০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ১০:৫৯ এএম
আপডেট: ০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০৩:৩২ পিএম

ওটি বয় ওমর ফারুকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করলো বিএমডিসি 

ওটি বয় ওমর ফারুকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করলো বিএমডিসি 

মো. মনির উদ্দিন: ভুয়া এমবিবিএস সনদের ভিত্তিতে সংগৃহিত ওটি বয় ওমর ফারুক শেখের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করেছে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি)। 

গতকাল শনিবার (২ নভেম্বর) বিএমডিসির এক্সিকিউটিভ কমিটির মিটিংয়ে এমন সিদ্ধান্ত হয়েছে। এখন প্রয়োজনীয় কাগজ-পত্র প্রস্তুত করার পর তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সে অনুযায়ী আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করবে। 

জানতে চাইলে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘এক্সিকিউটিভ কমিটির মিটিংয়ে ওমর ফারুকের রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা হয়েছে। কাগজ-পত্র প্রস্তুত হবে। এ নিয়ে আজ-কালের মধ্যে বিএমডিসির ওয়েবসাইটে একটি নোটিস দেওয়া হবে। পত্রিকায় এ সংক্রান্ত একটি বিজ্ঞাপনও পাঠানো হবে। পাশাপাশি এফআইআর করার জন্য আমাদের আইনজীবীর কাছে ফাইলটা দেওয়া হবে।’

তার বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিএমডিসির মেজিস্ট্রেসি ক্ষমতা নাই। রেজিস্ট্রেশন বাতিলের পর সংশ্লিষ্ট ভুয়া চিকিৎসককে গ্রেপ্তারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হবে। নিম্ন আদালত থেকে এফআইআরের ফাইল অনুযায়ী কাজ শুরু হবে।’

এ ব্যাপারে গণমাধ্যমের সহযোগিতার প্রত্যাশা করেন ডা. মো. লিয়াকত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যেন তাকে গ্রেপ্তার করতে পারে—সেজন্য এটি প্রচার ও প্রকাশে এগিয়ে আসুন। এ কাজে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী এরই মধ্যে যথেষ্ট দক্ষতা দেখিয়েছে। গণমাধ্যমের সহযোগিতা পেলে পরবর্তীতে এ ধরণের পদক্ষেপ নিতে আমাদের জন্য সহজ হবে।’

এ ধরনের পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই। বিভিন্ন পদক্ষেপের কারণে এ বিষয়টি আরও জোরদার হচ্ছে। ১০/১৫ বছর আগে বিদেশ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রিধারীদের ভেরিফিকেশনের পদ্ধতি ছিল না। এই সুযোগটাই ভুয়া চিকিৎসকরা নিয়েছে।’

বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার অভিযোগ করেন, বিসিএমডিসি নামে একটি প্রতিষ্ঠান ভুয়া সার্টিফিকের ভিত্তিতে নন-ডক্টরসদের প্রাইভেটলি এমবিবিএসের রেজিস্ট্রেশন দেয়।  
    
প্রসঙ্গত, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ উপজেলার ওমর ফারুক ওটি বয় হিসেবে চিকিৎসকের সঙ্গে অপারেশনে সহযোগিতা করতেন। দীর্ঘদিন এ কাজে যুক্ত থাকার সুবাদে একসময় নিজেই সার্জন বনে যান৷ গ্রামে হাসপাতাল প্রতিষ্ঠা করে রোগী দেখা, অপারেশন করা শুরু করেন৷ গণমাধ্যমের কল্যাণে বিষয়টি জানাজানি হলে প্রশাসনের অভিযানে থমকে দাঁড়ায় তার অপকর্ম। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে দফারফা করেন৷ আর প্রতারণার পথে বাধা-প্রতিবন্ধকতা স্থায়ীভাবে মুছে দিতে ভারত থেকে নিয়ে আসেন ভুয়া এমবিবিএস সনদ। এবং সেই সনদের ভিত্তিতে কৌশলে বাংলাদেশ মেডিকেল এন্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) রেজিস্ট্রেশনও সংগ্রহ করেন তিনি৷

অপারেশন করতে গিয়ে হাতুড়ে এ ডাক্তারের কাছে বিভিন্ন সময় রোগী মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। তবে স্থানীয় প্রভাবশালীদের মাধ্যমে অর্থ লেনদেন করে বারবারই পার পেয়ে যান তিনি৷ প্রতারণা অব্যাহত রাখার সুবিধার্থে করেন হাসপাতালের নাম পরিবর্তন৷ শুরুতে ‘পল্লী মঙ্গল হাসপাতাল’ নামে শুরু করেন, যা পরবর্তীতে পাল্টে রাখেন ‘স্কয়ার হাসপাতাল’ এবং সবশেষ ‘বায়েজীদ মেমোরিয়াল হাসপাতাল’৷ এছাড়াও মতলব, কচুয়া ও সাচারের বেশ কিছু ক্লিনিকে তিনি অনকলে অপারেশন করেন৷

তার এসব দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন সময় একাধিক জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়৷

ওমর ফারুকের রেজিস্ট্রেশন নম্বর বহাল থাকার বিষয়ে জানতে চাইলে বিএমডিসির ডেপুটি রেজিস্ট্রার ডা. মো. লিয়াকত হোসেন মেডিভয়েসকে বলেন, ‘তার বিষয়ে আমরা তদন্ত চালিয়েছিলাম। নেগেটিভ রিপোর্ট এসেছে। মনি পাল ইন্ডিয়া থেকে সার্টিফিকেট দিয়েছে—এটা ও না। ভুয়া সার্টিফিকেট ছিল, এটা আমরা আগে ধরতে পারিনি। এটা এখন পুরোপুরি পরিষ্কার হয়েছে।’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত