০৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:২৩ পিএম
আপডেট: ০৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৪৮ পিএম

প্রধানমন্ত্রী আমাকে বারবার বলেছেন সুষ্ঠু পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দিবা না: বিএসএমএমইউ ভিসি

প্রধানমন্ত্রী আমাকে বারবার বলেছেন সুষ্ঠু পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দিবা না: বিএসএমএমইউ ভিসি

অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া। বাংলাদেশে নিউরোসার্জারির একজীবন্ত কিংবদন্তি। চট্টগ্রামের দমদমা গ্রাম থেকে শুরু যে পথ পরিক্রমা, আজও বিএসএমএমইউর ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে তা চলমান রয়েছে। মেডিভয়েসের সঙ্গে একান্ত আলোচনায় উঠে এসেছে তার বর্ণিল অতীত, আলো ঝলমলে বর্তমান আর ভবিষ্যতের নানা স্বপ্নের আঙ্গিক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন মুন্নাফ রশিদ

মেডিভয়েস: স্যার, কেমন আছেন?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: ভালো আছি।

মেডিভয়েস: আপনার শৈশব-কৈশোর এবং পড়াশোনার গল্প শুনতে চাই?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: আমার পড়াশোনা শুরু হয় চট্টগ্রামের দমদমা গ্রাম থেকে। ক্লাস ওয়ান থেকে সিক্স পর্যন্ত ওই এলাকাতেই পড়াশোনা করি। সেখান থেকে দুই মাইল দূরে সরকারহাট হাইস্কুলে ক্লাস সেভেনে গিয়ে ভর্তি হই। তারপর এইটে উঠেই চলে যাই বাবার সঙ্গে। আমার বাবার কর্মস্থল ছিল তৎকালীন নোয়াখালী জেলার লক্ষ্মীপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) প্রথম প্রতিষ্ঠিত থানা হেলথ্ কমপ্লেক্সে। সেখানকার প্রথম চিকিৎসকই ছিলেন আমার বাবা ডা. শুভঙ্কর বড়ুয়া। ওনার কাছে গিয়ে লক্ষ্মীপুর মডেল হাইস্কুলে ভর্তি হই ক্লাস এইটে।

এলাকার স্কুলগুলোতে যেমন আমি ফার্স্টবয় ছিলাম, এখানে এসেও এইট থেকে নাইন পর্যন্ত ফার্স্টবয় হয়ে যাই। এমনকি আমিই ওখান থেকে একমাত্র ছাত্র হিসেবে ক্লাস এইটে বৃত্তি পাই। ক্লাস নাইন ওখানেই শেষ করি। তারপর ক্লাস টেনে উঠে বাবার ট্রান্সফার হওয়ায় চলে যাই ময়মনসিংহে। তারপর বোর্ড ট্রান্সফার জটিলতায় ময়মনসিংহে ভর্তি না হয়ে সবার পরামর্শে কুমিল্লা জিলা স্কুলে ভর্তি হই। পরে সেখান থেকে জাতীয় মেধায় ১৬তম স্থান অর্জন করে এসএসসি পাস করি।

১৯৬৮ সালে ঢাকা কলেজে ভর্তি হই। ঢাকা কলেজ থেকে প্রথম স্ট্যান্ড করে উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই। এরপর ১৯৯০ সালে এফসিপিএস, ২০০৩ সালে এমএস (নিউরোসার্জারি), ২০০৪ সালে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করি। ১৯৯৩ সালে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফআইসিএস (অ্যাওয়ার্ডেড ফেলোশিপ অব ইন্টারন্যাশনাল কলেজ অব সার্জনস্) অ্যাওয়ার্ডে ভূষিত হই। এছাড়াও ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কা থেকে অনারারি এফএসএলসিএস এবং কলেজ অব ফিজিশিয়ান্স অ্যান্ড সার্জন্স, পাকিস্তান থেকে অনারারি এফসিপিএস ডিগ্রি অর্জন করি।

মেডিভয়েস: আপনার চিকিৎসক হওয়ার গল্পটা জানতে চাই।

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: আমার চিকিৎসক হওয়ার গল্পটা একটু অন্যরকম। ১৯৬৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে ডা. ক্রিশ্চিয়ান বার্নার্ড যখন প্রথমবারের মতো মানবদেহে হৃদপি- প্রতিস্থাপন করেন, তখন আমার মাঝে ডাক্তারি শাস্ত্র পড়ার জন্য, এই ধরনের চ্যালেঞ্জিং জিনিস গ্রহণ করার জন্য ইচ্ছা জাগে। সে সময় জানতে পারি, নিউরোসার্জারির রহস্যময়তার কথা। তখনই চিকিৎসক হওয়ার ও নিউরোসার্জারিতে ঢুকার একটা স্বপ্ন তৈরি হয়। এভাবেই আমার চিকিৎসা শাস্ত্রে আসা।

মেডিভয়েস: আর বর্ণাঢ্য কর্মজীবন সম্পর্কে বলুন?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: চিকিৎসক হয়ে আমার কর্মজীবনের প্রথমে ১৯৭৭ সালের ২০ জুলাই ইনসার্ভিস ট্রেইনি হিসেবে যোগদান করি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। আমরা ঢাকা মেডিকেলকে বলি রোগীদের ধাত্রী। একজন মা যেমন তার সন্তানকে ফিরিয়ে দিতে পারে না, ঢাকা মেডিকেল কলেজও কোনো রোগীকে ফিরিয়ে দেয় না। সেখানে অনেক ইমার্জেন্সি রোগী আসে, তাদের চিকিৎসা দিতে দিতে কখন কী হলে কী করতে হবে তার অভিজ্ঞতা হয়ে যায়।স্বাভাবিকভাবেই আমি ঢাকা মেডিকেলের সে সুযোগ পেয়েছি। তখন আমি দিবারাত্র কাজ করেছি।

তারপর ১৯৭৯ সালের ডিসেম্বরের দিকে পিজিতে ট্রান্সফার হই। সেখানে মেডিকেল অফিসার, অ্যাসিস্টেন্ট রেজিস্ট্রার, আরএস, অ্যাসিস্টেন্ট প্রফেসর, অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর, প্রফেসর, চেয়ারম্যান, তিনবারের নির্বাচিত ডিন এবং এরপর ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে কাজ করি। এর মাঝখানে বিএনপি সরকারের সময়ে একবার আমাকে পোস্টিং করে রাজশাহী পাঠানো হয়। তারপর কয়েকমাস কাজ করে আবার আমি ট্রান্সফার হয়ে ঢাকায় চলে আসি। বিএসএমএমইউতে আসার আগে সলিমুল্লাহ মেডিকেলেও দুই বছরের মতো কাজ করেছি। এই হলো আমার কর্মজীবন।

মেডিভয়েস: কর্মজীবনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় কোনটি বলে মনে করেন? দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রাপ্তিগুলো কী?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: আমার মনে হয়, আমার পেশায়, আমার যতটুকু যোগ্যতা, তার চেয়েও অনেক বেশি পেয়েছি। প্রফেসর হওয়ার পর আমি ২০১০ সালে ডিন নির্বাচনে বিজয়ী হই। ২০১৭ সালের মার্চ থেকে ২০১৯ সালের ছয় এপ্রিল পর্যন্ত বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস্ অ্যান্ড সার্জনস্রে সভাপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করি। আর এ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনবার ডিন নির্বাচিত হওয়ার পর এ বছর ২৪ মার্চ মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুপারিশক্রমে চ্যান্সেলর আবদুল হামিদ সাহেব আমাকে ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ দুইটা পদ অতীতে কারও আছে বলে আমার জানা নেই। এটা আমার জন্য অনেক বিরাট একটা প্রাপ্তি, যা আমি কল্পনাও করিনি।

মেডিভয়েস: উপাচার্যের দায়িত্ব নেওয়ার পর কোন বিষয়গুলোতে গুরুত্বারোপ করছেন? বিএসএমএমইউর সামগ্রিক উন্নয়নকল্পে আপনার নেয়া পদক্ষেপগুলো কী কী? পরবর্তী সময়ের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো পরিকল্পনা আছে?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: আমি ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে যোগদান করার পর আমার একটা মাত্র চিন্তা ছিল, জীবনের বিশাল একটা পথ ও অ্যাকাডেমিক এতো বড়বড় পদ পাওয়ার পরও যদি আমি এদেশের মানুষের জন্য কিছু করতে না পারি, তাহলে আমি ব্যর্থ। সেই চিন্তা থেকে আমি চেষ্টা করছি শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা এবং গবেষণা এই তিনটাতেই সরকারের যে পরিকল্পনা সেটাকে সত্যিকার অর্থেই যেন বাস্তবায়ন করতে পারি।

আমাদের পাশেই যে একটা প্রকল্প, এক হাজার বেডের সুপারস্পেশালাইজড হসপিটাল, এটার প্রজেক্ট শুরু হয়েছিল ২০১৩-১৪ সালে। আমি দায়িত্ব নেয়ার পরই বসলাম প্রজেক্ট ডাইরেক্টরের সঙ্গে। সে তার কিছু অসুবিধার ব্যাপারে আমাকে বললো। আমি স্বাস্থ্যমন্ত্রী মহোদয়ের সঙ্গে কথা বললাম। উনিও গ্রিন সিগনাল দিলেন। তারপর আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে দেখা করে যখন স্থানীয় সমস্যাগুলো দূর হয়ে গেল, তখন প্রধানমন্ত্রীকে অনুরোধ করলাম, এটা যদি আপনি উদ্বোধন করতে আসতেন তাহলে আমরা কৃতজ্ঞ থাকতাম। অনুরোধে তিনি রাজি হলেন এবং ১৩ সেপ্টেম্বরে উদ্বোধন করে দিলেন। এর পরেই পরিস্থিতি পাল্টে যায়। কাজে গতি আসে। আমি তাদেরকে টার্গেট দিয়েছিলাম যে, ২০২১ সালের ২৩ মার্চ আমার দায়িত্ব শেষ। তোমরা আমাকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে কাজটা শেষ করে দাও। ১৬ ডিসেম্বর আমাদের বিজয় দিবস, সেদিনের মধ্যে যদি কাজটা শেষ করে দাও, তাহলে জানুয়ারি মাসে প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের মাধ্যমে এটা চালু করা যাবে। তারপর আমি আমার দায়িত্ব শেষ করতে পারবো। আমার মনে তখন একটা তৃপ্তি আসবে যে হাসপাতালটির কাজ শেষ করে যেতে পারলাম। যাহোক, তারা আমাকে আশ্বস্ত করলেন।

আমার দীর্ঘদিন যাবৎ আরেকটা পরিকল্পনা ছিল শিক্ষকদেরকে নন-প্র্যাক্টিসিং করা। সকাল ৮টা থেকে আড়াইটা পর্যন্ত আমাদের অফিস, এই সময়ে আমাদের শিক্ষকরা এবং সিনিয়র ডাক্তাররা হাসপাতালে থাকছেন; কিন্তু বিকাল থেকে পরদিন সকাল পর্যন্ত বিরাট একটা সময় আমাদের রোগীরা অভিজ্ঞ চিকিৎসকের মতামত পাচ্ছে না। আমরা যদি শিক্ষকদেরকে নন- প্র্যাক্টিসিং করে দেই, অন্তত ৫টা পর্যন্ত যদি অফিসটা নিয়ে যাই, তাহলে রোগীদের জন্য অনেকটাই উপকার হবে। নন-প্র্যাক্টিসিং করলে গবেষণার কাজে, শিক্ষকতার কাজে এবং রোগীদের সেবার কাজে আরও বেশি সময় তারা দিতে পারবেন। আমার পরিকল্পনা আছে, এই নন- প্র্যাক্টিসিং পদ্ধতিটা প্রতিষ্ঠা করা।

হয়তো বলতে পারেন, এতোদিন কেন এটা করেননি? দেখেন, অপ্রিয় হলেও সত্য যে, আমি যোগদান করার পর থেকেই ব্যতিব্যস্ত ছিলাম মেডিকেল অফিসার নিয়োগ নিয়ে। বলতে পারেন, আপনি কেন ব্যস্ত থাকবেন মেডিকেল অফিসার নিয়োগ নিয়ে? কিন্তু বাস্তব কথা হলো, আমার অফিসটি ঘেরাও থাকতো সবসময়। সপ্তাহে দুইদিন তিনদিন বা কোন সপ্তাহে প্রতিদিনই চাকরি প্রত্যাশিতরা আমাকে এসে বলতো, আমাদের চাকরি দিতে হবে। যাইহোক, লিখিত পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ হওয়ার পর থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সবসময় আমাকে যে সহায়তা করেছেন, তার কাছে আমি চির কৃতজ্ঞ থাকবো। এই নিয়োগ নিয়ে যখনই তার কাছে গিয়েছি, তিনি আমাকে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত দিয়েছেন। তিনি আমাকে বারবার বলেছেন, আমার দলের হোক আর যাই হোক, সুষ্ঠু পরীক্ষা ছাড়া নিয়োগ দিবা না। ডাক্তার যদি ভাল না হয়, ভাল চিকিৎসক যদি (নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে) না আসে, তাহলে আমার রোগীরা ভাল সেবা পাবে না।

সাধারণ মানুষের সেবায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে আগ্রহ, আর আমাকে যে নির্দেশ দিলেন, তারপর আমার কী করণীয় আছে ভাইস চ্যান্সেলর হিসাবে? আমার করণীয় হলো প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ পালন করা। এছাড়া আমার যদি বিবেক থাকে, আমি যদি বিবেক সম্পন্ন মানুষ হই, তাহলে তো আমার উচিত মেধার ওপর নির্ভর করা এবং সিদ্ধান্ত নেওয়া। আর আমি সেটাই করছি।

আমি আসার পর এখানে কতগুলো বিভাগ চালু করা হয়। যেমন- রিপ্রোডাক্টিভ অ্যান্ডোক্রাইনোলজি অ্যান্ড ইনফারটিলিটি, গাইনোকোলজিক্যাল অনকোলজি, ফিটো-মেটারনাল মেডিসিন, হেপাটোবিলিয়ারি, প্যানক্রিয়েটিক অ্যান্ড লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্ট সার্জারি, কলোরেক্টাল সার্জারি, সার্জিক্যাল অনকোলজি, প্যাডোডেনটিক্স, পেডিয়াট্রিক নিউরোলজি বিভাগ।

এছাড়াও আরও কতগুলো বিভাগ চালু করার জন্য অপেক্ষা করছি। যেমন: প্লাস্টিক সার্জারি, ট্রপিক্যাল মেডিসিন বিভাগ, জেরিয়াট্রিক মেডিসিন বিভাগ, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, ইনফেকশাস ডিজিজ বিভাগসহ এরকম আরও ৫টা বিভাগ চালুর অপেক্ষায় আছে। তারপর আমার আরেকটা স্বপ্ন ছিলো যে, আমার সময়ে লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টটা যেন হয়ে যায়। আনন্দের ব্যাপার হচ্ছে, প্রথমটা শেষ করে আমরা এখন ২য় লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি। অথচ অনেকেই ভেবেছিলেন, এটা আমরা পারবো না। ২য় লিভার ট্রান্সপ্ল্যান্টের প্রস্তুতি প্রায় শেষ।

আমি আসার পর অনেকগুলো ডিপার্টমেন্টে ২৪ ঘণ্টা সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। যেমন, ল্যাবরেটরি মেডিসিন, বায়োকেমিস্ট্রি ডিপার্টমেন্ট, ট্রান্সফিউশন বিভাগ, রোগীদের সুবিধার্থে জরুরি ল্যাবরেটরি সার্ভিস, রক্তদান, ওষুধ প্রদানসহ জরুরিসেবা চালু করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু সেলে যতো খরচ হচ্ছে, সেটা আমরাই বহন করছি। বলা যায়, এখানে রোগীদের চিকিৎসা সেবা সম্পূর্ণ ফ্রি। এছাড়া আমাদের বৈকালিক স্পেশালাইজড আউটডোর তো আছেই।

আপনারা জানেন, অতি দরিদ্র রোগীদের জন্য আমাদের একটা তহবিল আছে। একটা ব্যাপার খেয়াল করেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী কতটুকু মানবিক এবং সহানুভূতিশীল। আমাদের হাসপাতাল উদ্বোধনের সময় আমাদের অতি দরিদ্র তহবিলে তিনি আরও ১০ কোটি টাকা দিয়ে গেছেন। যার ফলে কেউ যদি আমাদের এখানে এসে টাকার অভাবে ওষুধপত্র কিনতে না পারে, তাহলে যে চিকিৎসকের অধীনে রোগী ভর্তি থাকে, তার সুপারিশ পেলে আমরা তাদেরকে এককালীন ১০ হাজার টাকা করে দিচ্ছি। এতেও যদি না হয়, প্রয়োজনে তাকে আবার দেওয়া হবে।

আমার সময়ে আরও বেশ কয়েকটা বড় কাজ হয়েছে, সেগুলো হলো: বেতার ভবনের জায়গাটা বুঝে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গত বছরে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) ‘ইনস্টিটিউট অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজঅর্ডার অ্যান্ড অটিজম (ইপনা)’ প্রকল্পকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম এবং পূর্ণাঙ্গ ইনস্টিটিউট হিসেবে অনুমোদন দিয়েছে। আমাদের হাসপাতালের বহির্বিভাগের ঊর্র্ধ্বমুখী সম্প্রসারণ কাজ শুরু হয়েছে। একটার কাজ শেষ হয়েছে, আরেকটার কাজ শুরু হবে এখন। আমার সময়ে বিএসএমএমইউতে ক্যান্সার চিকিৎসায় ব্যবহৃত ব্যয়বহুল থেরাপি মেশিন ‘লিনিয়ার এক্সেলেটর’ বসানো হয়েছে।

আমরা আরেকটা কাজ করছি, বিভিন্ন ধরনের স্কিল ডেভেলপমেন্ট করার জন্য বিভিন্ন ডিপার্টমেন্ট নানা প্রোগ্রাম হাতে নিচ্ছে ও কাজ করছে। কিছুদিন পূর্বেই চক্ষু চিকিৎসায় দক্ষ সার্জিক্যাল ট্রেনিংয়ের জন্য আমাদের আই ডিপার্টমেন্টে আধুনিক অফথালমিক ওয়েট ল্যাব উদ্বোধন করা হয়েছে। সবসময় আমার মনে একটা অনুভুতি থাকে যে, ভাইস চ্যান্সেলর হিসেবে আমি যে একটা সম্মান পেয়েছি, এটাকে টাকার বিনিময়ে আমি কেন কলঙ্কিত করবো? আজকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা নিয়ে আমি সারা শহরে চলছি, এর চেয়ে বড় সম্মান আর কী হতে পারে?

মেডিভয়েস: বিএসএমএমইউর অধীনে ডিপ্লোমা বা এমফিল কোর্সে যারা আছেন তাদের ভাতা প্রদানের কোনও পকিল্পনা আছে কি না?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: এই মুহূর্তে এ ধরনের কোনও পরিকল্পনা আমাদের নেই। এখন ভাতা দেয়া হচ্ছে শুধু রেসিডেন্সি কোর্সে। সবাই প্রত্যাশা করে যে, যারা রেসিডেন্সি কোর্সে আসে তারা ফুলটাইম অর্থাৎ যখনই তাদেরকে ডাকা হবে তখনই তারা আসবে। কিন্তু ডিপ্লোমাদের যে কোর্স সেটা কিন্তু রেসিডেন্সি কোর্সের মতো না।

মেডিভয়েস: বিএসএমএমইউর অধিকাংশ সেবাগ্রহীতাদের একটা বিশেষ অনুযোগ এখানে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করাতে টাকা জমা দিতে বিশাল লম্বা লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। মোবাইল ব্যাংকিংয়ের এই বিপ্লবের যুগে পেমেন্ট সিস্টেমটা ডিজিটাল করে সেবাগ্রহীতাদের ভোগান্তি কমিয়ে আনার কোনো পরিকল্পনা আছে কী?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: এখন হলো ডিজিটালাইজেশনের যুগ। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টাকে অটোমেশনের আওতায় দিয়ে দেয়ার ব্যাপারে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার সাহেবের সাথে কথা হয়েছে। ভবিষ্যতে রোগীরা অনলাইনের মাধ্যমে চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য পাবেন। আমরা সেই লক্ষেই এগিয়ে যাচ্ছি। ইতিমধ্যে আমরা বেতন সংক্রান্ত সকল কিছু অনলাইনে নিয়ে এসেছি। পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে এ সেবার আওতায় আনার জন্য একসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্প এগিয়ে নেয়ার কাজ চলছে। এছাড়া এ কাজের জন্য আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলক তার মন্ত্রণালয় থেকে ২০ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানিয়েছেন।

মেডিভয়েস: বিএসএমএমইউতে জরুরি বিভাগ চালুর ব্যাপার আপনাদের পরিকল্পনা কী? কবে নাগাদ শুরু হতে পারে?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: আমার একটা বড় টার্গেট ছিল, হাসপাতালে জরুরি বিভাগ চালু করা। এর জন্য মোটামুটি সকল আয়োজন সম্পন্ন করেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে সরকারের তরফ থেকে ১০ হাজার নার্স নিয়োগ দেওয়ার ফলে সাড়ে চারশ’ নার্স আমাদের হাসপাতাল থেকে চলে যায়। ফলে ইমার্জেন্সি সার্ভিস ও প্রয়োজনীয় সার্ভিস দেওয়াই আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। সুতরাং ওই মুহূর্তে অতিরিক্ত আরও ৫০ জন নার্সের কাজ হাতে নিয়ে পরে সার্ভিস দিতে না পারলে সেটা তো আরও সমস্যা হয়ে দাঁড়াবে। আমাকে বলতে পারেন যে আপনি পারেননি, সেটা এক জিনিস। কিন্তু চালু করে সেবা দিতে না পারাটা তো আরও বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।

যাইহোক, তবুও আমার ভাবনা ছিল দ্রুতই শেষ করে ফেলতে পারবো। কিন্তু দেখেন, নার্সের এই নিয়োগটা শেষ হতে না হতেই দেখা গেলো ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব। সে সময়ে প্রতিদিন গড়ে ২০০ জনের মতো রোগীকে আমরা সেবা দিয়েছি, এখনও পর্যন্ত সেবা দিয়ে যাচ্ছি। ডেঙ্গু সমস্যাটা কেটে গেলেই আমরা আমাদের কাজটা শুরু করে দিতে পারবো। আমাদের সব আয়োজন সম্পন্ন করা আছে, এখন শুধু উদ্বোধনের বাকি।

মেডিভয়েস: আপনার প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন স্তরে জনবল সংকট আছে কিনা? থাকলে এর সমাধানে কী উদ্যোগ নিচ্ছেন?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: আপনারা জানেন যে, মেডিকেল অফিসারের জন্য ২০০ জন ডাক্তারের যে পরীক্ষা আমরা নিয়েছি, মেধার ভিত্তিতে রেজাল্ট দিয়ে যে ফাইনাল স্টেজে এসেছি, সেগুলোর নিয়োগও সহসাই হয়ে যাবে। এমনকি কিছুদিন আগেই অত্যন্ত স্বচ্ছতার সাথে ৩৪৭ জন নার্স নিয়োগ দিয়েছি।

যেহেতু জরুরি বিভাগ চালু করবো, ফলে নার্সিং বিভাগকে আমি বলেছি; এরপরও যদি নার্স লাগে তাহলে সেগুলোর প্রক্রিয়া খুব দ্রুত শেষ করবো। তারা ১০০ জন নিয়োগের বিষয়ে আমাকে জানিয়েছে। আমি তাদেরকে বলেছি যে, স্বাস্থ্য সেবায় কোনও ত্রুটি রাখা যাবে না। তাই সবকিছু বিবেচনা করে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা তাদেরকে দিতে বলেছি।

মেডিভয়েস: স্বাস্থ্যসেবার ও চিকিৎসা বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনে বিএসএমএমইউর শিক্ষা ও গবেষণার মান নিয়ে বলুন।

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: আমাদের ল্যাবগুলো খুবই উন্নতমানের। খুবই সাশ্রয়ী মূল্যে এসব ল্যাবে ইনভেস্টিগেশন হয়ে থাকে, যা বর্তমানে আরও প্রসারিত হয়েছে। আমরা আমাদের চিকিৎসকসহ রেসিডেন্টদেরকেও উদ্বুদ্ধ করছি, যাতে তারা বেশি বেশি গবেষণা কার্যক্রম হাতে নেয়। মৌলিক গবেষণা করতে গেলে আমরা ৭০-৮০ হাজার টাকার ফান্ড দিচ্ছি শুধুমাত্র থিসিস করার জন্য। এই টাকা দিয়ে কিন্তু গবেষণা কাজ চালানো যায় না। একটা গবেষণা কার্যক্রম চালাতে কয়েক লাখ টাকার প্রয়োজন হয়। এছাড়া কোয়ালিটির উপরেও অনেক সময় ব্যয় নির্ভর করে। ফলে ফান্ড কিভাবে বাড়ানো যায় সে বিষয়ে গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

মেডিভয়েস: আন্ডারগ্রাজুয়েট মেডিকেল কলেজগুলোকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে নিয়ে আসার ব্যপারে একটি উদ্যোগের কথা শুনেছিলাম। এ ব্যাপারে অগ্রগতি কতদূর?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: এটি মূলত আইন মন্ত্রণালয়ে গিয়ে আটকে আছে। সেখানে তাদের কিছু আপত্তি রয়েছে। এসব জটিলতা মুক্ত হলে বিষয়টি দ্রুত আগাবে। আমার জানা মতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চাচ্ছে যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ তাদের অধীনে থাকুক। এটিও কিছু জটিলতা সৃষ্টি করছে।

মেডিভয়েস: বিসিপিএসের বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা প্রদানের বিষয়ে আপনার মতামত কী? প্রক্রিয়াটির অগ্রগতি কতদূর?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: অবশ্যই আমি একমত। এটি অত্যন্ত দরকারি বিষয়। এর পাশাপাশি এটাও নির্ধারণ করে দেয়া উচিত একজন প্রফেসরের অধীনে কতজন ট্রেইনি থাকতে পারবে। কারো কারো পেছনে দেখা যায়, ২০-৩০ জন ট্রেইনি রয়েছে। এক্ষেত্রে সঠিক প্রশিক্ষণ তারা পায় না। কেননা যখন ওই প্রফেসর রাউন্ড দেন তখন সর্বোচ্চ ৮-১০ জন ট্রেইনি থাকলে রোগী দেখার পর ব্রিফিংয়ের সময় তারা সবাই ভালোভাবে বুঝতে পারবে।

বিসিপিএসের বেসরকারি প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা প্রদানের জন্য যে টাকা বরাদ্দ হয়েছে তা অত্যন্ত অপ্রতুল। এটির পরিমাণ আরও বাড়াতে হবে। কেননা ২০ হাজার করে টাকা দিলে সবাইকে দেয়া সম্ভব না। ভাতা প্রদানের সিদ্ধান্তের জন্য আমি বর্তমান সরকারকে ধন্যবাদ জানাবো। সেই সাথে তৎকালীন স্বাস্থ্য সচিব জিএম সালাউদ্দিন সাহেবকে ধন্যবাদ জানাবো, কেননা তিনি আমাদের সহায়ক ছিলেন।

এ বিষয়ে প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। যখন সরকার একটি বিষয়ে নীতিগতভাবে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তখন এর পিছিয়ে যাওয়ার কোনও উপায় নেই।

মেডিভয়েস: তরুণ চিকিৎসকদের প্রতি আপনার কোনো পরামর্শ?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: বর্তমান যুগে পরামর্শ দেয়াটাই কঠিন। কারণ রেসিডেন্সি প্রোগ্রামে যখন শিক্ষার্থীরা আসে তখন ডিন হিসেবে প্রতিবছর অভিষেক অনুষ্ঠানে আমি কতগুলো কথা বলি- ‘দেখো, আমেরিকাতে নিউরো সার্জারির একজন রেসিডেন্টের সকাল শুরু হয় ভোর পাঁচটায়। ওই সকালে এসে তাকে তাঁর রোগীগুলো দেখে নোট করতে হয়। সকাল ছয়টার সময় তার চিফ অর্থাৎ চিফ অব রেসিডেন্ট আসেন। আসার পর সকল রেসিডেন্টদের নিয়ে তিনি রাউন্ড দেন। সাড়ে
সাতটার দিকে এই দল নিয়ে তিনি যান রেডিওলজি বিভাগে। সেখানে ওই দিনের যে অপারেশনগুলো হবে তার ইমেজ নিয়ে তারা স্টাডি করেন। তারপর সাড়ে ৮টার দিকে তাদেরকে ওটিতে ঢুকিয়ে দেয়া হয়। ওটিতে ঢোকার পর অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা কিন্তু বের হতে পারে না। ওটি শেষ হতে অনেক সময় দুপুরও হয়ে যায় আবার সন্ধ্যা কিংবা রাতও হয়ে যেতে পারে’।

এ কথা শুনে একবার নিউরো সার্জারির একজন শিক্ষার্থী আমাকে বললো, ‘স্যার এই পরিশ্রমের বিনিময়ে তারা অনেক ডলার পারিশ্রমিক পায়, ফলে তাদের টাকা নিয়ে আলাদা চিন্তা করতে হয় না। অন্য কোথাও কাজ করতে হয় না। পুরোটা সময় পড়ালেখায় আত্মনিয়োগ করতে পারে। আমাদের দেশেও তেমন কিছু ব্যবস্থা করে দিয়ে গেলে আমরাও তাদের মতো সার্ভিস দিতে পারতাম’।

আসলে আমার ছাত্র যেটা বলেছে সেটাও কিন্তু ঠিক। তবে আমার কাছে যে জিনিসটা মনে হয়, ডেডিকেশন হচ্ছে মূল গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। রেসিডেন্সির সময় যারা তরুণ চিকিৎসক তারা যদি ডেডিকেটেডলি রেসিডেন্সি প্রোগ্রামটা শেষ করে তাহলে তারা কোনও দিন চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়বে না; সেটা সার্জারি কিংবা অন্য যেকোনও বিষয়। রোগীদেরকে তাঁরা সুন্দরভাবে চিকিৎসা দিতে পারবে।

মেডিভয়েস: মেডিভয়েস নিয়ে আপনার মূল্যায়ন জানতে চাই। স্বাস্থ্য খাতের মুখপত্র হিসেবে পত্রিকাটি আরও কী কী ভূমিকা রাখতে পারে বলে আপনি মনে করেন?

ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া: স্বাস্থ্যখাতে উন্নয়নের জন্য ও চিকিৎসকদের সেবা খাতে আরও মনোযোগী এবং ডেডিকেটেড হওয়ার ক্ষেত্রে আমি মনে করি মেডিভয়েস গুরুত্বপূর্ণ একটি ভূমিকা রেখে যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে আরও রাখবে বলে আমার বিশ্বাস।

চিকিৎসকদের ভুলত্রুটি যে হয় না তা নয়। তবে সেগুলোকে যদি আমরা গঠনমূলকভাবে আলোচনায় নিয়ে আসি তাহলে সেটা ভালো। এছাড়া মেডিভয়েস যেহেতু শুধুমাত্র স্বাস্থ্যখাত ও চিকিৎসকদের বিষয়ে লেখে সেহেতু অন্যান্য সাধারণ পত্রিকার তুলনায় মেডিভয়েসের আলাদা একটি ভূমিকা তো অবশ্যই রয়েছে এবং সেটি যেন তারা অব্যাহত রাখে এটাই প্রত্যাশা।

যা কিছু প্রিয়:

প্রিয় রঙ: নীল

প্রিয় পোশাক: শার্ট ও প্যান্ট। তবে মাঝে মধ্যে কোনও উৎসবে পাঞ্জাবি পরতে ভালো লাগে।

প্রিয় গান: কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ‘ভালোবাসা মোরে ভিখারি করেছে’।

প্রিয় গায়ক: ভূপেন হাজারিকা

প্রিয় অঙ্কন শিল্পী: জয়নুল আবেদিন

প্রিয় খেলা: ফুটবল ও ক্রিকেট

প্রিয় চলচ্চিত্র: হারানো সুর, সাগরিকা

প্রিয় লেখক: শরৎ চন্দ্র চট্টোপাধ্যায়

প্রিয় বই: বিমল মিত্রের লেখা ‘একক দশক শতক’

প্রিয় ব্যক্তিত্ব: বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

অবসরে যা করেন: বই পড়তে ভালোবাসি। এছাড়া নিউরোসার্জারি বিভিন্ন বই পড়তে বেশি ভালো লাগে।

(সাক্ষাৎকারটি মেডিভয়েসের অক্টোবর-নভেম্বর ২০১৯ প্রিন্ট সংখ্যায় প্রকাশিত)

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত