২৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০৫:২৬ পিএম

বগুড়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা দুই চিকিৎসক মুক্ত 

বগুড়ায় পুলিশ হেফাজতে থাকা দুই চিকিৎসক মুক্ত 

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বগুড়া ডক্টরস ক্লিনিক ইউনিট-২ এ তাওহিদ হাসান (৯) নামে এক শিশুর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ হেফাজতে থাকা শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নাক, কান, গলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান ডা. সাইদুজ্জামান ও অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. নিতাই চন্দ্রকে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর শুক্রবার দুপুরে তাদের ছেড়ে দেওয়া হয়। 

পুলিশ জানিয়েছে, একটি শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এ সময় ভুল চিকিৎসার অভিযোগ তুলে নিহতের ক্ষুব্ধ স্বজনেরা ক্লিনিকে হামলার পাশাপাশি চিকিৎসকদের ওপর আক্রমণের চেষ্টা চালায়। এ অবস্থায় নিরাপত্তাজনিত কারণে ইএনটি সার্জন এবং অ্যানেসথেশিয়া বিশেষজ্ঞকে হেফাজতে নেওয়া হয়। 

খবর পেয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) বগুড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক, বগুড়া মেডিকেল কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. রেজাউল আলম জুয়েল থানায় গিয়ে বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নেন কেন্দ্রীয় বিএমএ সহ-সভাপতি ও বগুড়া শাখার সভাপতি ডা. মোস্তফা আলম নান্নু। তাদের হস্তক্ষেপে খুব কম সময়ের মধ্যে বিষয়টি মীমাংসা হয়।

তারা জানান, এ বিষয়ে রোগীর লোকজনের পক্ষ থেকে কোনো মামলা হয়নি এবং চিকিৎসককে গ্রেপ্তারের তথ্যটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।

অ্যানেস্থেশিয়া বিশেষজ্ঞ ডা. নিতাই চন্দ্র জানান, শিশুটির এডেনয়েড টনসিল অপারেশন করা হয়েছিল, যেটা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ছিল। এবং অ্যানেস্থেশিয়াও স্বাভাবিকভাবেই হয়েছিলো। অর্থাৎ অপরেশন এবং অ্যানেসথেশিয়াজনিত কোনো জটিলতা হয়নি। অপারেশন পরবর্তী সময়ে শিশুর সঙ্গে তার বাবাও ছিল। সুতরাং অপারেশনের সময় মৃত্যু হওয়ার অভিযোগটি সম্পূর্ণ বানোয়াট। শিশুটি খুবই মোটা হওয়ায় স্থুলতাজনিত শ্বাসকষ্টের কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। 

তিনি বলেন, রোগীর লোকজনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিষয়টির সন্তোষজনক মীমাংসা হওয়ায় এখানেই এ নিয়ে যে কোনো ধরনের সমালোচনার পরিসমাপ্তি হয়েছে। 

বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে শহরের ঠনঠনিয়া এলাকায় ডক্টরস ক্লিনিকে তাওহিদ হাসান নামের ওই শিশুর টনসিলে অস্ত্রোপচার হয়। ঘণ্টা তিনেক পর তাকে মৃত ঘোষণা করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এ অবস্থায় ভুল চিকিৎসায় শিশুটির মৃত্যু হয়েছে—অভিযোগে হাসপাতালে বিক্ষোভ শুরু করে স্বজনেরা। এ সময় চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালাতে উদ্যত হয়। 

খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ। এ সময় নিরাপত্তাজনিত কারণে দুই চিকিৎসককে পুলিশ হেফাজতে নেয়।

শিশুর পিতা ফিরোজুল ইসলামের জানান, টনসিলে ব্যথার কারণে তার ছেলেকে বৃহস্পতিবার ওই হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সাইদুজ্জামানের তত্ত্বাবধানে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে শিশুটির অস্ত্রোপচার করেন চিকিৎসক। অপারেশন শেষে দুই ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও শিশুটির জ্ঞান না ফেরায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন স্বজনরা।

তার অভিযোগ ভুল চিকিৎসার কারণে সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। 

মেডিভয়েসকে বিশেষ সাক্ষাৎকারে পরিচালক

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শতাধিক করোনা বেড ফাঁকা

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি
জাতীয় ওষুধনীতি-২০১৬’ এর খসড়ার নীতিগত অনুমোদন

নিবন্ধনহীন ওষুধ লিখলে চিকিৎসকের শাস্তি