ডা. বাহারুল আলম

ডা. বাহারুল আলম

প্রখ্যাত পেশাজীবী নেতা


২৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:৫৭ এএম

চিকিৎসক ‘মাইর’ খেলে কার কী আসে যায়?

চিকিৎসক ‘মাইর’ খেলে কার কী আসে যায়?

চিকিৎসক কর্মস্থলে ‘মাইর’ খেলে ‘কার কি আসে যায়?’ -এ সংবাদ শুনে কোন চিকিৎসক ছুটে যায় হাসপাতালে অপারেশনে দেরি হয়ে যাচ্ছে, কেউ ওয়ার্ডে রাউন্ড দেয়, খরর শুনে কেউ গম্ভীর হয়ে রোগী দেখতে থাকে। বহির্বিভাগে তরুণ চিকিৎসক একজন আরেকজনকে বলে- ‘এই শুনেছিস গতকাল বাংলাদেশে জোড়া মাইর হয়েছে বেলকুচি ও বিশ্বম্ভরপুরে’।

দুই উপজেলার জেলা সিভিল সার্জন তখন ভিডিও কনফারেন্সে মহাপরিচালকে বোঝাতে ব্যস্ত– ‘তার জেলায় কোথাও কোন সমস্যা নাই’।

অধ্যাপক শুনে হনহন করে ঢুকে পড়ে লেকচার গ্যালারীতে ক্লাস নিতে! পরিচালক তার কক্ষে বসা সিনিয়র জুনিয়র চিকিৎসককে বলে– ‘পাবলিকের সাথে একটু ভাল ব্যবহার করো, সাবধানে থেক’। অন্য হেলথ কমপ্লেক্সের চিকিৎসকরা উচ্চারণ করে– ‘কাল আমাদের ভাগ্যেও এরূপ ঘটতে পারে আউটডোরে অনেক রোগী চল রোগী দেখি’।

এদিকে, মহাপরিচালক ও তার দপ্তর মন্ত্রী বা সচিবের প্রটোকল নিয়ে ‘মহাব্যস্ত’। মাইরের খবর শুনে সিভিল সার্জন ইউএইচএফপিওকে বলে– ‘যেভাবে পার ম্যানেজ করে নাও’। জেলার পুলিশ সুপার শুনে বলে– ‘এরা (চিকিৎসক) কিছুই করতে পারে না, কেবল মাইর খায় আর সব ঝামেলা এসে পড়ে পুলিশের উপর’।
আর ওসি বলে– ‘যারা মেরেছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা নিলে আমার চাকরী নিয়ে টানাটানি পড়বে, তার চেয়ে মিটিয়ে ফেললে ভাল হয়’।

পেশাজীবী সংগঠনের নেতারা দপ্তর সম্পাদককে বলে– ‘ঘটনার নিন্দা জানিয়ে ও অপরাধীর শাস্তি দাবী করে দ্রুত পত্রিকায় একটি বিবৃতি দাও’। এলাকার সংসদ সদস্য শুনে বলে– ‘আমি আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করো, মিটিয়ে দেব’। স্বাস্থ্য বিষয়ক মন্ত্রী ঘটনা শুনে একেবারেই নির্বিকার- বিভিন্ন জেলার দর্শনার্থী এমপিদের সাথে বসে গল্প করে।

এহেন পরিস্থিতিতে চিকিৎসক ও তাদের সংগঠন যদি বিশ্বাস করে– ‘কর্মস্থলের নিরাপত্তা চিকিৎসকের অধিকার’ –তাহলে এই অধিকার তাদেরই ছিনিয়ে আনতে হবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে। সেজন্য প্রয়োজন আন্দোলন। আন্দোলন ছাড়া ৩য় বিশ্বে বাংলাদেশ রাষ্ট্রের জন্ম হয়নি। বঙ্গবন্ধু সারাজীবনই আন্দোলন করেছেন, কখনও আপোষ করেননি।

সেই চেতনায় তরুণদের এগিয়ে আসা প্রয়োজন। কবির ভাষায়- এখন যৌবন যার, মিছিলে যাওয়ার তার শ্রেষ্ঠ সময়। রাজপথ থেকে রাজপ্রাসাদ– সর্বত্রই রোগীদের সুচিকিৎসা ও চিকিৎসকদের নিরাপদ কর্মস্থলের প্রয়োজনে আন্দোলন সংগ্রাম ও ঘুরে দাঁড়ানো প্রয়োজন। আর কত মাইর খাবে চিকিৎসকরা?

চিকিৎসক লাঞ্ছনায় সন্ত্রাসীর বিচার হওয়া আর কর্মস্থলের নিরাপত্তা এক নয়। আমাদের ক্রিকেটারদের অধিকার আদায়ের দু’দিনের আন্দোলন ও তাদের অর্জন চিকিৎসকদের জন্য অনুস্মরনীয় ও অনুকরণীয় হয়ে থাকবে। নিকট অতীতে ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কর্মস্থলের নিরাপত্তার প্রশ্নে তরুণ চিকিৎসকদের যে সফল আন্দোলন হয়ে গেল, সে আন্দোলনের সফলতায় আমরা উত্তপ্ত হইনি, জেগে উঠিনি। অথচ সংকট একই।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত
তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা
পিতাকে নিয়ে ছেলে সাদি আব্দুল্লাহ’র আবেগঘন লেখা

তুমি সবার প্রফেসর আবদুল্লাহ স্যার, আমার চির লোভহীন, চির সাধারণ বাবা

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 
কিডনি পাথরের ঝুঁকি বাড়ায় নিয়মিত অ্যান্টাসিড সেবন 

বেশিদিন ওমিপ্রাজল খেলে হাড় ক্ষয়ের ঝুঁকি বাড়ে 

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না
জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের সিসিউতে ভয়ানক কয়েক ঘন্টা

ডাক্তার-নার্সদের অক্লান্ত পরিশ্রমের কথা মিডিয়ায় আসে না