ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

ডা. সাদেকুল ইসলাম তালুকদার

বিভাগীয় প্রধান, প্যাথলজি,

শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ।


২৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০৩:৪৫ পিএম

মুখের ক্যান্সার: লক্ষণ ও তার প্রতিকার

মুখের ক্যান্সার: লক্ষণ ও তার প্রতিকার

মুখের ভিতরের ক্যান্সার হয় সাধারণত বয়স্ক মানুষের। বেশ কিছু উপসর্গ আছে যা থেকে মুখের ক্যান্সার সম্পর্কে আগাম সতর্কতা নেওয়া সম্ভব। মুখের ক্যান্সারের প্রাথমিক উপসর্গগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক। তবে এই উপসর্গগুলো থাকলেই কিন্তু ক্যান্সার না। সাধারণত এই ক্যান্সার হলে এই উপসর্গগুলা পাওয়া যায়। যেমন-

১. গালে বা গলার কোনও অংশ ফুলে যাওয়া যা বাইরে থেকে দেখেও বোঝা যাচ্ছে, কিন্তু কোনও ব্যথা নেই বললেই চলে।

২. মুখের ভেতরে কোনও ব্যথা-বেদনাহীন ফোলা অংশ, যা ক্রমশ বাড়ছে।

৩. ঠোঁটের ভেতরের কোনও ঘা, যা ওষুধ খেয়েও সারছে না।

৪. মুখের মধ্যে কোনও লালচে বা সাদাটে খসখসে ছোপ পড়লে।

৫. জিহবায় লাল বা সাদা ছোপ পড়লে।

৬. চিবুকের দুইপাশে ও গলার লিম্ফ গ্ল্যান্ড ফুলে উঠলে (ইলট হলে)।

৭. জিহবা নাড়াতে অসুবিধা হলে বা কথা বলারও সমস্যা হলে।

৮. মুখ হাঁ করতে বা মুখ খুলতে সমস্যা হলে।

এই লক্ষণগুলো লক্ষ্য করলে দ্রুত নাক-কান-গলা রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিতে হবে।

বিশেষজ্ঞ ডাক্তার মুখের ভিতর পরীক্ষা করে সম্ভাব্য ক্যান্সারের স্থান বের করবেন। সেখান থেকে সামান্য একটু অংশ কেটে বা ছিড়ে নিয়ে ছোট একটা শিশিতে ১০% ফরমালিনে ডুবিয়ে হিস্টোপ্যাথলজি (বায়োপ্সি) পরীক্ষা করে রোগ নির্নয়ের জন্য প্যাথলজি বিশেষজ্ঞের নিকট পাঠিয়ে দেবেন। ক্যান্সার হয়ে গেলে ক্যান্সার রোগ বিশেষজ্ঞ দিয়ে চিকিৎসা করাবেন। ঠিকমতো চিকিৎসা করালে অধিকাংশ মুখের ক্যান্সার ভালো হয়।

খুব বেশি মাত্রায় তামাকজাত দ্রব্য (জর্দা, সাদাপাতা, গুল) সেবন করলে এমন ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়তে পারে। ধুমপায়ীদেরও মুখের ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। কাজেই, তামাক জর্দা খাওয়ার বদ অভ্যাস ত্যাগ করা এবং ধুম পান না করা উচিৎ এই মরনব্যাধি ক্যান্সারের ঝুঁকি থেকে রক্ষা পেতে।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত