১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৪৮ পিএম
আপডেট: ১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:৫২ পিএম

কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৬, তদন্ত কমিটি

কসবায় ট্রেন দুর্ঘটনায় নিহত ১৬, তদন্ত কমিটি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৬ জনে। মঙ্গলবার (১২ নভেম্বর) ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে কসবা উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথের মন্দবাগ রেলওয়ে স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শতাধিক যাত্রী আহত হয়েছেন।

নিহতদের মধ্যে পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন: হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার মদনমোরাদ এলাকার আইয়ূব হোসেনের ছেলে আল-আমিন (৩৫), আনোয়ারপুর এলাকার মো. হাসানের ছেলে আলী মো. ইউসূফ (৩৫), চুনারুঘাট উপজেলার পীরেরগাঁও এলাকার সুজন (২৪), চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ উপজেলার রাজাগাঁও এলাকার মজিবুর রহমান (৫০) ও তার স্ত্রী কুলসুমা (৪২)। বাকিদের পরিচয় জানা যায়নি।
 
স্টেশন মাস্টার জাকির হোসেন চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনটি এক নম্বর লাইনে ঢুকছিল। এ সময় চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথাকে আউটারে থাকার সিগন্যাল দেয়া হয়েছিল। কিন্তু চালক সেই সিগনাল অমান্য করে মূল লাইনে ঢুকে পড়ার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে। 

আহতদের জন্য রক্তের প্রয়োজন

দুর্ঘটনার পর আহত ৪৪ জনকে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সকাল থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মীরা ধাপে ধাপে আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

হাসপাতাল কতৃপক্ষ জানিয়েছে, আহত অনেক রোগীর জন্য রক্তের প্রয়োজন। রক্তের গ্রুপ উল্লেখ করে তা প্রচার করা হচ্ছে। স্বেচ্ছায় রক্ত দিতে অনেকে এগিয়ে আসছেন। তাছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও এ বিষয়ে স্থানীয় বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ স্বতঃস্ফুর্তভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক শওকত হোসেন জানান, এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে এ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তবে তাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। প্রয়োজন হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদের ঢাকায় পাঠানো হতে পারে।

তদন্ত কমিটি গঠন

এদিকে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মিতু মরিয়মকে প্রধান করে তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে জেলা প্রশাসন। 
জেলা প্রশাসক হায়াত উদ-দৌলা খান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করে প্রত্যেক পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা করে দিয়ে মরদেহ বাড়িতে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি আহতের চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এর আগে ভোররাত পৌনে ৩টার দিকে চট্টগ্রাম থেকে ছেড়ে আসা আন্তনগর ঢাকাগামী তূর্ণা নিশীথা ও সিলেট থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী আন্তনগর উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই ৯ জন মারা যান। পরে মারা যান আরও ৭ জন। নিহতদের মরদেহ শনাক্তের কাজ চলছে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত