০৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:১৮ পিএম
আপডেট: ০৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:১৯ পিএম

মাতৃমৃত্যু কমাতে হলে সিজারের সংখ্যাও কমাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মাতৃমৃত্যু কমাতে হলে সিজারের সংখ্যাও কমাতে হবে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে মাতৃ মৃত্যুহার বাড়ার কারণ হিসেবে অতিরিক্ত সিজারকে দায়ি করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। এজন্য বেসরকারি হাসপাতালেকে সরাসরি দায়ি করেছেন তিনি।

তিনি বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুসারে দেশে এখনো সরকারি হাসপাতালে সিজারের পরিমাণ বেশি। যদিও তা কমানো হয়েছে এবং আরো কমানো হবে। কিন্তু বেসরকারি হাসপাতালে এখনো ৮০ শতাংশ শিশুর জন্ম সিজারের মাধ্যমে হচ্ছে। মাতৃমৃত্যুর হার কমাতে সিজারের সংখ্যাকে কমাতে হবে। কেননা এ কারণেই তা বাড়ছে।

সোমবার (০৪ নভেম্বর) রাজধানীর একটি অভিজাত হোটেলে নিরাপদ মাতৃত্ব দিবস উপলক্ষে ‘জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য কৌশলপত্র ২০১৯-২০৩০’ ও এসওপি’র মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাতৃমৃত্যু রোধে ও উন্নত মাতৃস্বাস্থ্য সেবার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমএনসিঅ্যান্ডএএইচ প্রোগ্রামের ব্যবস্থাপনায় ইউনিসেফ, ইউএনএফপিএ, ডব্লিউএইচও, ইউএসএআইডি এবং সেভ দ্যা চিলড্রেনের সার্বিক সহযোগীতায় এ কৌশলপত্র প্রণয়ন করা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, স্বাস্থসেবায় আমাদের এতোসব অর্জনের পরও কিছু অপ্রাপ্তি রয়েছে।  স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হয়েছে ঠিকই, তবে প্রাইমারি লেভেলের না। আমাদের শিশুর মৃত্যুর হার যতোটা কমিয়ে আনার কথা, আমরা এখনও তা পারিনি। মাতৃমৃত্যুর হার আমরা আশানুরূপ কমিয়ে আনতে পারিনি। আমরা যদি সবাই মিলে কাজ করি, তাহলে অবশ্যই আমরা গ্রামীন পর্যায়েও স্বাস্থ্যসেবার প্রত্যাশিত উন্নয়ন করতে পারবো।

প্রসূতি মায়েরা অপুষ্টিতে ভোগেন বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এজন্য শিশুরা জন্মের সময় কম ওজন নিয়ে জন্ম নেয়। এ দিকটায় আমাদের বিশেষ নজর দিতে হবে। 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল কালাম আজাদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য দেন কমিউনিটি ক্লিনিক সহায়তা ট্রাস্টের সভাপতি অধ্যাপক সৈয়দ মোদাচ্ছের আলী, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলাম, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কাজী এ কে এম মহিউল ইসলাম, বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ডা. মো. এহতেশামুল হক চৌধুরী প্রমুখ।

এ সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রী 'জাতীয় মাতৃস্বাস্থ্য কৌশলপত্র ২০১৯-২০৩০' ও এসওপি'র মোড়ক উন্মোচন করেন। তাছাড়া মা ও শিশু কল্যাণ এর বিশেষ অবদান রাখায় দেশের ৬২টি মেডিকেল কলেজ, ২৫০ শয্যার হাসপাতাল, ১০০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতাল, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, মা ও শিশু কল্যাণ কেন্দ্র এবং ইউনিয়ন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কেন্দ্রকে নিরাপদ মাতৃত্ব পুরস্কার দেন তিনি।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত