১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৭:৪৪ পিএম

বিটমির ন্যাশন্যাল অ্যাওয়ার্ড পেলেন ডা. এম এ করীম

বিটমির ন্যাশন্যাল অ্যাওয়ার্ড পেলেন ডা. এম এ করীম

মেডিভয়েস রিপোর্ট: বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব থাইরয়েড মেডিসিন অ্যান্ড ইমাজিং রিসার্চ (বিটমির) ন্যাশন্যাল অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন বাংলাদেশ এ্যাটোমিক এনার্জি কমিশনের প্রাক্তন চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ডা. এম এ করীম। বাংলাদেশে আল্ট্রাসোনোগ্রামের সূচনা এবং আল্ট্রাসোনোগ্রামের প্রসারে অসমান্ন্য অবদানের জন্য তাকে এ অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়েছে।

১৯ অক্টোবর (শনিবার) সকাল ১০ টায় দি থাইরয়েড সেন্টার লি. ও বিটমির আয়োজনে এক অনুষ্ঠানে ডা. এম এ করীমকে এ পুরস্কার তুলে দেন।

বিটমির এবং দি থাইরয়েড সেন্টার লিমিটেডের চেয়্যারম্যান অধ্যাপক ডা. এ. কে. এম ফজলুল বারীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের মেম্বার (বায়ো সাইন্স) অধ্যাপক ডা. মো: সানোয়ার হোসেন, ওজিএসবি’র সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী, বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্ট্রাসনোগ্রাফির প্রসিডেন্ট অধ্যাপক ডা. মিজানুল হাসান। এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন “আল্ট্রাসাউন্ড এন্ড কালার ডপলার ইন মেডিকেল সাইন্স” বইটির কনট্রিবিউটর অধ্যাপক ডা. নাসরীন সুলতানা, ডা. একেএম জহির আহমেদ এবং ডা. মোহিত-উল-আলম।

এসময় ডা. এম এ করীম বলেন, আমাদের দেশে আল্ট্রাসোনোগ্রাম সিস্টেম অনেক দূর এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশে বিটমিরসহ আরো অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদেরকে নতুন নতুন প্রযুক্তি শিক্ষা দিচ্ছে। শিক্ষার্থীদের উচিত এসব প্রতিষ্টান থেকে শিক্ষা নিয়ে নির্ভয়ে কাজ করা। ভূল মানুষের হতেই পারে, তাই বলে ভূলের ভয়ে বসে থাকলে হবে না। তবে আপনাদের অনেক বেশি সচেতনতার সাথে এই কাজগুলো করতে হবে। যদি কোন বিসয়ে আপনাদের কনফিউশন তৈরি হয়, তাহলে সিনিয়রদের জানাবেন। তাদের থেকে পরামর্শ নিবেন। কোন ক্রমেই ভূল রিপোর্ট তৈরি করবেন না।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে এম এ করীম বলেন, আপনারা যারা পড়াশোনা করছেন, ভালো কিছু করতে হলে অনেক বেশি পরিশ্রম করতে হবে। শুধু আল্লাহর কাছে চাইলে আল্লাহই আপনাকে উপরে তুলে দিবেন না, নিজেরও উপরে উঠার শক্তি থাকতে হবে। ডা. ফজলুল বারী, সে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল অব নিউক্লিয়ার মেডিসিন এন্ড অ্যালায়েড সায়েন্সের অধ্যাপক, একই সাথে তিনি বিটমির এবং দি থাইরয়েড সেন্টার লিমিটেডের চেয়্যারম্যান। সে নিজেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছে। আপনারাও চেষ্টা করেন, অনেকদূর যাওয়া সম্ভব।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ডা. মিজানুল হাসান বলেন, বিটমির চিকিৎসকদের আল্ট্রসাউন্ড প্রশিক্ষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য সেবায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে। সকল বিভাগের চিকিৎসকবৃন্দকে আল্ট্রাসনোগ্রাম শিক্ষা জরুরী। বিটমির যোগ্য প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশে আল্ট্রাসনোগ্রাম শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছে এবং তিনি আরও উল্লেখ করেন- বিটমির এর এই কাজের ধারাকে গতিশীল করতে বাংলাদেশ সোসাইটি অব আল্ট্রাসনোগ্রাফি স্বীকৃতি স্বরুপ বিটমিরকে তাদের এ্যাফিলেয়েশন প্রদান করেছেন।

বাংলাদেশ গাইনী এ্যান্ড অব্স সোসাইটির সাধারন সম্পাদক অধ্যাপক ডা. সালেহা বেগম চৌধুরী তার বক্তব্যে বাংলাদেশের মত জনবহুল দেশে বিশেষ করে প্রসুতি মায়েদের আল্ট্রাসনোগ্রাম পরীক্ষার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন এবং এ ব্যাপারে বিটমির এর অবদান সর্বজন স্বীকৃত আখ্যায়িত করেন।

উল্লেখ্য, চিকিৎসা ক্ষেত্রে বিশেষ অবদানের জন্য বিটমির তার নিজ উদ্যোগে গত ২০১৭ সাল থেকে “বিটমির ন্যাশন্যাল অ্যাওয়ার্ড” প্রদান করে আসছে। ২০১৭ সালে প্রসবজনিত মাতৃ মৃত্যুহার কমাতে বিশেষ পদ্ধতি উদ্ভাবনের জন্য প্রফেসর সায়েবা আক্তারকে এবং ২০১৮ সালে আল্ট্রাসাউন্ড জগতে বিশেষ অবদানের জন্য প্রফেসর ফৌজিয়া মোসলেমকে বিটমির ন্যাশন্যাল অ্যাওয়ার্ড প্রদান করা হয়। বরাবরের ন্যায় এ বছরেও বাংলাদেশে আল্ট্রাসনোগ্রাম এর উন্নয়ন ও এর আন্তর্জাতিককরণে বিশেষ অবদানের জন্য অধ্যাপক ডা. এমএ করিম স্যারকে বিটমির ন্যাশন্যাল অ্যাওয়ার্ড ২০১৯ প্রদান করা হয়।

  এই বিভাগের সর্বাধিক পঠিত