০৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০৪:০৫ পিএম
আপডেট: ০৫ নভেম্বর, ২০১৯ ০৪:০৫ পিএম

‘রোগীর প্রতি সহমর্মিতা ও ভাল মানুষ হওয়া চিকিৎসকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’ 

‘রোগীর প্রতি সহমর্মিতা ও ভাল মানুষ হওয়া চিকিৎসকের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’ 

জাতীয় অধ্যাপক ডা. এম আর খান ছিলেন একজন কিংবদন্তি চিকিৎসক। বাংলাদেশের শিশু চিকিৎসা ক্ষেত্রে তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি জীবনের প্রতিটি মুহূর্ত বিনিয়োগ করেন মানবতার কল্যাণে। শিক্ষা ও দুঃস্থ নারীদের সহযোগিতায় নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত ‘ডা. এম আর খান-আনোয়ারা খান ট্রাস্ট’ ওয়াকফ করে দেন। এই মহান ব্যক্তির জীবনের গল্প ও ভালো লাগা-স্বপ্নের কথাগুলো শুনতে জীবদ্দশায় তার মুখোমুখি হয়েছিল মেডিভয়েস। সাক্ষাৎকারের চুম্বক অংশ প্রিয় পাঠকদের জন্য তুলে ধরা হলো। সাক্ষাৎকার গ্রহণে: ডা. তুহিন মুশফিক, মাহমুদ আব্দুল্লাহ, রোকন শাহ। 

মেডিভয়েস: মেডিভয়েসের পক্ষ থেকে আপনাকে শুভেচ্ছা। স্যার, আপনার বিস্তৃত জীবন সম্পর্কে সংক্ষেপে কিছু বলুন।

ডা. এম আর খান: আমি জন্ম গ্রহণ করেছি তৎকালিন সাতক্ষীরা মিউনিসিপ্যালিটির রসুলপুর গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে। আমার পিতা আলহাজ্জ আব্দুল বারি খান ছিলেন একজন নিবেদিত প্রাণ সমাজসেবক। মাতা জায়েরা খানম একজন বিদুষী নারী। বিখ্যাত সাংবাদিক দৈনিক আজাদের সম্পাদক মাওলানা আকরাম খাঁ আমার মাতামহ। রসুলপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পাস করে সাতক্ষীরার প্রাণনাথ থেকে ১৯৪৩ সালে মেট্রিকুলেশন পাস করি এবং কলকাতা প্রেসিডেন্সি কলেজে ভর্তি হই। সেখানে আমি ‘মুহসিন স্কলারশিপ’ পাই। লেখাপড়ার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমেও আমার বেশ দখল ছিল। রসুলপুর স্কুল ফুটবল দলের অধিনায়ক হিসেবে ১৩টি ট্রফি পেয়েছিলাম আমি।

১৯৪৬ সালে কলকাতা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হই এবং ১৯৫২ সালে এমবিবিএস পাস করি। এরপর সাতক্ষীরায় ফিরে প্র্যাকটিস শুরু করি। ১৯৫৪ সালে আনোয়ারা বেগমের সঙ্গে আমি বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হই। ১৯৫৬ সালে আমি স্বপরিবারে উচ্চশিক্ষার্থে ইংল্যান্ড চলে যাই। ১৯৫৭-১৯৬২ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টার কেন্ট এবং এডিনবার্গ গ্রুপ হাসপাতালে যথাক্রমে সহকারী রেজিস্ট্রার ও রেজিস্ট্রার হিসেবে দায়িত্ব পালন করি। সে সময় mgq DTM&H, DCH এবং MRCP ডিগ্রি অর্জন করি। ১৯৬৩ সালে মাতৃভূমির টানে ফিরে আসি। একই বছর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করি এবং ১৯৬৪ সালে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বদলি হই। ১৯৬৯ সালে আবার ফিরে আসি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। ১৯৭০ সালে Professor of Paediatrics পদে উন্নীত হই। পূর্ব পাকিস্তানে আমিই প্রথম শিশু রোগ বিভাগের অধ্যাপক হিসেবে নিয়োগ পাই। 

১৯৭১ সালে আমি তৎকালিন ইনস্টিটিউট অব পোস্ট গ্রাজুয়েট মেডিসিন অ্যান্ড রিসার্চ (IPGMR) বর্তমান বিএসএমএমইউতে অধ্যাপক হিসেবে যোগদান করি। ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠানটির যুগ্ম পরিচালকের দায়িত্ব পাই। ১৯৭৮ সালের নভেম্বরে ঢাকা শিশু হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে যোগদান করি। ১৯৮৮ সালে অবসরে যাই।  

মেডিভয়েস: আপনার জীবনের কোন বিশেষ দিকগুলো আপনাকে আজকের এই ‘জাতীয় অধ্যাপক ডা.এম আর খান’ এ পরিণত করেছে?

ডা. এম আর খান: লোকে যা বলে সেটা হলো—আমি নাকি কোনো কিছুতেই রেগে যাই না। তাছাড়া সবার সঙ্গে ভাল ব্যবহার করার চেষ্টা করি। এক্ষেত্রে আমি আল্লাহর রাসুলের (সা.) আদর্শ অনুসরণ করি। তিনি কখনই কারো সঙ্গে রেগে যেতেন না।

মেডিভয়েস: স্যার, যারা আপনার মত হতে চায়, তাদের কি পরামর্শ দেবেন?

ডা. এম আর খান: শুধু আমার মত কেন; চাইলে আমার চেয়েও বড় অবস্থানে পৌঁছানো সম্ভব। এক্ষেত্রে লক্ষ্য স্থির করে তাদেরকে একাগ্রচিত্তে কাজ করে যেতে হবে। আর চিকিৎসা পেশায় যে দুটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ তার মধ্যে একটি হল রোগীর প্রতি সহমর্মিতা। অন্যটি ভাল মানুষ হওয়া। আপনার কাছে আসা রোগীকে নিজের স্বজনের মত আপন মনে করতে পারলে এমনিতেই সে আন্তরিক চিকিৎসা পাবে। আর ভাল চিকিৎসক হওয়ার আগে ভাল মানুষ হওয়াটাও জরুরি।

মেডিভয়েস: সম্প্রতি চিকিৎসকদের সাথে সাধারণ মানুষের দূরত্ব বাড়ছে; পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধও কমে যাচ্ছে অনেকটা। আপনি ব্যাপারটিকে কিভাবে দেখছেন?

ডা. এম আর খান: প্রথমে একটা গল্প বলি। আমি তখন কলকাতা মেডিকেল কলেজে পড়ি। মাঝে মাঝে সাতক্ষীরা আসতাম। আমার গ্রামের মসজিদের ইমাম সাহেব একদিন আমাকে বললেন, ‘আপনার প্রতি আমার হিংসা হয়। আপনি এমন পেশায় আছেন যেখানে টাকাও মেলে দোয়াও মেলে!’ আমি হাসতে হাসতে বললাম, ‘মাঝে মাঝে কপালে মারও জোটে—তা তো বললেন না!’আসলেই বর্তমানে পরিস্থিতির অনেক অবনতি ঘটেছে। কখনও কখনও মারও খেতে হয়, জেলেও যেতে হয়। আমাদের সেবার মনোভাব বৃদ্ধি করা উচিৎ। মনে রাখতে হবে, আমরা একটি মহান পেশায় নিয়োজিত। তাই সেবাকে প্রথমে রাখতে হবে পরে অর্থ উপার্জন। অন্যদের দেখাদেখি রাতারাতি বাড়ি গাড়ির মালিক বনে যাওয়ার আকাঙ্ক্ষা কোনোভাবেই কাম্য নয়। ডা. এম আর খানের এই অবস্থানে আসতে পঞ্চাশ বছর সময় লেগেছে। সুতরাং ধৈর্য্য তো একটু ধরতেই হবে।

মেডিভয়েস: ইদানিং মিডিয়ার সাথে চিকিৎসকদের কিছুটা দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। এ ব্যাপারে আপনার মতামত কি?

ডা. এম আর খান: মিডিয়ার সঙ্গে দূরত্ব আমার সৃষ্টি হয়নি। কারণ তারা যখনই আমার কাছে এসেছেন, কিছু জানতে চেয়েছেন; আমি তাদেরকে বুঝিয়ে বলার চেষ্টা করেছি। তাদের অনেকের সাথেই আমার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক। বর্তমানে যে দূরত্বের সৃষ্টি হচ্ছে—তার অন্যতম কারণ ‘কমিউনিকেশন গ্যাপ’। তারা যা বলতে চান আমরা তা বুঝতে পারি না। আবার আমাদের প্রত্যাশাও তাদের বোধগম্য নয়। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও যোগাযোগের মাধ্যমে এই দূরত্ব কমিয়ে আনা সম্ভব।

মেডিভয়েস: রোগীদের প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি কেমন হওয়া উচিত?

ডা. এম আর খান: ডা. মোহাম্মদ ইব্রাহীম রোগী আসলে বলতেন, ‘আমি আপনার কাছে কৃতজ্ঞ যে আপনি আমার কাছে এসেছেন এবং আমি আল্লাহর কাছেও কৃতজ্ঞ যে তিনি আমাকে আপনার সেবা করার সুযোগ দিয়েছেন।’ আমাদেরও এই দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করা উচিত। একজন রোগীর টাকা নেই বলে সে আমার চিকিৎসা পাবে না—এমনটি হওয়া উচিত নয়। কেউ কেউ হয়তো আপনাকে টাকা দিতে পারবে না। কিন্তু দোয়া তো আপনি ঠিকই পাবেন। এই পেশার এটাই একটা মাহাত্ম।

মেডিভয়েস: রোগীদের সঙ্গে সংঘটিত অপ্রীতিকর ঘটনাগুলো এড়াতে কি করা যেতে পারে?

ডা. এম আর খান: যে সব রোগী চিকিৎসায় ভাল হয়ে যায় তাদের ব্যাপারে কোনো কথা উঠে না। কথা উঠে তাদের ব্যাপারেই যে সব রোগী মারা যায়। আমরা অনেক সময়ই রোগীর স্বজনদের কাছে তার বাস্তব অবস্থা তুলে ধরি না। এটা ঠিক না। স্বজনদের সঙ্গে বসে রোগীর বর্তমান অবস্থা ও তাকে কি কি চিকিৎসা দেয়া যেতে পারে এবং ইতিবাচক ও নেতিবাচক দু’ধরনের সম্ভাব্যতার কথাই তুলে ধরতে হবে। একই সাথে এটাও তুলে ধরতে  হবে যে, আমরা চিকিৎসা দেয়ার ক্ষেত্রে আন্তরিকতার ত্রুটি করবো না। তবে জীবন-মৃত্যুর মালিক আল্লাহ। তাই সবকিছুর ব্যাপারেই আল্লাহর উপর ভরসা রাখতে হবে।

মেডিভয়েস: দেশের প্রচলিত মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে কি করণীয়?

ডা. এম আর খান: মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে—ভাল চিকিৎসক তৈরি করা। আর ভাল চিকিৎসক তৈরিতে প্রয়োজন ভাল শিক্ষক। আমি কলকাতা মেডিকেল কলেজে অধ্যয়ন করার সময় অনেক ভালো শিক্ষকের সংস্পর্শে আসতে পেরেছি। তারা খুব আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও দক্ষতার সঙ্গে আমাদের শিখিয়েছেন। তাই আমরা এতো দূর আসতে পেরেছি। একটি কথা আছে ‘গুরুর গুণে শিষ্য বাড়ে, পানির গুণে মাছ!’

মেডিভয়েস: আপনি পাশ্চাত্যে কাজ করেছেন। স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় তাদের সঙ্গে আমাদের পার্থক্যটা কোথায়?

ডা. এম আর খান: সেখানে ডাক্তারের তুলনায় রোগীর সংখ্যা খুবই কম। তারা দিনে সর্বোচ্চ ১০-১২ জন রোগী দেখেন। তাই সবাইকেই যথেষ্ট সময় নিয়ে দেখতে পারেন। তাছাড়া রোগীর পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কাউন্সেলিং করার যথেষ্ট সুযোগ থাকে। তাই তাদের চিকিৎসক-রোগী সম্পর্ক অনেক ভাল। অন্যদিকে আমাদের দেশে রোগীর তুলনায় ডাক্তার অনেক কম। এত বেশী রোগী দেখতে হলে, কারো সঙ্গে বিস্তারিত কথা বলার সুযোগ থাকে না। তাই সমালোচনাও সহ্য করতে হয়। কম রোগী দেখলেও যারা দেখাতে পারেননি তারা অভিযোগ করেন। তাই কষ্ট হলেও বাধ্য হয়েই সবাইকে দেখতে হয়।

মেডিভয়েস: স্যার আপনার জীবনের কোনো স্মরণীয় স্মৃতি?

ডা. এম আর খান: স্মরণীয় স্মৃতির মধ্যে সবচেয়ে বেদনার হল—আমার মা-বাবার মৃত্যু। হাজার চেষ্টা করেও তাদেরকে আমি বাঁচাতে পারিনি। আর আনন্দের স্মৃতি হল—আমাদের একমাত্র মেয়ে দৌলুতুন নিসা (ম্যান্ডি) যখন কলকাতাতে জন্মগ্রহণ করলো। তখন আমি সবচেয়ে খুশি হয়েছিলাম। আর কোনো মৃত্যুপথযাত্রী শিশু যদি আমার চিকিৎসায় বেঁচে যায় আমার খুব ভাল লাগে। এমন ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। প্রতিটি ঘটনাই স্মরণীয়।

মেডিভয়েস: আমরা জানি, কবিতার প্রতি আপনার বিশেষ অনুরাগ আছে। এর প্রেক্ষাপট কি জানতে পারি?

ডা. এম আর খান: কবিতা খুব একটা লেখি না। মাঝে মাঝে বিভিন্ন উপলক্ষ্যে কিছু কিছু ছড়া লিখি, আবৃত্তি করি। আমার মেডিকেল পূর্ববর্তী শিক্ষাজীবন বেশ সমৃদ্ধ ছিল। সাতক্ষীরার সেরা শিক্ষক গিরীন্দ্রনাথ ঘোষ পাঠ্যসূচীর বাইরেও William Cobbett এর Advice to Youngman,  Chesterfield's Letter to his son প্রভৃতির মত বিখ্যাত বইগুলোও পড়িয়েছেন আমাদেরকে। কলকাতার বিখ্যাত কবি প্রমথনাথ বিশী, ইংরেজীর পন্ডিত K N Sen আমার সরাসরি শিক্ষক ছিলেন। লেখক মনোজ বসাক, কর্নেল সলিল চৌধুরী ও সঙ্গীত শিল্পী হেমন্তসহ কলকাতার অনেক বড় বড় কবি সাহিত্যিকের সঙ্গে আমার উঠাবসা ছিল। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, আব্বাস উদ্দীন আহমেদ আমার নানা মাওলানা আকরাম খাঁর দৈনিক আজাদের অফিসে আসতেন। তাদের সংস্পর্শ আমাকে শিল্প সাহিত্যের দিকে আগ্রহী করে তোলে।

মেডিভয়েস: স্যার, আমরা জানি আপনি বিভিন্ন সামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত। এ সম্পর্কে আমাদের কিছু বলুন।

ডা. এম আর খান: আমি অবসর নেয়ার বেশ কয়েক বছর আগেই কয়েকজনকে নিয়ে শিশু স্বাস্থ্য ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন শুরু করি। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটি পাঁচটি জেলায় কাজ করছে। পরে দেখলাম, শিশুদের সঙ্গে মায়েদের এবং পরিবারের শিক্ষা ও অর্থনীতি জড়িত। তাই আমরা একটি ক্ষুদ্র ঋণ কর্মসূচি শুরু করি। বর্তমানে এর মাধ্যমে প্রায় ছয় হাজার পরিবারের ত্রিশ হাজার সদস্য সুবিধা পাচ্ছে। দুঃস্থ নারী, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতা করতে আমরা ‘ডা. এম আর খান-আনোয়ারা খান ট্রাস্ট’ প্রতিষ্ঠা করি। আমার সারাজীবনের উপার্জন এই প্রতিষ্ঠানের জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছি। আমরা কয়েকজন মিলে উত্তরায় একটি মহিলা মেডিকেল কলেজ, সেন্ট্রাল হসপিটাল এবং নিবেদিতা চিলড্রেন হসপিটাল এন্ড রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করেছি। সাতক্ষীরায় আমি নিজের জমিতে একটি ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট, সাতক্ষীরা শিশু হাসপাতাল, যশোর শিশু হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করেছি। এছাড়াও একটি আর্সেনিক নিরসন কর্মসূচি ও দরিদ্র শিশুদের জন্য সান্ধ্যকালীন একটি স্কুলও রয়েছে। আর এটা দেখে আমার খুব ভাল লেগেছে যে, আমাকে অনুসরণ করে আমার প্রিয় ছাত্র অধ্যাপক ডা. এখলাসুর রহমান, অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লাসহ আরো অনেকেই এ ধরনের সামাজিক কর্মকাণ্ড শুরু করেছে।

মেডিভয়েস: স্যার আপনার বয়স নব্বই ছুঁইছুঁই। এই বয়সেও এতটা কর্মব্যস্ত তারুণ্যময় জীবন কিভাবে অতিবাহিত করছেন?

ডা. এম আর খান: আমার সবচেয়ে আনন্দের কাজ হচ্ছে অসুস্থ শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো। তাই এই বয়সেও এই অসাধারণ আনন্দ থেকে আমি বঞ্চিত হতে চাই না। অগণিত মানুষের দোয়া ভালবাসাই আমার কাজ করার অনুপ্রেরণা।

মেডিভয়েস: স্যার, পাঠকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলুন।

ডা. এম আর খান: আমি যেটা পছন্দ করি তা হল আত্ম-প্রশংসা ও আত্ম-প্রচারণামুক্ত একটি সাধারণ জীবন। আর কোনো মানুষের উপকার যদি কখনো নাও করতে পারি, আমার দ্বারা কারো যেন কোনো ক্ষতি না হয়। এই বোধটুকু আমাদের সবার থাকা উচিত।

মেডিভয়েস: স্যার, বাংলাদেশের মেডিকেল অঙ্গনের অন্যতম মুখপত্র হিসেবে মেডিভয়েসকে আপনি কিভাবে মূল্যায়ন করছেন?

ডা. এম আর খান: বর্তমানে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলোর সঙ্গে স্বাস্থ্যখাতের যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়েছে, তা কমিয়ে আনতে আমাদের একটি যোগসূত্র প্রয়োজন। আশা করি, মেডিভয়েস সে দায়িত্ব পালনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করবে। আমি মেডিভয়েসের উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করছি।

সাক্ষারকারটি ২০১৬ সালে মেডিভয়েসের ডিসেম্বর-জানুয়ারি সংখ্যায় প্রকাশিত

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত