০২ নভেম্বর, ২০১৯ ০৭:১৮ পিএম

দেশে অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

দেশে অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

মেডিভয়েস রিপোর্ট: দেশে অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক স্বপন।  বলেছেন, দেশে অসংক্রামক রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমাদের ৬৫ ভাগ মানুষ এই অসংক্রামক রোগে মৃত্যুবরণ করছে। এর মধ্যে চোখের সমস্যা, কিডনির সমস্যা, ক্যান্সার, ডায়াবেটিস অন্যতম। এসব কারণে প্রতিনিয়ত মানুষ মারা যাচ্ছে। আমাদেরকে এসব বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করেতে হবে। 

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী কিছুদিন আগে ৮টি জেলায় ৮টি ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মাণের অনুমোদন করে দিয়েছেন। অল্পদিনের মধ্যেই এসব ক্যান্সার হাসপাতাল নির্মিত হবে। পাশাপাশি অল্পদিনের মধ্যেই ৮টি বিভাগে ৮টি কিডনি হাসপাতাল নির্মিত হবে এমনকি প্রতিটি জেলায় ১০ বেডের কিডনি ডায়লোলিস ইউনিট আমরা স্থাপন করবো।

শনিবার (২ নভেম্বর) জাতীয় স্বেচ্ছায় রক্তদান ও মরণোত্তর চক্ষুদান দিবস-২০১৯ এর উদ্বোধন উপলক্ষে দুপুরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের এ ব্লকের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউটে চার মাসেও সিরিয়াল পাওয়া যায় না উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ক্যান্সারের জন্য জেলাগুলোতে ভালো কোনো চিকিৎসা নেই। ঢাকায় একটি জাতীয় ক্যান্সার ইনস্টিটিউট থাকলেও এটাতে সিরিয়াল নিতে ৪ মাস সময় লাগে। তবুও অনেক সময় তা পাওয়া সম্ভব হয় না। এসব বিষয় নিয়ে আমরা চিন্তাভাবনা করে পদক্ষেপ নিচ্ছি। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি বলেন, দেশে প্রতিদিনই নানা জায়গায় নানা দুর্ঘটনায় জরুরি রক্তের প্রয়োজন হয়। সময়মত রক্তের অভাবে অনেক মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন। এক্ষেত্রে সন্ধানী অনেক কাজ করছে। তবে সরকারিভাবেও এবিষয়টি গুরুত্বসহ বিবেচনা না করার কোন উপায় নেই। কাজেই খুব দ্রুতই দেশে একটি অত্যাধুনিক ও উন্নতমানের ব্লাডব্যাংক সেন্টার স্থাপন করা হবে।

তিনি মরণোত্তর চক্ষুদানের গুরুত্ব তুলে ধরে আরও বলেন, বিশ্বে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ২৯ কোটি। এক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে বর্তমানে অন্ধ মানুষের সংখ্যা প্রায় ১৪ লাখ। এদের মধ্যে শুধু কর্ণিয়াজনিত অন্ধত্ববরণ করছেন প্রায় ৫ লাখ মানুষ। প্রতি বছর দেশের ৪০ হাজার মানুষ অন্ধ হচ্ছেন। একজন মানুষের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গগুলোর মধ্যে চোখ সবচেয়ে বেশি জরুরি একটি সম্পদ। মানুষ যখন মারা যায় তখন চোখের মত এত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঙ্গ যাতে নষ্ট না হয়, আরেকজন মানুষের দৃষ্টি ফিরে পায় এ কারণে সবাইকে মরণোত্তর চক্ষুদানে এগিয়ে আসতে হবে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব আসাদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ডা. দীপু মনি এমপি।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির ভাইস চেয়ারম্যান এবং সন্ধানীর উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবে মিল্লাত এমপি, স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব জনাব শেখ ইউসুফ হারুন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ প্রমুখ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত