অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

অধ্যাপক ডা. শুভাগত চৌধুরী

জন্ম সিলেটে, ১৯৪৭ সালে। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শান্তিনিকেতন পাঠভবনে এবং দেশে-বিদেশে পড়াশোনা করেছেন। অধ্যাপনা করেছেন স্নাতক ও স্নাতকোত্তর চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা অনুষদের ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।

চিকিৎসা বিষয়ে গবেষণা করেছেন লন্ডনের সেন্ট থমাস হাসপাতালে। গবেষণা, প্রশিক্ষণ গ্রহণ ও প্রবন্ধ উপস্থাপনের জন্য ভ্রমণ করেছেন ইংল্যান্ড, জার্মানি, সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, মালয়েশিয়া ও পশ্চিম আফ্রিকা। গবেষণার বিষয় প্রাণরসায়ন, পুষ্টি ও চিকিৎসা-শিক্ষাপদ্ধতি। নিউ ইয়র্ক সায়েন্স অ্যাকাডেমির নির্বাচিত সদস্য। প্রকাশিত বই প্রায় ৫০টি। চিকিৎসাবিজ্ঞান বিষয়ে দেশি-বিদেশি জার্নালে ৫০টির বেশি গবেষণা-প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। চিকিৎসাক্ষেত্রে অবদানের জন্য পেয়েছেন শেরেবাংলা জাতীয় পুরস্কার। বর্তমানে তিনি বারডেমের ল্যাবরেটরি সার্ভিস বিভাগের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন।


০৮ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:০৭ এএম

ডায়াবেটিস নিয়েও পূর্ণ জীবন উপভোগ করতে চান?

ডায়াবেটিস নিয়েও পূর্ণ জীবন উপভোগ করতে চান?

পরিবারের সবাই জানুন ডায়াবেটিস সম্বন্ধে। কেবল তাই না, জানুন এর ঝুঁকি, লক্ষণ ও উপসর্গ সম্বন্ধে। কারণ, আগাম জানা গেলে এবং চিকিৎসা হলে ডায়াবেটিস নিয়েও পূর্ণ জীবন উপভোগ করতে পারবেন।

এ দেশের মহামহিম চিকিৎসা বিজ্ঞানী প্রয়াত জাতীয় অধ্যাপক ইব্রাহিম বলেছিলেন, ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রনে প্রয়োজন তিনটি D -এর।

১. DIET

২. DRUG

৩. DISCIPLINE.

এই সুবর্ণ সত্যটি এখনো কেউ খণ্ডাতে পারেননি।

আমরা যখন জানি দুজন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে একজন জানেনই না যে তার রোগটি আছে, তাহলে অগোচরে এরা জটিলতার পথে চলেছে। অন্ধত্ব, অঙ্গচ্ছেদের মত, কিডনি রোগ, হৃদরোগ ও স্ট্রোকের মত জটিলতা তাদের জীবনকে আচ্ছন্ন করবে।

এ থেকে সহজে পরিত্রান পাওয়া যেত, যদি এই রোগ সম্বন্ধে সচেতন হওয়া যেত, লক্ষণ উপসর্গ চেনা যেত এবং প্রতিরোধের উপায় জানা যেত।

রক্তের গ্লুকোজ নিয়ন্ত্রণে না থাকার জন্য এমন হল। এছাড়া অনেকের আছে প্রি ডায়াবেটিস, এদের ডায়াবেটিস হয়নি তবে হবার জরুরি সম্ভাবনা। এই পর্যায়ে প্রতিরোধ করলে ডায়াবেটিস হওয়া অনেকটা ঠেকানো যায়, অন্তত বিলম্বিত করা যায়। অথচ ৯০ শতাংশ লোকই জানেন না যে তাদের ঝুঁকি আছে কি না।

সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল সচেতনতার ঘাটতি। অনেকেই জানেন না যে ডায়াবেটিস একটি বিপাকীয় রোগ। এ রোগে রক্তের গ্লুকোজ স্বাভাবিক সীমার উপর চলে যায়। আর এর ফলে শরীর খাদ্য থেকে আসা এনার্জি ব্যবহার করতে পারে না। ৯৫ শতাংশ হল টাইপ ২ ডায়াবেটিস। এমন হলে শরীর ইনসুলিনকে সঠিক কাজে লাগাতে পারে না। ৫ শতাংশ হল টাইপ ১ ডায়াবেটিস, এটি অটোইম্মিউন রোগ, শরীর ইনসুলিন তৈরি করতে পারে না। করলেও খুব কম।

রক্ত পরীক্ষা করলে এতে কি বোঝা গেলো তাও জানা ভাল।

কখন বলব ডায়াবেটিস?

* খালি পেটে রক্তের নমুনায় যদি রক্ত গ্লুকোজ ১২৬ মিলি গ্রাম/ ডেসি লিটারের বেশি হয়।

* আহারের ২ ঘণ্টা পর যদি হয় ২০০ মিলিগ্রাম বা এর চেয়ে বেশি।

* আরেকটি টেস্ট হল এইচবি১সি। গত ৩ মাসে রক্তে গ্লুকজের গড় মান। ৬.৫ বা এর বেশি।

* আর রক্তে গ্লুকোজ খালি পেটে যদি থাকে ১০০ -১২৫ মিলিগ্রাম আর আহারের ২ ঘণ্টা পর ১৪০-১৯৯ মিলিগ্রাম তাহলে আছে প্রি ডায়াবেটিস। এআইসি ৫.৭ -৬.৪।

এবার ডায়াবেটিস দিবসের থিম হল পরিবার আর ডায়াবেটিস। সুরক্ষা করুন পরিবার। পরিবারের সবাই এই রোগ মোকাবেলায় জড়িত হবেন, জানবেন রোগ সম্বন্ধে, চিনবেন উপসর্গ, আগাম চিকিৎসা নেবেন, আর জীবন যাপনে সবাই পরিবর্তন আনবেন। স্বাস্থ্যকর আহার, ব্যায়াম, জীবনে শৃঙ্খলা এনে সবাই পূর্ণ জীবন উপভোগ করবেন।

প্রিয় চিকিৎসক, আপনিও মেডিভয়েস অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। স্বাস্থ্যখাত উন্নয়নে আপনার সুচিন্তিত মতামত, দেশ-বিদেশে চিকিৎসকদের বিভিন্ন সাফল্য, পুরস্কার, মেডিকেল ক্যাম্পাস, ভ্রমণ, ক্যারিয়ার, পরামর্শসহ লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুন-[email protected]-এ ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।
Add
  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে