০১ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:৪০ পিএম

বরিশালে চিকিৎসকের পাঁচ ভাগের তিন ভাগ পদই ফাঁকা!

বরিশালে চিকিৎসকের পাঁচ ভাগের তিন ভাগ পদই ফাঁকা!

মেডিভয়েস রিপোর্ট: চিকিৎসক সংকটের ফলে বরিশাল বিভাগের ছয়টি জেলা ও ৪০টি উপজেলায় স্বাস্থ্যসেবা মুখ থুবড়ে পড়ার উপক্রম হয়েছে। বিভাগে চিকিৎসকের অনুমোদিত পদের সংখ্যা ১ হাজার ১৩১টি হলেও এর মধ্যে কর্মরত চিকিৎসক আছেন মাত্র ৪০৬ জন। অর্থাৎ মোট চিকিৎসকের পাঁচ ভাগের তিন ভাগ পদই ফাঁকা।

ফলে চিকিৎসাসেবার অবস্থা এখন বেহাল। হাসপাতালগুলো বহির্বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দীর্ঘ সারি। কয়েক ঘণ্টা অপেক্ষার পর তবেই মিলছে সেবা।

বিভাগীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাদে ছয় জেলায় সরকারি হাসপাতাল রয়েছে ৩৮২টি। এর মধ্যে ছয়টি জেনারেল হাসপাতাল, ৪০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৭০টি উপস্বাস্থ্যকেন্দ্র ও ২৬৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র। এসব হাসপাতালে চিকিৎসকের পদ ১ হাজার ১৩১টি। কর্মরত রয়েছেন ৪০৬ জন, শূন্য রয়েছে ৭২৫টি পদ। বরিশাল বিভাগে জনসংখ্যা ১ কোটির কাছাকাছি। সে হিসাবে প্রতি ২০ হাজার মানুষের জন্য আছেন মাত্র একজন চিকিৎসক। চিকিৎসাসেবার সবচেয়ে খারাপ অবস্থা উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, বিভাগে চিকিৎসক–সংকট নিরসনে কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে এসব হাসপাতালে কর্মরত অল্পসংখ্যক চিকিৎসককে লাখ লাখ রোগীকে সেবা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জেলাভিত্তিক চিত্রে দেখা যায়, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাদে বরিশাল জেলায় চিকিৎসকের পদ আছে ২৫৮টি। এর মধ্যে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১৩ জন। পটুয়াখালীতে ২২৩ জন চিকিৎসক পদের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৮৪ জন। ভোলায় ২০৯ জনের মধ্যে আছেন ৭২ জন। পিরোজপুরে ১৭২ জনের স্থলে আছেন ৬১ জন। বরগুনায় ১৬৫ জনের মধ্যে আছেন ৩৬ জন এবং ঝালকাঠিতে ১০৪টি পদের মধ্যে আছেন ৪০ জন।

বরিশালে শূন্য আছে ৫৭ শতাংশ চিকিৎসকের পদ, পটুয়াখালীতে শূন্য ৬৩ শতাংশ, ভোলায় শূন্য ৬৬ শতাংশ, পিরোজপুরে শূন্য ৬৫ শতাংশ, বরগুনায় শূন্য ৭৯ শতাংশ এবং ঝালকাঠি জেলায় শূন্য ৬২ শতাংশ চিকিৎসক পদ।

একইভাবে বরিশাল বিভাগের প্রধান সরকারি চিকিৎসালয় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে এখন ৫৬ শতাংশ চিকিৎসকের পদ শূন্য পড়ে আছে। এই হাসপাতালে ২২৪ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছেন মাত্র ৯৯ জন। তাঁরাও আবার তিন পালায় ভাগ হয়ে দায়িত্ব পালন করেন। প্রতিদিন অন্তত ৫ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসে এই হাসপাতালে, যা সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে কর্মরত চিকিৎসকদের।

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মো. ইউনুস আলী বলেন, হাসপাতালটি ১ হাজার শয্যায় উন্নীত করা হলেও সাত বছর ধরে ৫০০ শয্যার জনবল–কাঠামোতেই চলছে। চিকিৎসক–সংকট প্রকট আকার ধারণ করেছে।

এদিকে, চিকিৎসক–সংকট থাকার বিষয়টি স্বীকার করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক শ্যামল কৃষ্ণ মণ্ডল বলেন, ‘চিকিৎসক–সংকটের বিষয়টি আমরা প্রতি মাসেই লিখিতভাবে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাচ্ছি। তাঁরা আশ্বাস দিচ্ছেন। কিন্তু ফল পাচ্ছি না।’

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি