২২ অক্টোবর, ২০১৯ ১২:৫৭ পিএম

পশ্চিমবঙ্গে আট বছরে স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বেড়েছে তিনগুণ

পশ্চিমবঙ্গে আট বছরে স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বেড়েছে তিনগুণ

মেডিভয়েস ডেস্ক: স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়নে বিগত আট বছরে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে বিশেষ প্রকল্পের আওতায় দরিদ্র জনগোষ্ঠীর মানুষদের জন্য বিনামূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে বাড়ানো হয়েছে হাসপাতাল, চিকিৎসক ও নার্সের সংখ্যা। রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে গড়ে উঠেছে ন্যায্য মূল্যের ওষুধের দোকান।

স্বাস্থ্যে বরাদ্দ বাড়লো  

সূত্রে জানা গেছে, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে স্বাস্থ্যে খাতে বরাদ্দ ক্রমেই কমছে। তবে পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্য চলছে অনেকটা স্রোতের বিপরীতে। তৃণমূল সরকার পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গে স্বাস্থ্যে খাতে বরাদ্দ বেড়েছে প্রায় তিনগুণ। সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের একটি ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে জানা গেছে, ২০১০-১১ সালে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ ছিল ৩ হাজার ৫৮৪ কোটি টাকা, যা ২০১৯-২০ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৫৫৭ কোটি টাকায়।

বেড়েছে চিকিৎসক

ওই ওয়েবসাইটে প্রকাশিত তথ্যে আরও জানা গেছে, রাজ্যে ডাক্তারদের সংখ্যাও অনেকাংশে বেড়েছে। ২০১১ সালে যেখানে ডাক্তারদের সংখ্যা ছিল ৪ হাজার ৮০০ জন, চলতি বছরে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৭০০ জনে। ওই তথ্যে বলা হয়, রাজ্যে নার্সের সংখ্যা ৩৭ হাজার থেকে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫২ হাজার ৮৫০ জন।

বেড়েছে হাসপাতালের সংখ্যা

স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরির দিকে নজর দিয়েছে রাজ্য সরকার। ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, গোটা রাজ্যে এই মুহূর্তে ৪২টি মাল্টি সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল রয়েছে। পাশাপাশি ৬ হাজার ৪৮৩ জন প্যারা-মেডিকেল কর্মী ও প্রায় ৩০ হাজার চিকিৎসা সহায়ক কর্মীও রয়েছে। এমনকি রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোতে নার্স সংখ্যাবৃদ্ধির লক্ষ্যে ইতিমধ্যেই ২৭টি বেসরকারি নার্সিং ট্রেনিং স্কুলের জন্য টেন্ডার ডাকা হয়েছে।

কমেছে নবজাতকের মৃত্যু

উত্তরপ্রদেশসহ অন্যান্য রাজ্যে শিশু মৃত্যুর হার নিয়ে যখন আতঙ্কে দেশবাসী, তখন নবজাতক শিশু ও প্রসূতি মায়ের মৃত্যুর হার রোধে পশ্চিমবঙ্গ বাংলা অন্যান্য রাজ্যগুলোকে টেক্কা দিয়েছে বলে দাবি তৃণমূলের। শিশুদের টিকা দানের ক্ষেত্রে প্রভূত উন্নতি হয়েছে এখানে।

স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধি

বিশেষ রিপোর্টে দাবি করা হয়, রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলোতে অসুস্থ শিশুদের জন্য আলাদাভাবে বিশেষ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) ইউনিট খোলা হয়েছে। রোগীর শয্যা সংখ্যা বাড়ানোর পাশাপাশি একাধিক হাসপাতালে খোলা হয়েছে নতুন ট্রমা কেয়ার ইউনিট। স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের সাড়ে সাত কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষিত করেছে।

প্রত্যন্ত অঞ্চলে স্বাস্থ্যসেবায় জোর

প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চিকিৎসা সেবায় রাজ্যের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের কৃতিত্বের পর অস্ট্রেলিয়া সরকার ভারতের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করতে আগ্রহ দেখিয়েছে। দেশের প্রত্যন্ত গ্রামীণ এলাকাগুলোতে বিকল্প ওষুধের ব্যবস্থা করা থেকে শুরু করে দীর্ঘস্থায়ী রোগের সমাধান ও সংকট-কালীন রোগ মোকাবিলায় দেশজুড়ে উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে আশাবাদী তারা।

 

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত