নেফ্রোলজি ফিজিওলজি অংশ থেকে কিন্তু সিঙ্গেল বেস্ট প্রশ্নও হয়। সাথে নেফ্রো, রিউমাটোলজি এখান থেকে সব বক্স মুখস্থ থাকতে হবে।

সবশেষে, প্রতিটি পেপারই আপনার কাছে সহজ বোধগম্য হয়ে যাবে যদি জেনেসিস এর ক্লাস করে থাকেন। সীটগুলো পরীক্ষা অনুযায়ী এমনভাবে আপডেট করা যে হলে বসে ভাববেন যেন এটা জেনেসিস এর কোনও রিভিউ টেস্ট।

বক্স কোনোটা বাদ দেয়া যাবে না। বক্সের প্রথম টপিক্সটা আলাদা করে মনে রাখতে হবে। সেটাই হচ্ছে সিঙ্গেল বেস্ট অপশান।

২. ফিজিওলোজি

ক. ছয় মাসের প্রিপারেশন হলে বলে দিতাম গ্যানং-টা পড়ে ফেলুন। বিগত কয়েক বছরে সরাসরি কয়েকটা সিঙ্গেল বেস্ট চলে এসেছিল গ্যানং থেকে। আপাতত আগে যে বই থেকে পড়া ছিল—সে বই হালকা রিডিং দিবেন, সেটা মেইন বই হোক, গাইড বই হোক। এফসিপিএস কনসেপ্টের পরীক্ষা। সেক্ষেত্রে না বুঝে কোনো অংশ মুখস্থ করবেন না। যেটা গোলমেলে মনে হচ্ছে, সেটা বই দেখবেন।

তবে গ্যানংয়ের বক্স কোনোটা বাদ দিবেন না। জেনেসিসের শিটগুলোতে বিস্তারিত সব আলোচনা সুন্দরভাবে দেয়া। একটু কনফিডেন্ট হলে শিটগুলো একবার পড়ে ফেলুন।

৩. মাইক্রোবায়োলোজি:

খুব ভাইটাল সাবজেক্ট। পেপার থ্রির অনেক প্রশ্ন এখান থেকে সরাসরি আসে। ব্যাকটেরিয়োলোজি, ভাইরোজি ও মাইকোলোজি শুধু জেনেসিসের শিট মুখস্থ করবেন। বিশেষ করে ভাইরাস ব্যাকটেরিয়া। এগুলোর সব পড়ুন। বিস্তারিত পড়ুন। 

কোনোটা দেখতে কী রকম, চরিত্র কী, কী রোগ করে সব পড়ুন। ডেভিডসনের ইনফেকশাস আর ল্যাঞ্জের মাইক্রো কোরিলেট করে জেনেসিসের শিট বানানো। মাইক্রো হচ্ছে মার্ক্স উঠানোর জায়গা। সুতরাং ঝুঁকি নেয়াটা উচিত হবে না। মাইক্রো পড়ে ভুলে যাওয়ার আশঙ্কা বেশি। তাই অতি অবশ্যই বারবার রিভিশন দিতে হবে।

মাঝে মাঝে প্যারাসাইটোলজি থেকে অনেক প্রশ্ন থাকে। স্পেশাল এটেনশন দিয়ে জেনেসিসের শিটে যা দেয়া, তা ভাজা ভাজা করব ফেলতে হবে।

৪. ইম্যুনোলোজি:

ডেভিডসন+ল্যাঞ্জ+রবিন্স প্যাথোলজি-তিনটার ইম্যুনলজি অংশ এক সঙ্গে করে বানানো হয়েছে জেনেসিসের ইম্যুনলজি শিট। এটা এতোটাই সমৃদ্ধ যে, এটা ভালোভাবে আত্মস্থ করলে ৮ মার্ক নিশ্চিত হয়ে যায়।

৫. অনকোলজি/নিওপ্লাজম:

ডেভিডসনের ৮/১০ পাতা ও রবিনস প্যাথোর কয়েকটা বক্স (প্যারানিওপ্লাস্টিক সিন্ড্রোম+টিউমার মার্কার+এক্সপোজার এন্ড ক্যান্সার+কার্সিনোজেন) পড়ে ফেলতে হবে। বেসিক অনকোলজি থেকে সাধারণত প্রশ্ন হয় না, আপাতত পড়া লাগবে না। ডেভিডসন এবং রবিন্স পড়তে না পারলে জেনেসিসের শিটের ফিক্সেটিভ অংশ বাদ দিয়ে বাকি অংশ পড়ে ফেলতে হবে।

৬. জেনেটিকস:

ডেভিডসন এবং রবিন্সের অংশ মিলিয়ে প্রশ্ন হয়। ডোমিনেন্ট, রিসিসিভ ডিজিজের নাম, ইনহেরিটেন্স প্যাটার্ন মনে রাখতে হবে অবশ্যই। এর বাইরে জেনেসিসের শিটটা সঙ্গে নিয়ে রাফে ভাইয়ের লেকচার ক্লাসটা করে ফেলতে পারলে চমৎকার হয়।

৭. বায়োস্ট্যাটিসটিক্স:

প্যাপার টুতে অধিকাংশ লোক ফেইল করে এটার জন্য। কিছু জিনিষ কিছু পড়ে ফেলতে হবে জেনেসিসের শিট বা দিলীপ সরকারের নোট থেকে।
* Variable/Data
* Data presentation
* Study Design, Case control study, RCT
* Sampling -Types
* Sampling error
* Probabolity
* P- value
*Null and alternate hypothesis
* Type 1 and Type 2 error
* Hypothesis Testing
* Pre-requisite of Student test, ANOVA, Z Test, X2 (Chi) Test
* Performance Of Test ( Sensitivity, Specificity, Predictive Value, Likelyhood ratio)

উপরের টপিক্সগুলো বুঝে পড়ে যাবেন ভালো করে।

৮. বায়োকেমিস্ট্রি:

মেটাবোলিজম, বডি ফ্লুইড, এসিড বেস ডিজ-অর্ডার এবিসি বায়োকেমিস্ট্রি থেকে ভালোভাবে পড়ে যাবেন।

৯. ফার্মাকোলোজি: 

ডেভিডসন এবং ভিশন ফার্মা মিলিয়ে এই চ্যাপ্টারগুলো পড়ে ফেলতে হবে—অটোনোমিক ফার্মা, সিভিএস, এন্টি সাইকোটিক, রেনাল ফার্মা। তবে ফার্মা থেকে প্রশ্ন কম আসে।

১০. নিউরোএনাটমি:

খুবই গুরুত্বপূর্ণ। স্নেলের কয়েকটা চ্যাপ্টার পড়ে ফেলতে হবে ভালো ভাবে—ক্রেনিয়াল নার্ভস, সেরেবেলাম, ব্যাসাল গ্যাংগ্লিয়া (শুধু পার্ট ও ফাংশন), লিম্বিক সিস্টেম (শুধু পার্ট ও ফাংশন), ভেন্ট্রিকুলার সিস্টেম, ব্লাড সাপ্লাই, স্পাইনাল কর্ড, অটোনোমিক নার্ভাস সিস্টেম, কর্টেক্সের এরিয়া। সবচেয়ে ভালো হয়, জেনেসিসের বিখ্যাত টিচার তানভীর স্যারের ক্লাসটা করে ফেলতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়।

এটা হচ্ছে মোটামুটি আমার বিবেচনায় এফসিপিএস মেডিসিন পার্ট-১’র একটা শর্ট সাজেশন্স। এটা থেকে কেউ যদি একটু উপকৃত হয়, সেটাই হবে বড় পাওয়া।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত