২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৭:১৬ পিএম
আপডেট: ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৭:১৭ পিএম

‘স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও জেন্ডার বান্ধব নয়’

‘স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও জেন্ডার বান্ধব নয়’

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশের সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলো এখনও জেন্ডার বান্ধব নয়। পুরুষ ও নারীদের সেবার চাহিদা ভিন্ন, কিন্তু অনেক হাসপাতালেই পৃথক ওষুধের কাউন্টার নেই, পৃথক টয়লেটের ব্যবস্থাও ভালো নয়। এমনকি জরুরি কক্ষে, ওয়ার্ডে, ওয়েটিং রুমে, ব্রেস্টফিডিং কর্নারে রোগীর গোপনীয়তা রক্ষা করে পর্যাপ্ত সেবা প্রদান ব্যবস্থা অপ্রতুল। আর এমন অবস্থা থেকে উত্তরণের জন্য মানসিকতার পরিবর্তন খুবই জরুরি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশ (আইসিডিডিআর, বি) ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএসএমএমইউ) যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত ‘স্বাস্থ্যসেবায় জেন্ডার বান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতকরণ’ শীর্ষক ক্যাফে সায়েন্টিফিক সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন।

বিএসএমএমইউ থেকে সহযোগী অধ্যাপক ডা. ফারিহা হাসিন স্বাস্থ্য সেবাকেন্দ্রগুলোতে জেন্ডার-বান্ধব পরিবেশ নিয়ে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার এসডিজি ৩ (স্বাস্থ্য) এবং এসডিজি ৫ (জেন্ডার) অর্জনে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। সরকার জেন্ডার বিষয়ক বিভিন্ন নীতিমালা, আইন, কৌশল এবং কর্মপরিকল্পনা গ্রহন করেছেন, যেমন জেন্ডার ইকুইটি স্ট্র্যাটেজী, জেন্ডার ইকুইটি অ্যাকশন প্ল্যান ইত্যাদি। তবে আমাদের স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলির সেবা এখনও পুরোপুরি জেন্ডার-বান্ধব নয়।

আলোচকরা বলেন, পুরুষ ও নারীদের জেন্ডার ভিত্তিক সেবার চাহিদা ভিন্ন, অনেক হাসপাতালে পৃথক ওষুধের কাউন্টার নেই, ইমার্জেন্সিরুমে, ওয়ার্ডে, ওয়েটিংরুমে রুগীর গোপনীয়তা রক্ষা করে পর্যাপ্ত সেবা প্রদান ব্যবস্থা অপ্রতুল এবং নারী-পুরুষের জন্য পৃথক ওয়াশরুমেরও অভাব আছে, এমনকি ব্রেস্টফিডিং কর্ণারেরও অভাব রয়েছে। ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য অপ্রতুল স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে। নার্সিং পেশায় এবং মেডিকেল এডুকেশনে নারীদের সংখ্যা দিনদিন বাড়ছে, তবে পর্যাপ্ত সুরক্ষার অভাবে নারী চিকিৎসকরা উপজিলায় কাজ করতে আগ্রহ বোধ করছেন না, সর্বোপরি স্বাস্থ্য প্রদানকারী ও রোগীরা জেন্ডার-বান্ধব স্বাস্থ্য সেবা ও তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন নয়।

এই সমস্যাগুলি সমাধানে আলোচকগণ সুনির্দিষ্ট পরামর্শ দেন। তারা বলেন, স্বাস্থ্য প্রদানকারী ও রোগী  উভয়েরই জেন্ডার বিষয়ে সঠিক ধারনা থাকতে হবে, প্রত্যেকটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রে জেন্ডার পলিসি থাকা প্রয়োজন যা কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং পর্যবেক্ষণ করা হবে ও একই সাথে জেন্ডার সমতা নিয়ে সংবেদনশীলতা তৈরিতে মিডিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

ডা. ফারজানা নুসরাতের সঞ্চালনায় আলোচনায় সভায় অংশ নেন বিএসএমএমইউয়ের অধ্যাপক ডা. লায়লা আরজুমান বানু, সহযোগী অধ্যাপক ডা. শিউলি চৌধুরী, সহযোগী অধ্যাপক ডা. মো. খালেকুজ্জামান, ডা. সাকি খন্দকার, সহযোগী অধ্যাপক মো. হারুন-উর-রশিদ, বিউটি সিকদার, তানিয়া আখতার ; আইসিডিডিআর,বি-র বিজ্ঞানী ডা. ইকবাল আনোয়ার, ডা. এম মুশতাক হুসেন, ডা. সোহানা শফিক, ডা. শাহেদ হুসেন,  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সহকারী অধ্যাপক হাবিবা রহমান, আইপিপিএফ থেকে ডা. সানজিদা হাসান প্রমুখ।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত