ডা. মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান

ডা. মুহাম্মাদ আনিসুর রহমান

চিকিৎসক, প্রাবন্ধিক


২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:৩৭ পিএম
আপডেট: ২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:৪৮ পিএম

আসছে নিপাহ ভাইরাস, প্রতিরোধে করনীয় কী?

আসছে নিপাহ ভাইরাস, প্রতিরোধে করনীয় কী?

নিপাহ রোগ বলতে মূলত নিপাহ ভাইরাস সংক্রমণে সৃষ্ট লক্ষণসমূহকে বুঝায়৷ লক্ষণসমূহের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, প্রলাপ বকা, খিঁচুনি, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া ইত্যাদি৷ অনেক সময় কোনো লক্ষণ নাও দেখা দিতে পারে৷ এ রোগে মৃত্যু হার অনেক বেশি৷

নিপাহ ভাইরাস একটি Emerging Zoonotic ভাইরাস, যা পশু-পাখি থেকে মানুষে ছড়ায়। ভাইরাসটি মস্তিষ্ক বা শ্বসনতন্ত্রে প্রদাহ তৈরির মাধ্যমে মারাত্মক অসুস্থতার সৃষ্টি করে। এটি Henipavirus জেনাসের অন্তর্গত একটি ভাইরাস। নিপাহ ভাইরাসে এনসেফালাইটিস নামক মস্তিষ্কের প্রদাহজনিত রোগ হয়।

১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় সর্বপ্রথম নিপাহ ভাইরাস শনাক্ত করা হয়। ভাইরাসটি মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে শূকরের খামারে কাজ করা চাষীদের মাধ্যমে প্রথম ছড়িয়েছিল। আক্রান্ত শূকরের স্পর্শ, তাদের লালা ও সংক্রমিত মাংসের মাধ্যমে এর বিস্তার ঘটে। পরে রোগটি মানুষ থেকে মানুষে ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশে সর্বপ্রথম ২০০১ সালে মেহেরপুর জেলায় এই ভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সন্ধান পাওয়া যায়৷

বাংলাদেশে নিপাহ ভাইরাস ছড়ায় মূলত বাদুড়ের মাধ্যমে। বাংলাদেশে সাধারণত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিলের মধ্যে নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া যায়। এ সময়টাতে খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। আর বাদুড় গাছে বাঁধা হাঁড়ি থেকে রস খাওয়ার চেষ্টা করে এবং রসের হাড়িতে প্রস্রাব করে বলে ওই রসের সঙ্গে তাদের লালা ও মুত্র মিশে যায়। সেই বাদুড় নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে থাকলে এবং সেই কাঁচা রস খেলে মানুষের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়তে পারে এ ভাইরাস। আক্রান্ত মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে এ রোগ।

সরাসরি নিপাহ ভাইরাস নিরাময়ে কোনো ওষুধ বা প্রতিষেধক ভ্যাকসিন এখনও আবিষ্কার হয়নি৷ সুতরাং এই রোগে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহন করাই বর্তমানে রোগ থেকে বাঁচার একমাত্র পন্থা৷ নিপাহ ভাইরাস থেকে বাঁচতে নিম্নোক্ত বিষয়গুলো মেনে চলা উচিত৷

১) খেজুরের কাঁচা রস বা তাড়ি না খাওয়া৷

২) খেজুরের কাঁচা রসে ডুবিয়ে পিঠা বা অন্য খাবার না খাওয়া৷ রস ভালোভাবে টগবগিয়ে ফুটিয়ে বা গুড় বানিয়ে খাওয়া উচিত৷

৩) আধা খাওয়া ফল না খাওয়া৷ বাদুড়ের আধাখাওয়া ফল থেকে নিপাহ ছড়াতে পারে৷

৪) যে কোনো ফল ধুয়ে খাওয়া৷

৫) সাবান ব্যবহারে নিপাহ ভাইরাস মারা যায়৷ তাই সবধরনের ধোয়া-মোছার কাজে সাবান ব্যবহার করা উচিত৷

৬) নিপাহ ভাইরাস মানুষ থেকে মানুষে ছড়াতে পারে৷ তাই আক্রান্ত এলাকায় কারো মধ্যে এর লক্ষণসমূহ দেখা দিলে মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলতে হবে এবং দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করে চিকিৎসা নিতে হবে৷

নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ সাধারণত শীতকালে গাছ থেকে খেজুরের রস সংগ্রহ ও খাওয়া হয় সেই সময়ে হয়ে থাকে৷ এজন্য অক্টোবর মাস থেকেই সরকারি ও বেসরকারিভাবে ব্যাপক প্রচারের ব্যবস্থা করে সচেতনতা বৃদ্ধি করতে পারলে নিপাহ সংক্রমণ কমিয়ে আনা সম্ভব হতে পারে৷

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত