দিদার মোহাম্মদ

দিদার মোহাম্মদ

শিক্ষার্থী, শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ, কিশোরগঞ্জ


০৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০৮:১৪ পিএম
আপডেট: ০৬ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:১১ এএম

কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল মেডিকেলের পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালুর দাবি

কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল মেডিকেলের পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল চালুর দাবি

মেডিভয়েস রিপোর্ট: মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার ৮ বছরেও পূর্নাঙ্গরূপে কার্যক্রম চালু না হওয়া এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে হাসপাতাল কার্যক্রম চালুর দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের (শসৈনইমেক) শিক্ষার্থীরা।

মঙ্গলবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কিশোরগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের প্রধান গেইট সংলগ্ন সড়কে ঘণ্টাব্যাপী এ কর্মসূচিতে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজের শতাধিক ইন্টার্নি চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ অংশ নেয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে এবং জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ে বিভিন্ন দাবি-দাওয়াসহ স্মারক লিপি প্রদান করেন।

বক্তারা বলেন, পূর্ণাঙ্গভাবে এটি চালু না হওয়ায় সাধারণ ও অবহেলিত জনসাধারণগণ হাসপাতালের কাঙ্খিত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। প্রাথমিকভাবে গত ৩রা নভেম্বর এ মেডিকেল কলেজ চালুর কথা ছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ওই তারিখে তা চালু করা সম্ভব হয়নি। কেন এমন হয়েছে তারা বোধগম্য নয় বলে মানববন্ধনে উপস্থিত ইন্টার্নি চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীবৃন্দ জানান।

কিশোরগঞ্জ ইন্টার্ন চিকিৎসা পরিষদের (ইচিপ) সভাপতি ডা. আরিফুল ইসলাম বলেন, আট বছর ধরে মেডিকেল কলেজ হসপিটাল চালু হবে হবে বলে বাহানা চলছে। গত আগষ্ট মাসে আউটডোর চালু হয়েছে। কিন্তু আসল কথা হলো একটা হসপিটালের আউটডোর কিছুই না। এটা একটা শুধুমাত্র সান্ত্বনার মতো। আমরা অচিরেই মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পূর্নাঙ্গ ভাবে চালু চাই।

শসৈনইমেকের সপ্তম ব্যাচের ছাত্র আসিফ মুশফিক বলেন, আমাদের সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলীগণ অনেক প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও কষ্ট করে সেবা চালাচ্ছে ছোট্ট ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে, যা বর্তমানে এ বিশাল জনগোষ্ঠীর তুলনায় তেমন ফলপ্রসূ নয়। এতে করে অধিকার হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষ আর দোষ হচ্ছে ডাক্তারদের। ভুক্তভোগী হচ্ছেন কিশোরগঞ্জের আপামর জনসাধারণ এবং অধিকার বঞ্চিত হচ্ছি আমরা ছাত্রছাত্রীরা।

তিনি আরও বলেন, সাবেক স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী এসে কথা দিলেন, স্থানীয় সংসদ সদস্য এসে কথা দিলেন, এরপর কেটে গেলো ১১ টি মাস। কথা দিয়েছিলেন ১০০ দিনের মধ্যে চালু করবেন এ হাসপাতাল, ইনডোর চালু তো দূরে থাক, আউটডোরের কার্যক্রমই চলছে খুবই নাজুক দশায়। ডাক্তার আছে স্টাফ নাই, রোগী আছে শৃঙখলা নাই, এর দায় কার? প্রশাসন এবং মন্ত্রণালয় কেউই এর দায় এড়াতে পারে না। কাজেই অনতিবিলম্বে যদি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি সম্পূর্ণভাবে চালু করা না হয় তবে অচিরেই ইন্টার্ণ চিকিৎসকসহ সকল সাধারণ ছাত্র-ছাত্রীরা কঠোর থেকে আরো কঠোরতম সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হবো।

উল্লেখ্য, আয়তনের দিক থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজটি বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম। ৫০০-শয্যার এ হাসপাতালটিতে আধুনিক ও উন্নতমানের চিকিৎসার জন্য অবকাঠামোগত সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ২০১২ সাল থেকে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজে প্রথমবর্ষে এমবিবিএস ক্লাসে ছাত্র-ছাত্রী ভর্তি করা হয়। কিন্তু দীর্ঘদিনে যাবত নানা জটিলতার কারণে হাসপাতালটি চালু করা হয়নি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত