ডা. শরীফ উদ্দিন

ডা. শরীফ উদ্দিন

রেসিডেন্ট, বিএসএমএমইউ

 

 


২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০৮:৩১ পিএম
আপডেট: ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০৯:৩৭ পিএম

সাব-স্পেশালিটিতে এফসিপিএস: জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্য

সাব-স্পেশালিটিতে এফসিপিএস: জেনে নিন প্রয়োজনীয় তথ্য

বিসিপিএস কর্তৃক প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা প্রদানের ঘোষণা দেয়ার পর অনেকেই আবার এফসিপিএসের দিকে ঝুঁকছেন। বিশেষ করে রেসিডেন্সি পরীক্ষায় কোর্স আউটের হার বাড়ায়, সরকারি চিকিৎসকদের ছুটি কেন্দ্রিক নানা জটিলতা থাকায় আবার এফসিপিএস জনপ্রিয়তা পাওয়ার একটা সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। কিন্তু যারা ব্রাঞ্চ বা সাব-স্পেশালিটিতে এফসিপিএস করতে চান, তাদের অনেকেই উপযুক্ত তথ্যের অভাবে নানা ধরনের কনফিউশিনে থাকেন। তাদের জন্যেই এই লেখাটা।

ব্রাঞ্চ বা সাব-স্পেশালিটিগুলোতে এফসিপিএস পরীক্ষার নিয়ম কানুন নিয়ে কয়েকটি তথ্যঃ

১। পার্ট ওয়ান পরীক্ষা মাদার সাবজেক্ট (যেমনঃ সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি, পেডিয়েট্রিক্স) অথবা সরাসরি সাব-স্পেশালিটিতে দেয়া যায়। উভয় ক্ষেত্রে একই প্রশ্ন থাকে। আলাদা করে সাব-স্পেশালিটি রিলেটেড কোনো প্রশ্ন থাকেনা।

২। মাদার সাবজেক্ট থেকে সাব-স্পেশালিটিতে ১ বছরের মধ্যে কনভার্ট করা যাবে কিন্তু সাব-স্পেশালিটি থেকে মাদার সাবজেক্টে কনভার্ট করা যায়না। অর্থ্যাৎ কেউ সার্জারিতে পার্ট ওয়ান পাশ করা থাকলে ১ বছরের মধ্যে অর্থোপেডিক্সে কনভার্ট করতে পারবে কিন্তু অর্থোপেডিক্সে পার্ট ওয়ান করলে সার্জারি কিংবা অন্য সাব-স্পেশালিটিতে কনভার্ট করা যাবেনা। কনভার্ট করার জন্য বিসিপিএস অফিসে গিয়ে নির্দিষ্ট ফর্ম পূরন করে ১০০০টাকা সহ জমা দিতে হয়।

৩। এই জানুয়ারি থেকে এফসিপিএস ট্রেইনিং ৫ বছরের হলেও অনেক আগ থেকেই সাব-স্পেশালিটিতে ট্রেনিং ৫ বছর।

৪। প্রথম দুই বছর মাদার সাব্জেক্টে (যেমনঃ সার্জারি, মেডিসিন, গাইনি, পেডিইয়েট্রিক্স) ট্রেনিং করতে হবে। কেউ চাইলে এর মধ্যে ৬ মাস কোনো একটা ব্রাঞ্চে ট্রেনিং করতে পারেন। তবে যে সাব-স্পেশালিটিতে তিনি এফসিপিএস করছেন, সেই সাব্জেক্টের ট্রেনিং প্রথম দুই বছরে কাউন্ট হবেনা।

৫। দুই বছর মাদার সাবজেক্টে ট্রেনিং সম্পন্ন করার পর মাদার সাবজেক্টের উপর প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হয়। এই পরীক্ষার সিলেবাস এবং পদ্ধতি প্রায় এফসিপিএস ফাইনাল পার্ট(পার্ট টু) পরীক্ষার মতোই। কেবলমাত্র পার্থক্য হচ্ছে, এতে আলাদা করে টেবিল ভাইভা থাকেনা। অর্থ্যাৎ রিটেন, অসফি, শর্ট কেস, লং কেস থাকে।

৬। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করার সাব-স্পেশালিটিতে( যে সাবজেক্টে এফসিপিএস করা হচ্ছে) ৩ বছর ট্রেনিং সম্পন্ন করতে হবে। এরপর ফাইনাল পার্ট পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

৭। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় পাস করার পর ডিজার্টেশন শেষ করতে হয়। ডিজার্টেশন শেষ করা ছাড়া ফাইনাল পার্টে বসা যাবে না।

৮। কোন কোন সাব-স্পেশালিতিতে এফসিপিএস পরীক্ষা দেয়া যাবে এবং কোন কোন প্রতিষ্ঠানে ট্রেনিং কাউন্ট হবে, বিসিপিএসের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত দেয়া আছে।

৯। বিসিপিএসের নতুন নিয়ম অনুযায়ী পার্ট ওয়ান পাশ করার আগে মাদার সাবজেক্টে ১ বছর ট্রেনিং কাউন্ট হবে। পার্ট ওয়ান পাশ করার আগে ব্রাঞ্চে কোনো ট্রেনিং কাউন্ট হবে না।

১০। বিসিপিএসের নিয়ম অনুযায়ী মাদার সাবজেক্টগুলোর কোনো একটিতে ডিপ্লোমা করা থাকলে, সেই সাবজেক্টে এফসিপিএস ট্রেনিং ১ বছর কম করা লাগবে। যেমনঃ ডিসিএইচ করা থাকলে পেডিয়েট্রিক্সে, ডিজিও করা থাকলে গাইনিতে, ডিএলও করা থাকলে ইএনটিতে, ডিও করা থাকলে অফথ্যালমোলজিতে এফসিপিএস করার সময় ১ বছর ট্রেনিং কম করা লাগবে। কিন্তু সাব-স্পেশালিটিতেও এই নিয়ম কার্যকর হবে কিনা, এই ব্যাপারে বিসিপিএসে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। অন্তত বিসিপিএস অফিস থেকে এই ব্যাপারে কিছু জানাতে পারেননি। এই ব্যাপারে দ্রুত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে জানান তারা।

১১। মাদার সাবজেক্টে এফসিপিএস পাশ করেও সাব-স্পেশালিটিতে এফসিপিএস করা যাবে। সেক্ষেত্রে মাদার সাবজেক্টের আলাদা করে ট্রেনিং এবং প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করা লাগবেনা। বিসিপিএস বরাবর আবেদন করে রেজিস্ট্রেশন করে সংশ্লিষ্ট সাব-স্পেশালিটিতে ৩ বছর ট্রেনিং সম্পন্ন করে ফাইনাল পার্ট পরীক্ষায় বসতে হয়।

১২। নাক কান গলা, চক্ষু, এনেস্থেশিয়া, ডার্মাটোলজি, ফিজিক্যাল মেডিসিন, রেডিওথেরাপি, রেডিওলজি এগুলো কোনো সাব-স্পেশালিটি নয়, এগুলোতে মূল সাবজেক্টের নিয়মেই সব কিছু হবে।

যারা যারা এফসিপিএস সাব-স্পেশালিটিতে আসতে চান, তাদের জন্য শুভ কামনা। বিগত বছরগুলোতে বেশ কিছু চিকিৎসক সাব-স্পেশালিটিতে এফসিপিএস সম্পন্ন করেছেন। সুতরাং যারা যারা সাব-স্পেশালিটিতে এফসিপিএস দেয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন এবং সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তারা খুব ভুল সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, তা বলা উচিৎ হবে না।

সবার জন্য শুভকামনা।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত