ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

ডা. মুহাম্মাদ সাঈদ এনাম ওয়ালিদ

চিকিৎসক, মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কলামিস্ট, জনস্বাস্থ্য গবেষক।


২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:৩৯ পিএম
আপডেট: ২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:৪১ পিএম

চিকিৎসা পেশার মহামানব-মানবীদেরও মানসিক রোগ!

চিকিৎসা পেশার মহামানব-মানবীদেরও মানসিক রোগ!

চিকিৎসক মশায় যেহেতু দেবতা নন, মানুষ' সুতরাং তিনিও মানসিক বিকারগ্রস্ততার উর্ধ্বে নন। সাধারণ মানুষের মতো চিকিৎসদেরও মানসিক রোগ হয়।  দাঁড়ান দাঁড়ান মশায়, বিষয়টি জেনে আমার উপর তেলে বেগুনে জ্বলে উঠার কারণ নেই।  আসুন গবেষণার আলোকে কথা বলি।

সময়ের দাবিতে বিভিন্ন গবেষণায় এ বিষয়টি উঠে এসেছে।  গবেষণা করেছেন খোদ বিজ্ঞ চিকিৎসকরাই। শুধু তাই নয়, আতকে ওঠার বিষয় হলো চিকিৎসকদের মধ্যে মানসিক রোগ সাধারণ মানুষের চেয়ে শতকরা ১০ থেকে ৩০ ভাগ বেশি।

চিকিৎসকদের মধ্যে যে কয়টি মানসিক রোগ সাধারণ মানুষ থেকে বেশি দেখা গিয়েছে, তার মধ্যে প্রধান এনজাইটি ডিসওর্ডার, ডিপ্রেশন, ড্রাগ এডিকশন, মাদকাসক্তি,  প্রেস্ক্রিপশন মিস ইউজ, সুইসাইড ইত্যাদি। 

আচ্ছা, কারো আইডিয়া আছে যে চিকিৎসকদের মধ্যে সুইসাইড রেইট কেমন? কি মনে হয়?
 
জানলে অবাক হবেন চিকিৎসক বা চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে সুইসাইড আইডিয়া, সুইসাইড এটেম বা সুইসাইড রেইট সাধারণ মানুষের চেয়ে অনেক অনেক গুন বেশি। 

লন্ডনের এক গবেষণায় দেখা গেছে, শতকরা ১০ থেকে ২০ ভাগ চিকিৎসক বা চিকিৎসাবিদ্যার ছাত্ররা কোননা কোন সময়ে ডিপ্রেশনে ভুগে এবং তারা সুইসাইডের কথা চিন্তা করেন এবং করেন। বলিহারি, এতো এতো সুযোগ সুবিধা সম্মৃদ্ধ দেশে এমন...! বাংলাদেশের কেমন...? থাক বললাম না। স্কিপ করলাম। 

এবার আসি অপার সুখ আর সম্ভাবনার দেশ কানাডা ও সুইজারল্যান্ডের গবেষণায়। তাদের গবেষণায় দেখা গেছে যে, শতকরা ৮০ ভাগ চিকিৎসকই এই পেশার প্রতি বিতৃষ্ণা পোষণ করেন কোন এক সময়।

প্রবল প্রতাপশালী দেশ আমেরিকান গবেষণায় গবেষণা উঠে এসেছে, চিকিৎসকদের মধ্যে সুইসাইড রেইট সাধারণ এর চেয়ে বেশি এবং ড্রাগ এব্যুজ প্রায় সাধারণ মানুষের মতই।

নিউজিল্যান্ড এতো সুন্দর দেশ। আহা, সোশ্যাল এডভান্টেজ অনেক অনেক সমৃদ্ধ। চিকিৎসকদের স্ট্যাটাস আকাশচুম্বী। তারপরও চিকিৎসক দের মধ্যে ডিপ্রেশন, এনজাইটি, ড্রাগ এব্যুজ সাধারণ জনগন এর চেয়ে ৩ গুন বেশি।

কি ব্যাপার, ভয়ে চুপসে গেলেন? 

জানেন এসবের কারণ কি? এর প্রধান কারণ মানসিক রোগকে চিকিৎসকরা অবজ্ঞা অবহেলা করেন, সাইকিয়াট্রিস্টের শরণাপন্ন হতে কার্পণ্য করেন। আরো অনেক রিস্ক ফ্যাক্টর আছে। যেমন- প্রচন্ড পরিশ্রমের তুলনায় প্রাপ্তিটা খানিকটা কম, এটাও একটা রিস্ক ফ্যাক্টর।

চাঞ্চল্যকর একটি তথ্য দেই। চিকিৎসকদের মধ্যে এডজাস্টমেন্ট ডিসওর্ডার কিন্তু খুব বেশী এবং ডিভোর্স সাধারণ মানুষের তুলনায় অনেক অনেক গুণ বেশী।

এবার আসি আমাদের নিজ দেশে। আমাদের দেশে কি চিকিৎসকদের মধ্যে মানসিক রোগ আছে? থাকলে কেমন? কি পর্যায়ে আছে? বিষয়টি নিয়ে কোন গবেষণা হয়নি। এবং এ নিয়ে গবেষণা করার দুঃসাহস বা বুকের পাঠা কারো হয়নি। সুতরাং বুঝতেই পারছেন অবস্থা কি পরিমান ভয়াবহ হতে পারে.....!

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত